বৃহস্পতিবার, মার্চ ২১

পণ নেই, তার ওপর দু’-দু’টো মেয়ে! শ্বশুরবাড়ির মানসিক চাপে মর্মান্তিক মৃত্যু তরুণীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অপমান, লাঞ্ছনা রোজদিনকার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। প্রবল মানসিক চাপে দম আটকে আসছিল ২৫ বছরের মেয়েটির। না শুধু মেয়ে বললে তাঁর পরিচয় শেষ হয় না। তিনি আদতে গৃহবধূ। আর সেই গৃহেই পারিবারিক হিংসার শিকার হতে হতো তাঁকে রোজ। ‘অপরাধ’ অবশ্য ছিল বটে একটা। দু’-দু’বার কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন যে! তার উপরে তাঁর বাড়ি থেকে পণের টাকাও এসে পৌঁছয়নি এত বছরে।

শেষমেশ এই ক্রমাগত দোষারোপ ও মানসিক অত্যাচার আর সহ্য করতে পারলেন না তরুণী। আত্মঘাতী হলেন কুয়োয় ঝাঁপ দিয়ে। অবশ্য মহারাষ্ট্রের থানের খিনাভলি গ্রামের এই ঘটনাটি আত্মহত্যাই কি না, তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। তরুণীর স্বামী, শ্বশুর, দেওর এবং শাশুড়ির বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। পলাতক অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। তবে এখনও কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।

সূত্রের খবর, খিনাভলি গ্রামের শরদ দেশালের সঙ্গে ২০১৬ সালের মে মাসে বিয়ে হয়েছিল সুরেখার। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পণের জন্য তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করত শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। ২০১৭ সালে তাঁর প্রথম সন্তানের জন্ম হয়। চলতি বছরের শুরুতেই তিনি জন্ম দেন দ্বিতীয় সন্তানের। দু’টিই কন্যাসন্তান। তারপর থেকেই তার ওপর অত্যাচারের পরিমাণ আরও বাড়ে।

পুলিশ জানায়, সুরেখা তাঁর অভিভাবকদের এই অত্যাচারের ব্যাপারে জানিয়েছিলেন। তাঁরা সব শুনেও কিছুই করতে পারেননি বলে অভিযোগ। এর পরে, গত শনিবার সুরেখার বাড়ির লোককে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা ফোন করে বলেন যে, সুরেখাকে পাওয়া যাচ্ছে না।

অনেক খোঁজাখুঁজির পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। শেষমেশ শনিবার অনেক রাতে সুরেখার দেহ পাওয়া যায় কুয়োর ভিতর থেকে। সুরেখার শ্বশুরবাড়ির তরফে দাবি করা হয়, কাউকে কিছু না বলে ঝাঁপ দিয়েছেন সুরেখা। এর পরেই অবশ্য তাঁরা সকলেই উধাও হয়ে যান বাড়ি থেকে। সুরেখার পরিবারের দাবি, খুন করে ফেলে দেওয়া হয়েছে তাঁদের মেয়েকে।

কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়া যে কারও এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর কারণ হতে পারে এই ২০১৯ সালেও, তা অনেকের কাছেই এখনও অভাবনীয়। কিন্তু পরিসংখ্যান ও তথ্য বলছে, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা ছাড়াও দেশের একাধিক রাজ্যে এমন ঘটনা প্রয়াই ঘটছে। সম্প্রতি মহারাষ্ট্রেই বেশ কয়েকটি গার্হস্থ্য হিংসার ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে অত্যাচারের মুখে মারা গিয়েছেন গৃহবধূ।

Shares

Comments are closed.