বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৭

ধর্ষণ থেকে বাঁচতে শাটল গাড়ি থেকে লাফ! হরিদেবপুরের ঘটনায় এখনও আতঙ্কে মহিলা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শাটল গাড়ির পিছনের সিটে তখন দুই মহিলার আতঙ্ক বাড়ছে। বেপরোয়া চালক  তীব্র গতিতে গাড়ি চালাচ্ছে। দু’ই যাত্রীই নিজেদের স্টপেজ ছাড়িয়ে অচেনা নিরিবিলি রাস্তায়, গাড়ি থামার নাম নেই। এই অবস্থায় লাফ দেওয়া ছাড়া কোনও গতি ছিল না বলেই জানাচ্ছেন এক মহিলা। যিনি এখনও আতঙ্কে। শনিবার রাতে চলন্ত শাটল গাড়ি থেকে লাফ দিয়েছিলেন তিনিই। নিজেই বললেন, ‘ধর্ষণ থেকে বাঁচতেই চলন্ত গাড়ি থেকে লাফাই, এর বেশি আর কী বলব।’

ঠিক কী হয়েছিল শনিবার রাতে!

রোজের মতোই অফিসের কাজ সেরে আনোয়ার শাহ রোড থেকে শাটল গাড়ি ধরেছিলেন মহিলা। চালককে জানান ঠাকুরপুকুর ক্যানসার হাসপাতালের কাছে তাঁকে যেন নামিয়ে দেওয়া হয়। তখন গাড়িতে ছিলেন প্রায় আট থেকে নয় জন যাত্রী। কেওড়াতলা মোড়ের কাছেই নেমে যান বেশিরভাগ যাত্রী। পিছনের সিটে ছিলেন মাত্র দু’ই জন মহিলা। যা দেখেই মহিলাদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে চালক। প্রতিবাদ আসতেই  চালক জানায়, গাড়ি সে থামাবে না।মহিলাদের চরম যৌন হেনস্থারও হুমকি দেয় সে। হুমকির পরই   তীব্র গতিতে গাড়ি চালাতে শুরু করে। হরিদেবপুর থানা এলাকার সামনে দিয়ে গতিতে চলে যায় গাড়ি। মহিলারা বাঁচার জন্য চিৎকার করেন।এরপরই  গাড়ির পিছনের দরজা খুলে দু’ই জনেই লাফ দেন। 

শাটল গাড়িটি

দক্ষিণ কলকাতার ব্যস্ততম রাস্তা হরিদেবপুর।শনিবার রাতে ঘটনার সময়  সেখানে কয়েকজন স্থানীয় ছাড়া আর কাউকেই পাননি দুই মহিলা। তাঁদের চিৎকার শুনেই পুলিশের কাজ করেন স্থানীয়রাই। মহিলা জানাচ্ছেন, স্থানীয় বাসিন্দারা অটোয় চেপে গাড়িটিকে ধাওয়া করে। পাকড়াও করা হয় চালককে। স্থানীয়দের তৎপরতায় হরিদেবপুর থানায় চালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই রাতেই গ্রেফতার করা হয় চালক কানাই দাসকে। আপাতত তাকে চার দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আলিপুর আদালত। ধৃত কানাই দাস একজন অ্যাপ ক্যাব চালক বলে পুলিশ সূত্রে খবর। অ্যাপ ক্যাব সংস্থার হয়ে গাড়ি চালানোর সময়সীমা শেষ হতেই শাটলে গাড়ি চালাচ্ছিল সে।

ধৃত চালক কানাই দাস

চলন্ত গাড়ি থেকে লাফ দিয়েছিলেন ভয়ে।লাফ দেওয়ার ফলে মহিলার পায়ের হাড় ভেঙেছে। ঠাকুরপুকুরে নিজের বাড়িতেই শয্যাশায়ী তিনি। দীর্ঘদিন ধরে সাউথ সিটি মলের কাছে একটি অফিসে চাকরি করেন, কোনওদিন এতটা ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখে পড়বেন ভাবেননি। । স্ত্রীর অবস্থা দেখে বাকরুদ্ধ মহিলার স্বামী। জানালেন,’ রাতের কলকাতা কতটা নিরাপদ জানা নেই, তবে এই ঘটনায় আমি আতঙ্কিত, জানিনা স্ত্রী কবে স্বাভাবিক মন নিয়ে কাজ করতে পারবেন।’ক্ষত যে পায়ের থেকে বেশি মনের তা স্পষ্ট মহিলার কথাতেও।

শনিবারের ঘটনায় আতঙ্কে শহরবাসীও। প্রশ্ন উঠছে, হরিদেবপুর থানা এলাকায় কেন রাতে পুলিশ ছিল না। রাতের কলকাতায় মহিলাদের নিরাপত্তার বিষয়টি আলাদা করে গুরুত্ব কবে পাবে সেই নিয়েও সমালোচনার ঝড় সোশ্যাল মিডিয়ায় জুড়ে।

Shares

Comments are closed.