মা, আমি তোমার কতখানি মেয়ে? নারী দিবসের আলোতেও যে উত্তর মেলে না আজও

আজও যখন কোনও মধ্যরাতে মেসেঞ্জারে ভিডিও কলের ঘন্টি বেজে উঠে বলে "একবারটি দেখাও", তখন জগৎটাকে বড় আপন বলে মনে হয়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    রানি মজুমদার

    লোকে বলত, দুটো আপেল নাকি জামার নীচে ঢুকিয়ে রেখেছি! কেউ বলত আলু! অবাক হতাম এটা ভেবে যে, কেউ জানেই না বাজারে ফোলা ফোলা স্পঞ্জওয়ালা ব্রাও পাওয়া যায়। একবার ট্রেনে করে কলকাতা থেকে ফিরছি। এক ছোকরার কাতর আবেদন, সে দেখতে চায় ওড়নার আড়ালেরটা অরজিনাল নাকি ফলস। সেই মুহূর্তে ট্রেনের ফুরফুরে জানলার ধারে আমার ভাবুক হাতে খোলা-বিভূতিভূষণ ! ছেলেটির স্পর্ধা আমায় মুগ্ধ করলো। রহস্যের সন্ধানের নামই তো বিজ্ঞান! ছোটবেলায় সেই রহস্যের উৎসমুখে গিয়ে কতবার দেখেছি অনেকেরই ফাঁপা ব্রায়ের ভেতর পুরোনো পেন্টি কিংবা ছেঁড়া তোয়ালে, আবার কখোনও বালিশের খোল গোল করে গোঁজা। মরদ শরীরে মেয়ে হওয়ার কী মারাত্মক প্রচেষ্টা!

    হবে নাই বা কেন? স্তন থাকুক বা না থাকুক আমি মেয়ে, এ কথা বললে পুরুষ মানবে? সমতল বুক তো পুরুষেরও হয়! মেয়ের কেন হবে সমতল বুক? কাজেই ছেলেটির আগ্রহও ‘স্বাভাবিক’ই।

    তবে আমার বুকের কুঁড়ি যেদিন সত্যি করে ফুল হয়ে ফুটল, সেদিন হৈচৈ বেঁধে গিয়েছিল শহরে। প্রতিযোগিতা চলল, আসল হলে তুই জিতবি, নকল হলে আমি। আজও যখন কোনও মধ্যরাতে মেসেঞ্জারে ভিডিও কলের ঘন্টি বেজে উঠে বলে “একবারটি দেখাও”, তখন জগৎটাকে বড় আপন বলে মনে হয়। সেই মেসেজের আড়ালের পুরুষটাকে লম্বা হাতে স্যালুট জানাতে মন চায়। আহা! দু’দিনের জীবনে বেচারার, শুধু একটু দেখতে চায়! বৈজ্ঞানিক কৌতূহলে নয়, এর পরে একা বাথরুমে বসে হস্তমৈথুনের ওপর কোনো কোর্স হয়তো সে কমপ্লিট করবে! পুরুষ কিছুক্ষঁ মোজা পরে থাকলে তা দুর্গন্ধ, আর নারীর ঘেমো বগলের গন্ধেও কি সুঘ্রাণ! এটাই তো পৃথিবী!

    গয়না পড়ে শাড়ি পড়ে নকল চুল বেঁধে হিজড়া পর্যন্ত হতে পেরেছি আমরা, কিন্তু মেয়ে হতে পারিনি। মেয়ে হওয়া যায় না, মা গো! তোমার আদরের রাজকুমারের ওড়নায় আজ কত পুরুষের বীর্য মোছার দাগ! কন্ডোমের মিষ্টি গন্ধ প্রতিটি হা-হুতাশে! আর কত ক্ষত তৈরি হলে পুরুষ তুমি প্যান্ট পরবে? আর কত অন্ধকার পার হলে আমার শীৎকার থামবে? যৌনতায় আমি মেয়ে। মাথার ঘিলুতে আমি মেয়ে। গু, থুতু, কফ, নাড়ি-ভুঁড়ি মাড়িয়ে, সময় ঠিকই হাতটি ধরে সমঝে দেবে সেই ক’সের ছাই। তাতে আর শাড়ি চড়ানোর দরকার পড়ে না। কানের, নাকের গয়না পরতে হয় না। মনের দুনিয়ায় আমি তো রানিই।

