TheWall

বিদেশমন্ত্রীর পর ভারত সফর বাতিল করলেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিদেশমন্ত্রীর ভারত সফল বাতিলের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভারত সফর বাতিল করলেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। শুক্রবার একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য তাঁর মেঘালয়ে যাওয়ার কথা ছিল। নাগরিকত্ব (সংশোধন) বিল নিয়ে উত্তর-দপূর্ব ভারত এখন উত্তপ্ত। তার জেরেই বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্ত বলে মত কূটনৈতিক মহলের।

আগেই ভারত সফর বাতিল করেছেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন।

আরও পড়ুন: নাগরিকত্ব বিল: অসমে তীব্র প্রতিবাদ, পুলিশের গুলিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে তিন, জারি কার্ফু

সফর বাতিলের কারণ হিসাবে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী এ এক আবদুল মোমেন বলেছেন, দেশে আচমকাই তিনি নানা কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। একটি মহলের ধারণা, উত্তর-পূর্ব ভারতে অশান্তির জন্যই তিনি ভারত সফর বাতিল করেছেন। যদিও বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রবীশ কুমার সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, আবদুল মোমেনের সফর বাতিল নিয়ে বেশি জল্পনা না করাই ভাল।

১২ থেকে ১৪ ডিসেম্বর আবদুল মোমেনের ভারতে থাকার কথা ছিল। কথা ছিল, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরের সঙ্গে তিনি আলোচনায় বসবেন। রবীশ কুমার বলেন, “আমরা জানি, বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রীর সফর বাতিল হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। আগামী দিনেও এমনই সম্পর্ক থাকবে বলে আশা করি।”

আবদুল মোমেন বলেন, “১৪ ডিসেম্বর আমাকে বুদ্ধিজীবী দিবসের অনুষ্ঠানে থাকতে হবে। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের উৎসবেও থাকতে হবে। আমাদের প্রতিমন্ত্রী গিয়েছেন মাদ্রিদে। আমাদের বিদেশ সচিব গিয়েছেন হেগ শহরে। সুতরাং দেশে সব অনুষ্ঠানে আমাকেই থাকতে হবে। তাই ভারত সফর বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

কয়েকদিন আগে মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপরে অত্যাচার হয় বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা সত্য নয়। একথা যিনিই বলে থাকুন, তিনি ঠিক বলছেন না। আমাদের দেশে নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ভিন্ন ধর্মের মানুষজন নিয়ে থাকেন। আমরা কখনও ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে বিচার করি না।

ভারতের প্রশংসা করে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী বলেন, তা এক সহনশীল রাষ্ট্র। পরে ভারত সরকারকে সতর্ক করে বলেন, এমন কিছু করা উচিত নয় যাতে সহনশীলতার ঐতিহ্য দুর্বল হয়।

ভারতে সংসদের দুই কক্ষে পাশ হয়েছে নাগরিকত্ব বিল। তাতে বলা হয়েছে, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ যদি ধর্মীয় নিপীড়নের ভয়ে পালিয়ে আসেন, তবে তাঁদের ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর অবধি যাঁরা এদেশে এসেছেন, তাঁরাই নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। এই বিল পাশ হওয়ার পর থেকেই বিক্ষোভ শুরু হয় অসম-সহ উত্তর-পূর্ব ভারতে।

Share.

About Author

Comments are closed.