শুক্রবার, নভেম্বর ১৬

আমেরিকান, ইউরোপিয়ান না বিশুদ্ধ ভারতীয় বড়া পাও–বিশ্ব স্যান্ডউইচ দিবসে কোনটা খাবেন

মধুরিমা রায়

ওয়ার্ল্ড স্যান্ডউইচ ডে বলে কথা! তাই পারিপার্শ্বিক চাপে স্যান্ডউইচ না হয়ে মনের আনন্দে খান স্যান্ডউইচ।

নভেম্বরের ৩ তারিখ বিশ্ব স্যান্ডউইচ দিবস। তবে অন্যান্য দিনের মতো এই দিনের উৎস কীভাবে হলো তা কিন্তু অনেকেই জানেন না। শোনা যায়, উনবিংশ শতকে জন মন্টাগু নামে এক ব্যক্তি প্রথম দু’পিস পাঁউরুটির মাঝখানে মাংস রেখে খাওয়ার চল শুরু করেন। মন্টাগু ছিলেন জুয়াড়ি। তাই জুয়া খেলার সময় তার হাতে যাতে কোনোভাবেই খাওয়ার লেগে না থাকে সেই সুবিধার কথা মাথায় রেখেই তিনি এই বন্দোবস্ত করেন। কথিত আছে জুয়া খেলার সময় খাবার টেবিলে বসেই  খাবার বানাতেন যাতে খেলার মাঝে তাঁকে উঠতে না হয়। আর এখান থেকেই শুরু হয় এই স্য়ান্ডউইচ খাওয়ার চল।

বিশ্বে এই খাবারের কিন্তু ভ্যারাইটির অভাব নেই। দুনিয়ায় যত রকমের স্য়ান্ডউইচ পাওয়া যায় তার মধ্যে থেকে কয়েকটির রেসিপি রইলো আপনার জন্য়।

নর্থ আমেরিকান স্যান্ডউইচ

মাফ্ফালেট্টা স্যান্ডউইচ: ইতালির এই বিশেষ রাউন্ড রুটিতে স্যান্ডউইচ তৈরির জন্য জেনোয়া সালামি, মর্টেডেলা, কাটা হ্যাম, প্রোভোলন, মোজজারেল্লা এবং কপ্পা ব্যবহার করা হয়। জলপাই দিয়ে সাজানো এই স্যান্ডউইচ নিউ অর্লিন্স, লুইসিয়ানায় খুব জনপ্রিয়।

শ্রিম্প পো ‘বয়: এই নামেই বুঝতে পারছেন এতে জলের পোকা প্রাধান্য পায়। ফ্রায়েড চিংড়ি এই স্যান্ডউইচের প্রধান উপাদান।সঙ্গে থাকে রিমাউলড সস, টমেটোর বাহারি সাজগোজ। সমস্ত লুইসিয়ানা জুড়েই এই স্যান্ডউইচের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে।

গ্যাবর স্যান্ডউইচ: রসুন, মাখন, ফরাসি রুটি, হ্যাম, স্থানীয় সেন্টলুইস পনীর প্রভেলের সঙ্গে তৈরী এই স্যান্ডউইচ সেন্ট লুই, মিসৌরিতে খুবই জনপ্রিয় ছিল। তবে আজকাল সব জায়গায় এই স্যান্ডউইচ পাওয়া যায় না।

সেন্ট পল স্যান্ডউইচ: মিসৌরির চিনা রেস্তোরাঁয় গেলে সাদা রুটির স্যান্ডউইচে লেটুস, টমেটো, সাদা পেঁয়াজ সঙ্গে ডিম দিয়ে যে স্যান্ডউইচটা পাতে পাবেন তাতে জিভে জল আসবেই। চাইলে এর সঙ্গে বিফ, চিকেন, পর্ক ও চিংড়িও যোগ করতে পারেন।

ইউরোপীয়ান স্যান্ডউইচ

লেবরকস সেমেল: সমস্ত জার্মানি জুড়েই এই স্যান্ডউইচ পাবেন। এতে বেকন, বিফ, পর্ক এবং পেঁয়াজ দেওয়া থাকে। দেখতে রোলের মতো হলেও আসলে এটা স্যান্ডউইচই। তাই দেখে চমকে যাবেন না।

জাপিয়েকাঙ্কা: হাল্কা ভাজা মাশরুম, পেঁয়াজ এবং পনীর পাবেন এই স্যান্ডউইচে। হাল্কা ভাবে বেক করা হয় এ জাতীয় স্যান্ডউইচ।

পোরিলাইনেন: গোটা ফিনল্যন্ড জুড়েই প্রচলন রয়েছে এই স্যান্ডউইচের। এতে সাদা রুটির মাঝে পর্ক, সসেজ এবং নানা রকমের সব্জি দেওযা থাকে। মেয়োনিজ়, রসুন বা কেচাপ দিয়েই সাধারণত খাওয়া হয় এই স্যান্ডউইচ। আর এর স্বাদ এতটাই মুখে লেগে থাকার মতো যে একবার খেলে বারবার খাওয়ার বাসনা হয়।

এশিয়ান স্যান্ডউইচ:

বড়া পাও: মুম্বইয়ের বড়া পাও ইন্ডিয়ান স্ট্রিট ফুডের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয়। তবে নাম বড়া পাও হলেও সে তো আসলে স্যান্ডউইচই। এই স্যান্ডউইচে মূলত আলু ভরা থাকে দুটো পাঁউরুটির মাঝখানে। সঙ্গে থাকে বিভিন্ন চাটনি।

সাউথ আমেরিকান স্যান্ডউইচ

স্যাকারেরো: এই স্যান্ডউইচে পুর হিসেবে দেওয়া হয় গরুর মাংস। সঙ্গে থাকে পনীর এবং টমেটো। উপর থেকে মরিচ ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সবুজ মটরশুঁটি সঙ্গে কচি বাঁশও থাকে এই স্যান্ডউইচে। এটা চিলির একটি খুব জনপ্রিয় স্যান্ডউইচ।

বাউরু: মূলত এতে রোস্ট করা গরুর মাংস দেওয়া হয়। অনেকটা ফরাসি রোলের মতো হয়। এটি মোজারেলা, টমেটো, অরিগানো এবং গেরকিনস দিয়ে পরিবেশন করা হয়। ব্রাজিলের স্ট্রিট ফুডের মধ্যে এটি জনপ্রিয়।

আফ্রিকান স্যান্ডউইচ

দক্ষিণ আফ্রিকার গ্যাটসবি: লেটুস, কেচাপ এবং পিরি পিরি সস আপনার পছন্দের তো? দক্ষিণ আফ্রিকার গ্যাটসবি তা হলে খেতেই হবে আপনাকে। এই স্যান্ডউইচের উপরি পাওনা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই। পরিবেশন করা হয় রোলের আকারে।

বানি চাও: এই দক্ষিণ আফ্রিকান স্যান্ডউইচে ডিম, বেকন, সসেজ ব্যবহার করা হয়। আর থাকে বিভিন্ন শাকসব্জি।

পড়ে তো ফেললেন। এ বার খেয়েও ফেলুন। ওয়ার্ল্ড স্যান্ডউইচ ডে-তে পাতে রাখুন ইয়াম্মি একটা স্যান্ডউইচ।

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

Shares

Comments are closed.