    কিন্তু কাজল না টানলে যে পুরুষ আসে না! সায়া ব্রা না পরলে যে মেয়ের মতো দেখতে লাগে না ! মন আর শরীর যে এখনও একসাথে। বড় জটিল এ অন্ধকার। বড় নিষ্ঠুর এ মন। ঘরের ছেলেটা হিজড়া হয়ে গেল! মা-বাপের ওপর দিয়ে কি ঝড়টাই না গেল! আকাশ হাতড়াতে গিয়ে রক্তের থাবা গুনি। সময় শুধুই যে অতীত দেখায়! সময় আর মৃত্যু যতটা, যৌনতা আর মন বুঝি ততটাই নিবিড়। যৌনতা আমাকে মেয়ে হওয়া শেখাল নাকি আমার মন আমায় মেয়ে হতে বলল? নাকি যাহা মন, তাহাই যৌনতা? এক রাত অন্ধকারের সঙ্গে আমার অনর্গল কথা বলা… এ কি যৌনক্রিয়া নয়? তাতে কি আমায় মেয়ে সাজতে হয়? শরীরের সাথে শরীরের ক্ষণিক আনন্দে গপ্পেই যত দেখনদারি।

    চুল লম্বা তো হল লড়তে লড়তে, কিন্তু সে চুল আঁচড়ানোর সময় আর হয়ে ওঠেনি কত বছর কাল। ফেস পাউডার ব্যাগেই রয়ে গেল ডেট এক্সপায়ার্ড হয়ে। নাকছাবি গেঁথেছিলাম এক কালে, টিনের পাতে জং ধরে রয়ে গেল। কাজল পেন্সিল আছে বটে একটা, চোখে আঁকা হয়নি বহুকাল। সময় পাইনি। প্রথমে জ্যাঠা, তারপর মা, তারপর বাবা, এরপর আর এক দিদি। ফুলে ঢাকা শরীরগুলো ট্রাকে চেপে কোথায় সব হারিয়ে গেল। অন্ধকারে মাথা রাখি। এতটুকু হাড় পাঁজরায় এত ঝড় সইবার ক্ষমতা নেই যে! একমাত্র অন্ধকারই বোঝে সে কথা।

    চোখ রাখি জানলার ফাঁকে। শরৎ দেখি, বসন্ত দেখি, ভোরের নীলিমা দেখি, বিকেলের রোদ দেখি। কোথাকার সব ফুরফুরে হাওয়া আঙুলে বুলিয়ে টিপ পরি। আবার একটা দুগ্গা পুজো না? ধুনোর গন্ধ, নতুন কাপড়ের গন্ধ, শরতের রোদের গন্ধ, প্যান্ডেলের গন্ধ বুক ভরে নিই। ময়রাদের দুগ্গা থানে মাথা ঠুকি। মা যে এখানেই আসত পুজো সাজিয়ে অষ্টমীতে, দশমীতে। অন্ধকারে ঠেস দিয়ে ঘুমাই কিছুক্ষণ। ঢাকের শব্দে ঘুম ভাঙে। জানলায় চোখ রাখি উলুধ্বনি কলা বউ, পটকার গন্ধ। রাতের আকাশে যতটুকু অন্ধকার, সে সবটা আমার। ওই তারাগুলোও আমার। আমি অন্ধকারে বেঁচে রইব সমস্ত মৃত্যুকে আগলে রেখে।।

    মেয়েরা শুনেছি মায়ের জাত, কন্যা সন্তানকে বাঁচানোর জন্য কত কত আন্দোলন! অথচ পুরুষেরা সেই কন্যা সাজলেই তোমরা তাদের ‘হিজড়া’ বানিয়ে দাও! তাঁদের লুটিয়ে পড়া আঁচল, চোখের কাজল, মুখে রঙের আড়ালে যে আরও একটা আত্মা আছে, তার খোঁজ রাখতে ভুলে যাও কত সহজে! ও বাবুরা, ভদ্রলোকেরা! হিজড়াদেরই ভয়ানক মনে হয় বাবুদের? একবার ভালবেসেই দেখুন না, চুরির ঠুনঠুন আওয়াজে মায়ের স্পর্শ পাবেন– এ আমি একগলা গঙ্গায় দাঁড়িয়েও বলতে পারি।

