সবার জন্য ন্যূনতম আয়, ১৯ শের ভোটের আগে খয়রাতির প্রকল্প মোদীর?

১৪

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দারিদ্রসীমার নীচে থাকা মানুষ ও বেকারদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে পোঁছে যাবে হাজার পাঁচেক টাকা। সূত্রের খবর ফেব্রুয়ারি মাসে অন্তর্বতীকালীন বাজেটে এমন ঘোষণা করতে পারে কেন্দ্র।

নয়া দিল্লি সূত্রের খবর, ফেব্রুয়ারি মাসে অন্তর্বতীকালীন বাজেটে ‘‘ন্যূনতম সাধারণ আয়’ বা ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকামের ঘোষণা করার কথা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে সরকার।

সকলের জন্য আয় বা ন্যূনতম সাধারণ আয়ের ধারণার জনক ক’দিন আগেই মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টার পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া অরবিন্দ সুব্রহ্মণ্যন। নীতিগত ভাবে এই প্রকল্পে দেশের সকলকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট একটা টাকা দেওয়ার কথা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই শুধুমাত্র দারিদ্রসীমার নীচে বসবাসকারী এবং বেকারদের জন্য এই প্রকল্প চালু করা যায় কি না তা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।

এমনিতেও, মাত্র কয়েকদিন আগেই গোবলয়ের তিন রাজ্যে পরাজিত হয়েছে বিজেপি। চাঙ্গা রাহুল গান্ধীর কংগ্রেস ও অন্য বিরোধী দলগুলোও। নোটবন্দি জিএসটি নিয়ে ক্ষুব্ধ ব্যবসাদাররা। দেশ জুড়ে তুঙ্গে কৃষক অসন্তোষও। লোকসভা ভোটের দিনক্ষণের ঘোষণা আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা। সামান্য কয়েক মাসে দেশে বিমুখ জনতাকে বিজেপিতে ফেরাতে পারা যাবে কি আদৌ? এই প্রশ্নও তুলছিলেন অনেকে।

অর্থনৈতিক মহলের অনেকেই অনুমান করেছিলেন, এমন পরিস্থিতিতে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের কেন্দ্রীয় বাজেটে জনদরদী ও দরিদ্রদরদী নীতি ঘোষণা করতে পারে মোদী সরকার।

এখন বোঝা যাচ্ছে, সেই বাজেটে বিজেপি বিমুখ জনতার মন ফেরাতে, সবার জন্য ন্যূনতম আয়ই হতে পারে নরেন্দ্র মোদীর ঝাঁপি থেকে বার হওয়া জাদু কি ঝাপ্পি।

বিজেপির ভেতরে অনেকেই অবশ্য আগ্রহী এই প্রকল্প নিয়ে। তাঁদের বক্তব্য, তিন রাজ্যে কংগ্রেস জিতেছে বলে এমন ভাবার কোনও কারণ নেই যে বিজেপি সামনের লোকসভা নির্বাচনে পর্যদুস্ত হবে। কিন্তু তার পরেও ভাবনার একটা জায়গা থেকেই যায়। দেশের গ্রামীন ও কৃষিভিত্তিক জনতাকে খুশি করার জন্য দরিদ্রদরদী নীতি নেওয়ার অনেক জায়গা আছে আসন্ন বাজেটে। আর সে ক্ষেত্রে এই সবার জন্য ন্যূনতম আয়ের প্রকল্পের ঘোষণা রাজনৈতিক কিস্তিমাত করতে পারে।

সদ্য হেরে যাওয়া রাজস্থানে, বিধানসভা নির্বাচনের ইস্তাহারেও এই প্রকল্পের উল্লেখ করেছিল বিজেপি। বেকারদের মাসে পাঁচ হাজার টাকা অবধি অনুদানও দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল সেখানে।

ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে উন্নত দুনিয়ার দেশগুলোয়। কানাডা বা সুইৎজারল্যান্ডের মতো কিছু দেশে এর পাইলট প্রকল্পও নেওয়া হয়েছে।

কিছুদিন আগেই এক সাক্ষাৎকারে সুব্রহ্মণ্যন জানিয়েছিলেন, এই প্রকল্প নিয়ে খুবই আগ্রহী বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার। এই নীতি চালু করার ব্যাপারে প্রাথমিক ভাবে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্য সরকারও।

তবে এমন কোনও প্রকল্প এই দেশে চালু করার বিরোধিতা করেন অনেকে। তাঁদের যুক্তি, এমন কোনও প্রকল্প চালু হলে লোকে আর কাজ করতে চাইবে না।

সুব্রহ্মণ্যন অবশ্য সেই যুক্তি মানতে রাজি নন। তিনি বলছেন এই প্রকল্পের মাধ্যমে দারিদ্রসীমার অনেক নীচে অবস্থিতদের শুধুমাত্র দারিদ্রসীমায় পোঁছতে সাহায্য করা হবে। ফলে নিজেদের রোজগার বাড়াতে তাঁরা আর কোনও কাজ করতে চাইবেন না, এমন ভাবাটা ঠিক নয়।

অর্থনীতিবিদের অনেকেই অবশ্য সন্দিহান এই প্রকল্প নিয়ে। সুব্রহ্মণ্যনের হিসেবে গরিবদের দারিদ্রসীমার উপরে আনার জন্য ৭,৬২০ টাকা করে দিতে গেলে খরচ জিডিপি-র ৫%। অর্থাৎ প্রায় ৬ থেকে ৭ লক্ষ কোটি টাকা। সরকার এত টাকার জোগান দেবে কোথা থেকে, সেই প্রশ্ন তাঁদের অনেকেরই।

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ভাঁড়ারে থাকা ৩.৬ লক্ষ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই দাবি করছে কেন্দ্র। সেই টাকা দেওয়া নিয়ে অর্থমন্ত্রক ও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের শীর্ষ কর্তাদের মধ্যে গণ্ডগোলও হয়েছে যথেষ্ট। উর্জিত পটেলের ইস্তফার পর, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের শীর্ষ পদে এখন মোদী ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন আমলা শক্তিকান্ত দাস।

আসন্ন লোকসভা ভোটে মোদী ম্যাজিক অক্ষুণ্ণ রাখতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া সেই টাকা দিয়েই কি জনদরদী, দরিদ্রদরদী এই খয়রাতির প্রকল্প চালু করতে চলেছে কেন্দ্র? এমন জল্পনাই কিন্তু ছড়াচ্ছে লুটিয়েনের দিল্লিতে।

আরও পড়ুন

ভোটের আগে আরও সস্তা হতে পারে বহু জিনিস, মধ্যবিত্তকে খুশি করতে কর শূণ্য করার ইঙ্গিত জেটলির

ভোটের আগে কমতে পারে ফ্ল্যাটের দাম, দেখুন কী বললেন জেটলি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More