রবিবার, মার্চ ২৪

আপেল থেকেও নানা বিপদ, জানতেন কি!

দ্য ওয়াল ব্যুরো : আমরা সকলেই শুনে এসেছি “An apple a day keeps the doctor away”। আপেল আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করে, বা ক্যানসার প্রতিরোধকারী কোয়ার্সিটিন অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও পাবেন আপেলে। যে কোয়ার্সিটিন অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কথা বলছি, তা আপনারা ব্রকোলি, পেঁয়াজ, চা, গোলমরিচে পেয়েই যাবেন। তাই শুধু কোয়ার্সিটিনের জন্য আপেলকে আঁকড়ে থাকতে হবে না। আসলে এই ফলের কিছু খারাপ দিকও আছে, যা আপনাকে ভাবতে বাধ্য করবে আপেল আর কিনবেন কি না! স্বাস্থ্যে হিতে বিপরীত হতে পারে কী কী করে?

আপেলের বীজ খেয়ে নিলে আপনার মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। না, একটা বা দুটো বীজেই এমন হবে তা নয়। বেশ কয়েকটা একসাথে চিবিয়ে খেলে বিপদ। এই বীজে থাকে অ্যামিগডালিন, আপনি বেশ কয়েকটা বীজ চিবিয়ে খেলে তা থেকে সায়নায়েডের মতো বিষ তৈরী হতে পারে। যা আপনার শরীরে অক্সিজেন সাপ্লাইয়ে বাধা দিয়ে সহজেই এক থেকে দেড় মিনিটে মৃত্যু নিশ্চিত করতে পারে। আর একটা বা দুটোয় আপনার ঘুম ঘুম পাওয়া থেকে, স্টম্যাক ক্র্যাম্প, মাথাধরা, দুর্বল লাগা, বমি বমি ভাব ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতেই পারে। তবে আপেল খেতে খেতে তার বীজ গিলে ফেললে তা নিয়ে বিশেষ সমস্যা হবে না , কিন্তু চিবিয়ে ফেললেই বিপদ। তাই সামলে খান আপেল।

আপনার কখনও শ্বাসকষ্ট, আলসার, ইনফেকশনের সমস্যা হয়েছে? রিসার্চ বলছে এক্ষেত্রে আপেলের বীজই দায়ী। আপেলের গায়ে মোম থাকে প্রাকৃতিকভাবে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা নিজেদের স্বার্থেই বাজারে পাঠানোর আগে ওই মোম তুলে দেয়, বদলে সিন্থেটিক মোম লাগানো হয়। যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। অথচ বাজারের আপেল দেখে আপনি বুঝবেন না যে সেটা সিন্থেটিক মোম না নয়! তবে আপনি চাইলে বাজার থেকে কিনে আনা আপেল কিছুক্ষণ গরমজলে ভিজিয়ে রাখুন বা ঠাণ্ডা জলে কিছুক্ষণ ভালো করে ঘষে ধুয়ে নিন। কিম্বা লেবুর রস আর বেকিংসোডা দিয়ে ঘষে নিতে পারেন। আপেল সিডার ভিনিগারও এক্ষেত্রে আপনার কাজে আসতে পারে। তবে চকচকে আপেল বাজার থেকে কিনে এনেই দাঁত বসাবেন না।

আপেলে যে পরিমাণ কীটনাশক থাকে তা যে আপনার ক্ষতিই করে তা আলাদা করে বলার দরকার নেই। সমীক্ষা বলছে এক বছরে সবচেয়ে বেশি কীটনাশক পাওয়া যায় আপেলের বস্তাতেই। এই কীটনাশকগুলো ধুলেও যায় না, ফলে সমস্যা থেকেই যায়। তবে আজকাল যে অর্গানিক আপেল পাওয়া যায় তাতে এই সমস্যা কম থাকে। যদিও এগুলোর দাম অনেকটা বেশি হয়। অপরিশোধিত আপেলের রস বা আপেল সিডার ভিনিগারের ক্ষেত্রে এই কীটনাশক বিপজ্জনক হতে পারে।

অনেক আপেলের পানীয়তেই পাওয়া যায় E. coli এবং cryptosporidium। যা খাওয়ার পরে লোকেরা গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। অতএব শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী মহিলা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম যাদের তাদের পাস্তুরাইজড আপেল জুস পান করাই ভালো। যখন আপনি শুধুমাত্র ফলের পাস্তুরাইজড রসটা পান করেন আপনার শরীরে ফাইবার ছাড়াই ফলে থাকা চিনি সরাসরি যায়। তাই E.coli ,cryptosporidium শরীরে যায় না।


আপনি সাধারণত ওজন নিয়ে মাথা ঘামালে মাছ, মাংস, ফাস্টফুডের উপর থেকে নজর সরিয়ে ফলের উপর দেন। আপনি জানেন ফল আপনার অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করবে । কিন্তু আপেল এক্ষেত্রে আপনাকে মোটেও সাহায্য করে না। প্রচুর কার্বোহাইড্রেট থাকা এই ফলের কার্বোবাইড্রেট আপনার সুগার বাড়িয়ে দেবে না অবশ্যই তবে এটা আপনার ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করবে না। বরং অনেক ক্ষেত্রেই আপনার নিজের ওজন বেশি লাগতে পারে আপেলের জন্যই।

আপনার বা প্রিয়জনের অ্যালার্জি আছে? আপেল থেকে দূরে থাকুন। আপেলের গায়ের মোম আপনার অ্যালার্জি বাড়িয়ে দিতে পারে। হয়তো আগে সমস্যা হত না। আপেলের মোমে সালফার ডাই অক্সাইড থাকে যা বমি বমিভাব , গলা খুসখুস করা, মেজাজ হারানো ইত্যাদির কারণ হতে পারে। যদি আপেল খেতে খুব ভালোবাসেন তাহলে খোসা ছাড়িয়ে খান।

আদম-ইভের সঙ্গে যে ফলের সম্পর্ক তা থেকে আপনি যদি একান্তই দূরে থাকতে না চান, তবে তার বীজ না চিবিয়ে, খোসা ছাড়িয়ে বা ঠিকমতো পরিষ্কার করে খান । নিজেকে সুস্থ রাখার দায়িত্ব তো আপনারই।

Shares

Comments are closed.