ফের গোরক্ষকদের তাণ্ডব, গোমাংস বহন করার গুজবে মহিলা সহ মার তিনজনকে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : দু’জনকে গাছে বাঁধছে উত্তেজিত জনতা। তারপর বেধড়ক মার। এক মহিলাকেও দেখা যাচ্ছে ঘটনাস্থলে। তাঁকে গাছে বাঁধা হয়নি বটে, কিন্তু মাথায় জুতো দিয়ে মারছে অনেকে। মহিলা নীরবে মার সহ্য করছেন। উত্তেজিত জনতা চিৎকার করছে জয় শ্রীরাম।

মধ্যপ্রদেশের এক গ্রামের ঘটনা। স্থানীয় মানুষ সন্দেহ করেছিল, তিনজন অটো রিকশয় গোমাংস নিয়ে যাচ্ছে। তাই ওই মারধর। ভিড়ের মধ্যে একজন মোবাইলে পুরো ঘটনার ছবি তুলেছে। সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় আসার পরেই শুরু হয়েছে হইচই।

পুলিশ জানিয়েছে, মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপাল থেকে ৩৫০ কিলোমিটার দূরে সেওনি অঞ্চলে ওই তিনজনকে মারধর করা হয়। অভিযুক্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ অফিসার ললিত শাক্যবর বলেন, যে ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা গিয়েছে, তা চারদিনের পুরানো। ধৃতদের চারজনকে স্থানীয় আদালত জেল কাস্টডিতে পাঠিয়েছে। পরে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁকে শনিবার আদালতে পেশ করা হবে।

ধৃতদের একজনের নাম শুভম সিং। সে নিজেকে রাম সেনার সদস্য বলে দাবি করেছে। সে ২৩ মে নিজের ফেসবুক পেজে এই ভিডিও পোস্ট করেছিল। পরে অবশ্য মুছে দিয়েছে। এপ্রিলে সে আর একটি ভিডিও আপলোড করেছিল। সেখানে তাঁকে বিজেপির সাংসদ ও মালেগাঁও বিস্ফোরণে অভিযুক্ত প্রজ্ঞা সিং ঠাকুরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, ২২ মে দুই পুরুষ ও এক মহিলা অটো রিকশয় চড়ে যাচ্ছিলেন। এমন সময় গোরক্ষকরা তাঁদের থামায়। তাদের ধারণা, তিনজন গোমাংস নিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশকে না জানিয়ে তারা নিজেদের হাতে আইন তুলে নেয়। প্রথমে দু’জনকে গাছে বেঁধে মারধর করে। পরে একজনের বাঁধন খুলে তাঁকে মাটিতে ফেলে লাঠি দিয়ে পেটানো হয়। সেখানে গ্রামের লোক ভিড় করেছিল, কিন্তু কেউ পুলিশকে খবর দেয়নি। পরে জানা যায়, যে তিনজন আক্রান্ত হয়েছিলেন তাঁদের নাম দিলীপ মালব্য, তৌফিক ও আনজুম শর্মা।

২৩ মে শুভম সিং ভিডিওতে মারধরের ছবি আপলোড করে। দিলীপ মালব্যর শ্যালিকা জানান, তিনি ওই ভিডিও দেখে এফআইআর করেন। পুলিশ প্রথমে শুভমকে গ্রেফতার করে। পরে যে চারজন গ্রেফতার হয়েছে, তাদের নাম যোগেশ উইকি, দীপেশ নামদেব, রহিত যাদব এবং শ্যাম দেহরিয়া। পুলিশের শীর্ষস্থানীয় অফিসার গোপাল খান্ডেল জানিয়েছেন, অটো রিকশয় যে মাংস নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা পরীক্ষার জন্য হায়দরাবাদে পাঠানো হয়েছে। আক্রান্তরা কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নয়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More