আধুনিকতার সঙ্গে দূষণ বাড়ছে দিঘায়, পদক্ষেপ সক্রিয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পরিষদ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিঘাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। সপ্তাহান্তে ভ্রমণের জন্য বাঙালির সেরা পছন্দের জায়গা এই দিঘাই। নতুন নতুন সৈকতের আকর্ষণ লঘু করতে পারেনি দিঘার আকর্ষণ। কিন্তু সমস্যা হল, উন্নয়নের সঙ্গে যত পর্যটক বেড়েছে ততই দূষণ বেড়েছে দিঘায়। সাগরবেলার ক্রমবর্ধমান দূষণ এখন দিঘার মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    দিঘাকে দূষণমুক্ত করা এখন দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চিন্তার কারণ। তবে এ নিয়ে চিন্তিত দিঘার বাসিন্দারাও। পর্যটকরা আসেন, যান কিন্তু সারা বছর থাকতে হয় তাঁদেরই। দূষণের জন্য যদি পর্যটকরাই মুখ ফেরান তখন সঙ্কটে পড়বে এলাকার অর্থনীতি। তাই সকলকে সচেতন করতে একটি পদযাত্রার আয়োজন করেছিল রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। হোটেল ব্যবসায়ী ও দোকানিদের সচেতন করাই ছিল এর লক্ষ্য।

    পর্ষদ আয়োজিত এই পদযাত্রায় যোগ দিয়েছিলেন ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকরা, দিঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ, হোটেল ব্যবসায়ীদের সংগঠন ও পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যরা। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও এই পদযাত্রায় যোগ দেয়।

    সমুদ্রের ধারে বিভিন্ন জায়গায় মাইক লাগিয়ে তার সাহায্যেও প্রচার করা হয় কী ভাবে দিঘাকে দূষণমুক্ত রাখা যাবে। প্লাস্টিক তো বটেই, থার্মোকলের থালাবাটি ব্যবহারও না করার জন্য ব্যবসায়ীদের কাছে আবেদন করা হয়। বর্জ যাতে সমুদ্রে না পড়ে সে ব্যাপারেও পদক্ষেপ করতে বলা হয় মূলত হোটেল ব্যবসায়ীদের।

    দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের সুশীলকুমার তামিলী বলেন, “কেউ যদি সিঙ্গল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার করে ধরা পড়েন, তা হলে তাঁকে পুলিশে দেওয়া হবে। সেটা মোটেই কোনও ব্যবসায়ীর পক্ষে সম্মানজনক হবে না। তাই তাঁদের সতর্ক করা হচ্ছে। নিজেদের স্বার্থেই তাঁদের উচিত এই পর্যটনকেন্দ্রকে প্লাস্টিকমুক্ত রাখা।”

    রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্যদের কর্মীসংখ্যা কম, তাই তাঁরা সব পেশার, সব বয়সের মানুষকে নিয়ে জনমত গড়ে তুলতে চাইছেন, যাতে দিঘাকে দূষণমুক্ত রাখতে প্রত্যেকে উদ্যোগী হন। শুধু জরিমানা করে কোনও লাভ হবে না সে কথা তাঁরাও জানেন। যাঁরা এই ধরনের প্লাস্টিকের প্যাকেট বিক্রি করছেন এবং এই ধরনের প্যাকেট ক্রেতাদের দিচ্ছেন, তাঁদের সচেতন করে প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করতে চান পর্ষদের লোকজন।

    জন ফ্রাঙ্ক স্নাইথ নামে এক সাহেব যখন ১৯২৩ সালে দিঘায় এসে বসবাস শুরু করেন, তখন এই জায়গার অন্য সৌন্দর্য ছিল। কংক্রিট ও কোলাহল তা গ্রাস করেছে। সেই আদিমতা ফিরে পাওয়া কোনও দিনও আর সম্ভব নয়। তবে এলাকার মানুষ একযোগে চেষ্টা করলে এলাকাটিকে দূষণমুক্ত রাখা অনেকাংশেই সম্ভব।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More