    কিন্তু হিজড়েরা যে শাড়ি তোলে, তালি বজায়! উপায় কী? আপনারা সাপ দেখলে ঢিল ছোড়েন না বুঝি? আপনাদের অত্যাচারে, ঘেন্নায়, তাচ্ছিল্যে আমাদের যে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে মশাই! জানেন, কত পুরুষকে সুখ দিতে গিয়ে কত রূপান্তরকামী মানুষের অকালে জীবন গেছে, এইডসে! প্রেমিকের জীবাণু পোয়াতি বানাল! এর শেষ মৃত্যু! এই জীবাণুর বাবা যে কত পুরুষের তার হিসেব কে রাখে, বাবুরা ! ভদ্রলোকেরা! তাই অত ঘেন্না করোনি তোমরা! এটা লিখতে লিখতেই পোড়া গন্ধ নাকে আসে! রান্না কড়াইতেই ধরে গেছে। দেখি, তলাটা কালো….. ঠিক আমাদের কপালটার মতো! এবার ভাবছেন হয়তো লড়াইতে হেরে গেছি, হতাশ হয়ে পড়েছি। কী তাই তো? ভুল ভাবছেন। আমাদের যে হাড়ে হাড়ে আগুন। বেঁচে থাকার স্পর্ধা!

    ….ছটফট করছে মনটা। কেমন যেন উড়ু-উড়ু করছে। আজ নারীদিবস। একটু সাজলে কেমন হয়? শাড়ি পরব। চুলে শ্যাম্পু করে ফুল গুঁজব। হিলতোলা জুতো পরব। শাড়িতে হিল মানাবে? লিপস্টিক তো লাগাচ্ছিই। চুল বাঁধব নাকি খোলাই ছেড়ে দেবো? কালকের আনা কানেরগুলো পরব… ওহো! ফেস ওয়াশ আনতে হবে। হাতে মেহেন্দি লাগাতে হবে, ইচ্ছে সারাদিন উড়ে বেড়াই, ছেলেদের দেখে ঠোঁট বাঁকাই। চোখ উল্টাই। তারপর সে রকম রাজপুত্তুর এলে দেখা যাবে। আচ্ছা কুমারীরা আলতা পরে? ভাবছি আলতা পরব। কেমন শীত শীত করছে গো মা !

    আচ্ছা মা ডাকলেও তোমরা কেউ কোনও সাড়া দাও না কেন বলো তো আজকাল? চাদরটা গলা অবধি টেনে পাশ ফিরি। জানলাটা দিয়ে ফাল্গুনের হাওয়া ঢুকছে। বেশ অন্ধকার বাইরেটা। গ্যাঁদাল পাতার ঝোপটা কেমন কালো ভূত! দিব্যি দেখাচ্ছে। প্রিয়তম কী লিখি তোমায়? আঙুলে করে আকাশটাতে আলতা টেনে দিই চোখের কোণ অবধি। নকশা কাটি মেহেন্দি দিয়ে… একটা গোটা যোনিদ্বার! জীবন সঙ্গী পাওয়ার এই একমাত্র সড়কপথ বুঝি

    ক্যালেন্ডার হাতড়াই। এত ঠান্ডা কেন বাবার হাতটা? ডাক্তার বলে গেল, ভেন্টিলেশনে দিতে হবে…ওহ্, তাই! এখুনি দিন। মাথার কাছে সর্বমঙ্গলা মঙ্গল্যে, শিবে সর্বার্থ সাধিকে… বাবার স্বপ্ন ছিল একটা গরিব ঘরের মেয়ে দেখে আমায় বিয়ে দিয়ে দেওয়া। আর সেই বিয়েতে বাবা বাজনা বাজিয়ে নাচবে! কাজল দিয়ে আঁকিবুঁকি কাটি শরীরময়…ক্যালেন্ডারটা পেয়েই যাই… বসন্ত নাকি ফুরিয়ে গেছে! ফোন এল হাসপাতাল থেকে অনেক রাতে। সব শেষ। আমি কিন্তু ন্যাড়া হই নি। আমি মেয়ে না! মেয়েরা ন্যাড়া হয় না। মৃত্যু ছাড়া পৃথিবীর দেওয়ার আর আছেটা কী? লিপস্টিক বুলাই আনমনে… লাল নীল সবুজ– তারপরে সব অন্ধকার।

