শুক্রবার, এপ্রিল ২৬

শবরীমালায় মহিলাদের ঢুকতে বাধা নেই, সবাইকে চমকে দিয়ে সুপ্রিম কোর্টে জানাল মন্দির বোর্ড

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত সেপ্টেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, শবরীমালা মন্দিরে মন্দিরে কমবয়সী মহিলাদের ঢুকতে না দেওয়ার নীতি সংবিধানবিরোধী। রায় পুনর্বিবেচনা করার জন্য অনেকে আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টে। সেই আবেদনের ওপরে শুনানি ছিল বুধবার। এদিন আগের অবস্থান থেকে সরে এসে আদালতে মন্দির বোর্ড বলে, তারা মন্দিরে সব বয়সের মহিলাদের প্রবেশের পক্ষে।

এর আগে বোর্ড বলেছিল, মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশ করতে দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ সেজন্য যে পরিকাঠামো ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা লাগবে তা মন্দিরে নেই। এদিন সবাইকে চমকে দিয়ে ত্রিবাঙ্কুর দেবস্থানম বোর্ড বলে, মন্দিরে প্রত্যেকের প্রবেশের অধিকার আছে। বিচারপতি ইন্দু মলহোত্র প্রশ্ন করেন, বোর্ডের আগের অবস্থান পালটে গেল কেন? বোর্ডের কৌঁসুলি জবাব দেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আদালতের রায়কে সম্মান করে চলব। এর আগে সেপ্টেম্বরে বিচারপতি ইন্দু মলহোত্র বলেছিলেন, সতীদাহের মতো কুপ্রথা বাদে অন্যান্য ঐতিহ্য নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ করা সম্ভব নয়।

এদিন কেরল সরকার আদালতে জানায়, সেপ্টেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তা পুনর্বিবেচনা করার প্রয়োজন নেই। শবরীমালা মন্দিরে ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সী মহিলাদের ঢুকতে দেওয়া হয় না। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট বলে, যে কোনও প্রথাকে সংবিধানে প্রদত্ত মৌলিক অধিকার মেনে চলতে হবে। কোনও প্রথা যদি মৌলিক অধিকারের বিরোধী হয়, তা চালু রাখা যাবে না।

যে সংগঠনগুলি মন্দিরে সব বয়সের মহিলাদের প্রবেশের পক্ষে তাদের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন ইন্দিরা জয়সিং। তিনি বলেন, ঈশ্বর সবাইকেই গ্রহণ করেন। তিনি ভেদাভেদ করেন না।

সুপ্রিম কোর্টের সেপ্টেম্বরের রায় নিয়ে মোট ৬০ টি আবেদন জমা পড়েছিল। তার বেশিরভাগই কমবয়সী মহিলাদের প্রবেশাধিকারের বিরুদ্ধে। তাদের পক্ষ থেকে সওয়াল করা হয়, আয়াপ্পা দেবতা চিরকুমার। শবরীমালায় যে ভক্তরা যান, তাঁরা প্রচলিত প্রথার বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলেন না। বরং তা মেনে নেন।

সুপ্রিম কোর্ট রায় দেওয়ার পরে গত কয়েক মাসে মাত্র দু’জন মহিলা ওই মন্দিরে ঢুকতে পেরেছেন। অপর যে মহিলারা ঢুকতে চেষ্টা করেছিলেন তাঁদের ভক্তদের বাধায় পিছিয়ে আসতে হয়েছে। কেরলে বিরোধী কংগ্রেস ও বিজেপি সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কেরলের বাম সরকারকে বিদ্রুপ করে বলেন, আমরা জানি, কমিউনিস্টরা ভারতের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও আধ্যাত্মিকতার বিরোধী। আমাদের অবস্থান এক্ষেত্রে পরিষ্কার। আমরা কেরলের সংস্কৃতির পক্ষে।

Shares

Comments are closed.