শুক্রবার, জুলাই ১৯

‘আলবিদা, আমায় খুব তাড়াতাড়ি মেরে ফেলা হবে’! ছেলের ভিডিও-বার্তার পরেই এসে পৌঁছল মৃত্যুর খবর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার সকালেই দিদির ফোনে একটি সেলফি ভিডিও পাঠিয়েছিল বছর উনিশের নেসিম। সেই ভিডিও-তে সে কাতর ভাবে ‘আলবিদা’ জানিয়েছিল তার দিদি এবং মাকে। আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল, তাকে মেরে ফেলা হবে! আরও জানিয়েছিল, তার শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়রা তাকে মেরে ঝুলিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনায় করছে।

কিন্তু তার পরেও আটকানো গেল না চরম বিপদ। নেসিমের সেই ভিডিও বার্তা আসার ঘন্টা তিনেকের মধ্যেই তার মৃত্যু সংবাদ এসে পৌছল তার চোপড়ার বাড়িতে! পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁদের কাছে খবর আসে, দিল্লিতে অবস্থিত সানলাইট থানা এলাকার সানলাইট কলোনিতে নেসিমের শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়দের বাড়ির পাশেই একটি নির্মীয়মাণ বিল্ডিংয়ে নেসিমের ঝুলন্ত দেহ পাওয়া গেছে।

খবর পেয়ে উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া থানার দ্বারস্থ হয়েছে নেসিমের পরিবার। নেসিমের বাবা ও মায়ের অভিযোগ, খুন করা হয়েছে তাঁদের ছেলেকে৷ তাঁদের দাবি, সদ্যবিবাহিত নেসিমের শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়রাই দিল্লিতে খুন করেছে তাঁদের ছেলেকে।

স্থানীয় সূত্রের খবর, চলতি মাসের ২১ তারিখে চোপড়া থানার ঝাড়বাড়ি এলাকার দশম শ্রেণীর ছাত্রী উমে সালমা স্কুলে যাওয়ার পরে বাড়ি ফেরেনি। এলাকায় খোঁজ শুরু হয় স্বাভাবিক ভাবেই। কানাঘুষো শোনা যায়, এলাকারই স্থানীয় যুবক নেসিমের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছে সালমা৷

নেসিম দার্জিলিংয়ে চাকরি করত। সেখানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাওয়া যাচ্ছে না নেসিমকেও। এর পরে সালমার পরিবার তাঁদের মেয়ের খোঁজে চতুর্দিকে খবর পাঠান। খোঁজ শুরু করে নেসিমের বাড়ির লোকেরাও। মঙ্গলবার সালমার দিল্লির আত্মীয়রা চোপড়ায় খবর দেয়, হরিয়ানাতে পাওয়া গেছে নেসিম ও সালমাকে।

ভিডিও কল করে দিদিকে আলবিদা জানায় নেসিম।

নেসিমের পরিবার জানিয়েছে, এর পরেই হরিয়ানা থেকে তাদের দিল্লিতে নিয়ে আসেন সালমার প্রভাবশালী আত্মীয়রা৷ এর পরে তাঁরা নেসিমের বাড়ির লোকজনের সঙ্গে ফোনে কথাও বলেন। দুই পরিবারে কথাবার্তা মাধ্যমে ঠিক হয়, নেসিমের পরিবার ৫০ হাজার টাকা দিলে দু’জনকে চোপড়ায় এনে বিয়ে দেওয়া হবে। সেই মতো নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে ৫০ হাজার টাকাও জমা করে নেসিমের পরিবার।

কিন্তু সব কিছু উল্টোপাল্টা করে দিল বৃহস্পতিবার সকালে নেসিমের পাঠানো ভিডিও বার্তা। তাতে শোনা যায়, নেসিম বলছে, “আমায় মাফ করে দাও, তোমরা অনেক দেরি করে ফেললে।” খুন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করে সে। কিন্তু ওইটুকু সময়ে আচমকা এমনটা ছেলের মুখে শুনে কী করবেন, ভেবে পাননি নেসিমের পরিবারের লোকজন। এর পরেই বেলা একটা নাগাদ নেসিমের মৃত্যু সংবাদ আসে।

Comments are closed.