    গন্তব্য আসানসোল । পিচের রাস্তাটা ধরে বাস ছুটে চলেছে। জানলার ধার। হাওয়া যেন এখুনি উড়িয়ে নিয়ে যাবে। ভিজে ভিজে হওয়া। এইমাত্র বৃষ্টি হয়ে গেল বুঝি এখানে! চারপাশটা জংলি ফুল আর জংলি পাতার ভিজে গন্ধ। বেশ লাগছে। ওড়নাটা বারবার উড়ে মুখ ঢেকে দিচ্ছে। ওড়না, তুমি আজ ডানা হও। উড়ে আসি ওই যে ওই দূরের মেঘলা আকাশেতে। চলো, একটু বেড়িয়ে আসি। স্বপ্ন দিয়ে সাজাতে সাজাতে রাত পার হয়ে যাব। সম্বিত ফিরল না-চাওয়া বিস্মিত স্পর্শে। আমার পেছনেই বসে থাকা কেউ তার নিজের হাতটা রেখেছে আমার বুকে। পেছন ফিরেই প্রায় জ্ঞান হারাই, বছর ষোলোর এক ফুটফুটে রাজপুত্তুর! সে আনমনা। হাতটা আরও যত্ন করে সমস্ত বুকটা আমার চেপে রাখতে চাইল।

    আচ্ছা! আমার বিয়ের কথা ভেবে একেই কি মা ঠিক চারটের সময় ডেকেছিল চা খেতে? ঊষা খান্নার মিউজিক ছিল না? বেঘোরে আমি। কিন্তু এত হট্টগোল কোন চারিপাশে? চোখ মেলি। দেখি বাসওয়ালা বলছে, সবাই নেমে গেছে আর আপনি বসে আছেন? নামুন শিগগিরি। মন্ত্রমুগ্ধ আমি। স্থিরদৃষ্টি। সিট ছেড়ে কোনও রকমে উঠে দাঁড়াই। পেছন ফিরে দেখি আমার রাজপুত্তুর হাওয়া! কাছে গিয়ে ওঁর সিটে হাতের চেটোটা রাখি যত্ন করে। তাঁর শরীরের সমস্ত গরম বাসের সিটটাতে রেখে গেছে শুধু আমার জন্য বুঝি। গরমটুকু মুঠোয় ভোরে বুকের কাছে ধরি।

    –কিছু শুনতেপাচ্ছো সাদাব ?
    –হ্যাঁ পাচ্ছি গো।
    –ভাল লাগছে তোমার?
    –কী যে বলো! আরও শোনাও।

    আবার ফুঁকি ফুউউউ…..স..স…

    –খুব ভাল লাগছে, যদি দেখতে পেতাম তোমায়!
    –দেখতে পেলে কী হতো ?
    –না থাক, যেদিন দেখা হবে সেদিনই বলব। এই তিন বছরে কয়েকশো বার দেখতে চেয়েছি, মনে করতে পারছো?

    বুকটা কেঁপে ওঠে। কথা ঘোরাই।

    –এবার রাখো সাদাব, রাত শেষ হতে চললো।
    –না রাখব না, রাখতে মন করছে না।
    –রাখো সোনা, রাখো ।

    পাশ ফিরে শুই খানিকটা। চোখটা বড় করলে আজকাল অনেকখানি আকাশ দেখা যায়। আর ওইদিকটা মহাকাশ। আর তারপর? নারী পুরুষে ভাগ হয়ে যাওয়া পৃথিবীতে এ কেমন প্রেম? উদোম হয়ে আয়নায় পৃথিবী দেখি। বড় নীলচে সে রঙ। হেসে ফেলি। প্রেম-প্রেম খেলাটা দিব্যি লাগছে মাইরি। সাদাবের প্রতি কেমন মায়া হয়। শরীর দিয়ে গড়া পৃথিবীটাতে এ প্রেম আর কত দিনের! ও মা, দেখি হঠাৎ করেই বড় দেখে একটা সূর্য উঠে এল। তারপর আবার বিকেল…আবার রাত্রি…সকাল…। তারপর আবার সেই কত গল্প দু’জনে মিলে। কত কথা, আরও হাসি। দু’জন-দু’জনকে পেয়ে কত ভালোলাগালাগি। এরই মধ্যে একদিন একটা ছেলে হয়ে গেল আমাদের। কথা বলে বলেই জন্ম দিলাম অদৃশ্য সন্তানের!

