বুধবার, জুলাই ১৭

বৌ চাই গো বৌ! এভাবেই বৌ ভাড়া দেওয়া হয় এই গ্রামে, রমরমিয়ে চলছে ধাদিচা প্রথা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ে করা কি চাট্টিখানি কথা! কত না ঝামেলা সইতে হয় এই বিয়ের অনুষ্ঠান করতে গিয়ে। এমনও নয়, যে শুধু ঝামেলা করে বিয়ে করলেই হয়ে গেল। বিয়ে করা মানেই কতই না দায়দায়িত্ব! কিন্তু, ধরুন আপনার বৌ চাই-ই চাই। কিন্তু বিয়ের ঝামেলা ও দায়িত্ব এক্কেবারে না-পসন্দ। তা হলে আপনার জন্য আদর্শ এক জায়গা আছে এই দেশেই। মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলা। এখানে কোনও ঝামেলা ছাড়াই ভাড়া করে নেওয়া যায় বউ। তার পরে তাকে নিয়ে দিব্য দাম্পত্য জীবন কাটানো যায় সেখানেই। শুধু তা-ই নয়, গোটা প্রক্রিয়াটি আইনসম্মত করতে স্ট্যাম্প পেপারে চুক্তিও করে নেওয়া হয়!

হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। ২০১৯ সালেও এমনটাই হচ্ছে। নারী স্বাধীনতা, নারী ক্ষমতায়ন, নারী পণ্যায়ন নিয়ে যখন সারা বিশ্ব জুড়ে চর্চা চলছে, প্রতি দিন সংজ্ঞায়িত হচ্ছে নারীর সম্মান, তখনই এই দেশের এই ঘৃণ্য অথচ সুপরিচিত রেওয়াজ প্রকাশ্যে আসায়, প্রশ্নের মুখে আধুনিকতা। ভারতের একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে রয়েছেন মহিলা। এ ছাড়াও অনেক প্রশাসনিক শীর্ষ পদে মহিলাদের বসার নজির রয়েছে এখন। সেই অবস্থায় চলছে বৌ ভাড়া করার প্রথা!

মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলার গোয়ালিয়র ডিভিশনে অবশ্য এই নিয়ে কারও কোনও অনুতাপ দূরের কথা, তাপ-উত্তাপও নেই। কারণ, এই রেওয়াজ যে দীর্ঘদিনের। এই প্রথা শিবপুরীর উত্তর পশ্চিম এলাকায় ‘ধাদিচা’ নামে পরিচিত। আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল পুরুষেরা ভাড়া করা মহিলা নিয়ে সংসার করতে পারেন অবলীলায়। আরও ভাল করে বললে, ভাড়া করা মহিলা নিয়ে মেটাতে পারে নিজেদের যৌনসুখ।

আইন বলছে, কোনও মহিলাকে ভাড়া করে স্ত্রী হিসেবে নিজের কাছে রাখলে তা মহিলা কেনা-বেচারই সমতুল্য। কিন্তু কোথায় আইন! মাত্র দশ টাকার স্ট্যাম্প পেপারে সই হয়ে যায় চুক্তি। মাস বা বছরের হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয় মহিলাদের। চুক্তি শেষ হয়ে গেলে তা ফের নবীকরণ করা যায়। বেশি পয়সা দিলে বেশি দিনের জন্য ভোগ করা যায় ভাড়া করা বৌকে। কারও ইচ্ছে না করলে যে চুক্তি নবীকরণ না-ই করাতে পারেন, তা বলাই বাহুল্য। মেয়াদ ফুরোলেই ভাড়া করে ঘরে আনা যায় নতুন বৌ।

সূত্রের খবর, রীতিমতো খোলা বাজারে দাঁড় করিয়ে নিলাম হয় মহিলাদের। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এই নিন্দনীয় প্রথা। যা নিয়ে কোনও মাথাব্যথাই নেই সমাজের। প্রশাসনও নির্বাক কোনও এক অজানা কারণে। ধনীদের ভাড়ায় বউ নিয়ে থাকার ক্ষমতা রয়েছে, তাই তারা সেটা করে থাকে। এটা নিয়ে তো কিছু বলার নেই! তবে জানা যায়, এই কেনাবেচার বড় বখরা মেলে পুলিশেরও। তাই এ দিকটা একটু এড়িয়ে চলতেই ভালবাসে তারা।

ইসলামিক স্টেটের জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে এ ভাবে মেয়েদের ভাড়া দেওয়া বা বিক্রি করার। অপহরণ করে নিয়ে আসা মহিলাদের যৌনদাসী হিসেবে বিক্রি করে আইএসআইএস জঙ্গিরা। রীতিমতো ধর্মের নামে স্লোগান দিয়ে চলতে ‘যৌনদাসী’দের নিলাম। এই সংক্রান্ত অনেক ভিডিও-ও রয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিন্তু বিশ্বের কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন আইএস-এর মতোই একই রকম নারী-কারবার যে ভারতের বুকেও দীর্ঘ দিন ধরে জমজমাট ভাবে চলছে, তা নিয়ে তেমন হেলদোল নেই কারও!

মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী এলাকার এই বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০১৭ সালে। বিয়ে বাড়িতে গিয়ে নিজের স্ত্রীকে এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছিল ইন্দোরের এক ব্যক্তি। ৩০ হাজার টাকায় কেনা সেই মহিলাকে অসংখ্য বার ধর্ষণের পরে ওই ব্যবসায়ী শিবপুরীতে বিক্রি করে দেয়। সেখান থেকে পালিয়ে এসে সেই তরুণী পুলিশকে জানায় সব কিছু। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ওই মহিলার স্বামীকে গ্রেফতারও করা হয়।

তবে ওই পর্যন্তই সার। আর কোনও ধরপাকড় হয়নি এই ঘটনায়। বদলায়নি প্রথাও। এখনও একই ভাবে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে বৌ। ভাড়া নিয়ে চলছে দাম্পত্যও।

Comments are closed.