বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৭

ফেরা হয়নি ঘরে, লাগাতার হুমকির মুখে শবরীমালায় প্রথম পুজো দেওয়া দুই মহিলা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইতিহাস তাঁরা গড়েছেন ঠিকই, কিন্তু তার মাসুল দিতে গিয়ে এখনও ঘরে ফেরা হয়নি তাঁদের। প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে রয়েছেন তাঁরা। তবে এতে মোটেই দমছেন না বছর চল্লিশের কনকদুর্গা এবং বিন্দু। গোপন ঘাঁটি থেকেই ফোনে জানালেন, নিয়মিত হুমকি আসছে তাঁদের কাছে। তবে তাঁরা ভয় পাচ্ছেন না, কারণ তাঁদের প্রশাসনের উপরে পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আগামী সপ্তাহে নিশ্চয় বাড়ি ফিরতে পারবেন তাঁরা।

গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় সব বয়সি মহিলারা কেরালার শবরীমালা মন্দিরে ঢুকতে পারবে। এর পর থেকেই শুরু হয় অশান্তি। কারণ ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সি মহিলাদের শবরীমালায় ঢুকতে না দেওয়ার রীতি চলে আসছে বহু বছর ছরে। ধর্মীয় কুসংস্কারে আচ্ছন্ন মন্দির কমিটির বদ্ধমূল ধারণা, এই সুযোগে ঋতুমতী অবস্থায় কোনও মহিলা ঢুকে যেতে পারেন মন্দিরে, যে কারণে রুষ্ট হতে পারেন মন্দিরের ঈশ্বর আয়াপ্পা দেব।

কিন্তু এই কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তুমুল লড়াই শুরু হয় দেশ জুড়ে। সুপ্রিম কোর্টের রায়কে সমর্থন করে মন্দিরে মহিলাদের ঢোকা নিশ্চিত করতে তৎপর হয় কেরলের পিনারাই বিজয়ন সরকার। অন্য দিকে ততই বাধা দিতে শুরু করে গেরুয়া শিবির, খেপে ওঠেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। এর জেরে  বারবার অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে মন্দির চত্বর। ঘটে যায় মৃত্যুর মতো ঘটনাও। আহত হন বহু। প্রহৃত হন সাংবাদিকেরা।

এই আবহেই, চলতি মাসের দু’তারিখে পুলিশি নিরাপত্তায় মন্দিরে গিয়ে পুজো দিয়ে চলে আসেন কান্নুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা বিন্দু আম্মিনি এবং সরকারি কর্মচারী কনকদুর্গা। খবর পেয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’ চলে মন্দিরে। কিন্তু দুই মধ্যবয়সি মহিলা এত দিনের অচলায়তন ভেঙে মন্দিরে ঢুকে পুজো দিতে পারা প্রথম মহিলা হিসেবে কৃতিত্বের দাবি রাখেন।

কনকদুর্গা বলেন, “আমাদের অনেকে বারণ করেছিল। সবাই বলেছিল আমরা পারব না। আর পারলেও বাঁচব না। এখন পেরে তো গেছি, কিন্তু রোজ হুমকি দেওয়া হচ্ছে মেরে ফেলার। কিন্তু ভয় পাচ্ছি না আমরা।” বিন্দু বলেন, “পরিস্থিতি কারও অজানা নয়। আমাদের যথেষ্ট সাহায্য করছে প্রশাসন। কিন্তু উগ্র ধর্মান্ধ সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ করার কাজটা বিজেপিকে করতে হবে।”

Shares

Comments are closed.