    –সাদাব আমাদের বাবুর নাম কী রাখবো?
    –রাহুল রাখলে কেমন হয় ?
    –তাই রাখো, বেশ মিষ্টি নাম।

    রাহুল এসে গেল আমাদের দু’জনের অদৃশ্য জীবনে। এখন আমরা তিনজন…সাদাব, আমি আর আমাদের রাহুল। …আর এই মিথ্যে প্রেমের সাক্ষী থেকে গেল আমাদের দু’জনের হাতে ধরা দুটো মোবাইল।

    সন্তানের মা হয়ে গেলাম, এদিকে আমি না ছেলে-না মেয়ে। এক অদ্ভুত পরিস্থিতি। না ঘরের না ঘাটের। জীবনে এসেও যেন কোমাতে। হাত-পাগুলো ব্লেড দিয়ে চেঁচে আমি কতখানি মেয়ে? গলাটাতে মধু ঢালি। আওয়াজে যেন সুর বাজে, মেয়েদের গলা যেমনটি। কতখানি মেয়ে আমি? ‘পা’ থেকে ‘ধা’ চড়তে গিয়ে বুঝলাম, এ জন্মে মেয়ে হওয়া আর হলোনি। এই মাত্র গরম দুধে মরা পিঁপড়ে ভেসে উঠল। তবু এত জীবন! তবু শরীর? বটেই তো। মৃত্যুর অপেক্ষাতেই তো জীবন এত সুন্দর। এদিকে বাইরে বেরুলেই সবাই হাসে। বহুরূপী আমি যেন মা কালী সেজেছি। পেছন-পেছন ছুটছে হাজার মানুষ। কেউ ঢিল ছুড়ছে, কেউ গালাগাল। সঙ্গে কামড় আঁচড়।

    তবু অনড় আমি। আমি মেয়ে। বুক বাজিয়ে বলেই চলি, আমি মেয়ে।

    –হুঁহ্, বললেই হল! শরীরের কোথায় মেয়ে দেখাও দেখি।
    –সায়া তুলি। সামনে কিছু নেই প্রিয়তম… যা আছে সব পেছনে।
    –আচ্ছা, হিসুর সময়ে সিটি বাজে? মাসিক হয়? বাচ্চা হবে?
    –তুমি জীবাণু নিয়ে এসো প্রিয়তম, আমি গর্ভে ধারণ করব।

    তবু অন্ধকার মোছে না। তবু একফালি আকাশ রাখেনি কেউ কোত্থাও। থুতুতে পিছলে মরি। ঘেন্নার থুতু সব। কোনটা চেনা, কোনটা অচেনা। সকাল সকাল অযাত্রার মুখখানা নিয়ে হাতড়ে উঠি। ওগো কে কোথায় আছো! আমায় একটু ভালোবাসবে? ঠোঁট বেঁকিয়ে, হাত ঘুরিয়ে, ওড়না উড়িয়ে, আয়নার সামনে দাঁড়াই।
    মায়ের মুখের সামনে মুখ এনে বলি, মা আমি তোমার কতখানি মেয়ে? বলো না গো আমি তোমার কতখানি মেয়ে?

    রাতের চরিত্র বুঝি মরলেও যাবেনি! ভ্রু’র ইশারায় ছেলে ‘তুলতে’ স্বপ্ন জাগে! ধোঁয়া-ভেজা জঙ্গলের রাস্তা ধরে একটা পুরুষের হাত আঁকড়াতে চায় হাত! জংলি পাতায় পাতায় এত বেনারসির গন্ধ কেন! এমন বেহুঁশ জ্বর নিয়ে কেউ বেঁচে থাকে বুঝি? তবু আমি বাঁচি! বুকের মাঝে ছোবলের সবটুকু আগলে রাখি! এ ক্ষতও তো আমারই! আমি… আমি উবু হয়ে শুই বরং! আজ আগুনে আগুনে লুটোপুটি খাবো!
    আমি নারী আমি নারী আমি নারী।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More