সোমবার, আগস্ট ১৯

গায়ে জড়িয়ে শাড়ি, সেলেব থেকে অচেনা নারী, সবাই বলছেন, ‘আমরাও পারি’

  • 54
  •  
  •  
    54
    Shares
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কিছুদিন আগেই শাড়ি পরা নিয়ে ঝড় তুলেছিলেন সব্যসাচী মুখোপাধ্যায়। অনুষ্কা, দীপিকার ডিজাইনার ক’দিন আগে এক অনুষ্ঠানে বলেন, “আমায় যদি কোনও মহিলা বলেন তিনি শাড়ি পরতে পারেন না, তাহলে তাকে ধিক্‌। এ ভাবে নিজেদের ঐতিহ্য ভুলে যাবেন ভারতীয় নারীরা।” সব্যসাচীর এ হেন মন্তব্যের পর ঝড় উঠেছিল সমালোচনার। গর্জে উঠেছিলেন অনেক মহিলাই। পাল্টা যুক্তি দিয়ে সব্যসাচী বলেছিলেন, “কে কী পরবেন তা আমি ঠিক করে দিইনি, দিতে চাই-ও না। আমি শুধু এটুকুই বলতে চেয়েছিলাম যে নিজেদের ট্র্যাডিশনাল পোশাক পরতে না পারাটা ঐতিহ্যকে ভুলে যাওয়া, কালচারকে অসম্মান করা। এ কথা পুরুষদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।”
সব্যসাচী বোধহয় চেয়েছিলেন অন্তত তাঁর দেশের মহিলারা গর্বের সঙ্গে শাড়ি পরুন। চওড়া হেসে তাঁরা যেন বলতে পারেন, “দ্যাখো, আমরাও পারি।” এ বার সেটাই হলো। অন্তত হালফিলের টুইটার ট্রেন্ড তেমনটাই বলছে। যেখানে কনফিডেন্সের সঙ্গে শাড়ি পরে ছবি শেয়ার করছেন মেয়েরা। জানান দিচ্ছেন যে, তাঁরাও পারেন। ভালোভাবেই পারেন।
শাড়ি মানে মহিলাদের কাছে একটা আলাদা আবেগ। আর তিনি যদি হন ভারতীয় তাহলে তো কথাই নেই। বেস্ট ফ্রেন্ডের বিয়ে হোক কিংবা বাড়ির পুজো, অথবা পরিবারের কোনও স্পেশ্যাল অনুষ্ঠান, বছরের বাকি দিন গুলোয় শাড়ি থেকে শত হস্ত দূরে থাকলেও এই দিনগুলোতে শাড়ি পরা চাই-ই চাই। সঙ্গে মানানসই ট্র্যাডিশনাল সাজ।
তবে শাড়ির সঙ্গে বঙ্গনারীর বন্ডিংটা অবশ্য একটু অন্য রকমের। আটপৌরে সাজের সঙ্গে মায়ের শাড়িতে নস্ট্যালজিয়ার ছোঁয়া——এটাই হয় বাঙালি মেয়েমহিলাদের প্রথম পছন্দ। সারাদেশ জুড়ে প্রায় প্রতিটি রাজ্যেই রয়েছে নিজস্ব স্পেশ্যাল কোয়ালিটির শাড়ি। কোথাও ডিজাইন, কোথাও টেক্সচার, প্রতিটি রাজ্যই একে অন্যের থেকে আলাদা।
এই শাড়িই এ বার টুইটারে ট্রেন্ডিং। #SareeTwitter-লিখে নিজেদের শাড়ি পরা ছবি টুইটারে শেয়ার করছেন অসংখ্য মহিলা। আম জনতা থেকে সেলেব, তালিকায় রয়েছেন সকলেই। কেউ বন্ধুর বিয়েতে শাড়ি পরে সেজেছেন, কেউ বা পরিবারের কারও বিয়ে অনুষ্ঠানে শাড়ি পরেছেন। কেউ বা বলেছেন, “শাড়ি পরে অফিস গেলে একটা অজুহাত তো মাস্ট। শাড়ি পরে সেজে এসেছি, একটু লেট হবে না!” শাড়ি পরার ধরন দেখে বোঝা যাচ্ছে, অনেকেই একদম অভ্যস্ত নন। কেউ কেউ আবার রোজ শাড়ি পরেই পাবলিক ট্রান্সপোর্টে চড়ে দিব্যি লাফিয়ে-ঝাঁপিয়ে কসরত করে অফিসে পৌঁছে যান। স্কুল-কলেজের ফেয়ারওয়েল প্রোগরামেও অনেকের ক্ষেত্রেই শাড়িই ড্রেসকোড, এ কথাও লিখেছেন অনেকেই।
এ বার সব নারীর একটাই স্লোগান, “why not saree……”।  শিফন থেকে তাঁত, কাঞ্জিভরম থেকে পৈঠানী, সুতির হ্যান্ডলুম এবং তসর——টুইটার খুললেই ঝলক মিলছে নানা রঙয়ের শাড়ির। নাম না জানা, অজানা, অচেনা শাড়ির সঙ্গে দেখা পাওয়া যাচ্ছে হাসিমুখের ভারতীয় নারীদের।
এক ঝলকে দেখা যাক কে কে রয়েছে এই তালিকায়—–
শিব সেনা নেত্রী প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী একটা নয়, নিজের চার চারটে শাড়ি পরা ছবি শেয়ার করেছেন টুইটারে। লিখেছেন, এমন ট্রেন্ড তিনি কোনওভাবেই মিস করতে চান না।
এই তালিকায় আছে সাংবাদিক বরখা দত্ত-ও। কেবল নিজের শাড়ি পরা ছবি নয়, নিজের মায়েরও একটা শাড়ি পরা ছবি শেয়ার করেছেন তিনি।
জার্মান অভিনেত্রী সুজেন বার্নেট-ও রয়েছে এই দলে। কপালে টিপ, খোঁপায় ফুলের মালা, গলায় মুক্তোর হারের সঙ্গে তাঁকে মানিয়েছেও বেশ।
বলিউড অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতম-ও শেয়ার করেছেন তাঁর শাড়ি পরা ছবি। চওড়া সোনালি জরি পারের কালো সিল্ক, কানে বড় ঝুমকো—-সব মিলিয়ে এক্কেবারে অন্যরকম লুকে হাজির অভিনেত্রী।
শাড়ি পরে ছবি শেয়ার করেছেন গায়ক অনুপম রায়ের স্ত্রী পিয়া চক্রবর্তীও। বরের মতো তিনিও কিন্তু একজন বেশ গুণী গায়িকা। এ বার কি তাহলে তিনি গাইবেন, ‘আমাকে আমার মতো শাড়ি পরতে দাও……’।

Comments are closed.