বুধবার, মার্চ ২০

মন্ত্রীর বাড়িতে সিবিআই, সমালোচনা ছেড়ে বিজেপির সঙ্গে জোট বাঁধতে উদ্যোগী এডিএমকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কিছুদিন আগেও তামিলনাড়ুর শাসক দল এডিএমকে ছিল বিজেপির কট্টর বিরোধী। কিন্তু ভোটের আগে বিরোধিতা ছেড়ে বিজেপির সঙ্গেই নাকি জোট করতে চলেছে তারা। একটি সূত্রের খবর, বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ শীঘ্র এডিএমকে-র সঙ্গে জোটের কথা ঘোষণা করবেন। ১৯ ফেব্রুয়ারি কন্যাকুমারী গিয়ে এক জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

গতমাসে এডিএমকে-র মুখপাত্র সি পোন্নিয়ান বলেন, আমাদের দলের কর্মীরা বিজেপির সঙ্গে জোট চায় না। কারণ তারা মনে করে, প্রধানমন্ত্রী এই রাজ্যের জন্য বিশেষ কিছু করেননি। বিশেষত কাবেরী জল বিতর্কে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টতই কর্ণাটককে সুবিধা করে দিয়েছেন।

তাহলে এখন এডিএমকে-র মত বদলাল কেন?

একটি মহলের মতে, এডিএমকে কার্যত বিজেপির কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। গত কয়েক মাসে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী, মুখ্য সচিব ও পুলিশ প্রধানের বাড়িতে একের পর এক রেড করেছে সিবিআই এবং আয়কর দফতর। তারপরেই এডিএমকে বিরোধিতা ছেড়ে বিজেপির সঙ্গে জোট বাঁধতে রাজি হয়।

এডিএমকে-র তরফে বলা হয়, এনডিএ সরকার অন্তর্বর্তী বাজেটে গরিবদের জন্য অনেকগুলি ব্যবস্থা নিয়েছে। তা দেখেই মন বদলেছে তামিলনাড়ুর শাসক দলের। যদিও বাজেটের ঠিক পরেই এডিএমকে নেতা এম থাম্বিদুরাই বলেন, সরকার যদি সত্যিই গরিবদের ভালো করতে চাইত, তাহলে আগেই ব্যবস্থা নিতে পারত। এবারের বাজেটে ভোটের কথা ভেবে কয়েকটি প্রকল্প ঘোষণা করা আছে। এই বাজেটকে বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহার বলা যেতে পারে।

২০১৪ সালে জয়ললিতার নেতৃত্বে এডিএমকে তামিলনাড়ুতে ৩৭ টি আসন জিতেছিল। সেবারও বিজেপি জোটের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু জয়ললিতা এককথায় প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। বিজেপি সেবার এমডিএমকে, পিএমকে এবং ডিএমডিকে-র মতো ছোটখাটো দলের সঙ্গে জোট করেছিল। মাত্র দু’টি লোকসভা আসন পেয়েছিল দল।

তামিলনাড়ুতে লোকসভা আসনের সংখ্যা ৩৯। বিজেপি গত একবছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে এডিএমকে-র সঙ্গে হাত মিলিয়ে দক্ষিণের ওই রাজ্যে ভোটে লড়া যায়। তামিলনাড়ুতে বিজেপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ডিএমকে ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে, কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে নির্বাচনে লড়বে। ২০১৬ সালে জয়ললিতার মৃত্যুর পরে অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে এডিএমকে। দলের মধ্যে শুরু হয়েছে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। জয়ললিতার দীর্ঘদিনের সঙ্গী ভি কে শশীকলা বিদ্রোহ করেছেন। একসময় তিনি দলের শীর্ষস্থানটি দখল করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার পরেই তিনি দুর্নীতির অভিযোগে জেলবন্দি হন। তাঁর ভাইপো টি টি দীনাকরণ এএমএমকে নামে একটি পৃথক দল গঠন করেছেন। জয়ললিতার নির্বাচন কেন্দ্র আর কে নগরে উপনির্বাচনে জিতেও গিয়েছেন তিনি।

Shares

Comments are closed.