এর পর সংসদ চালাতে পারবেন তো নরেন্দ্র মোদী!

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

শঙ্খদীপ দাস

রাজনীতির তাওয়ায় এখনও কর্নাটক ফুটছে। তবু গোড়ায় অন্য কিছু প্রসঙ্গে আসি।

এক, সোমবার কলকাতায় ডিজেলের দাম ছিল ৭০ টাকা ৩৭ পয়সা। পেট্রোলের দাম ৭৬ পয়সা কম ৮০ টাকা। দুই, রবিবার রাতে জম্মু কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপার থেকে প্রবল গুলি বৃষ্টিতে বিএসএফের এক জওয়ান মারা গেছেন। যুদ্ধবিরতির কথা বলেও ইসলামাবাদের ধোঁকা দেওয়া অব্যাহত। তিন, নোটবন্দীর গুঁতো এখন পুরোপুরি সামলে উঠতে পারেনি দেশের অর্থনীতি। বৃদ্ধির দর নিয়ে অনেক অনেক শব্দ, বক্তৃতা ও ডেসিবেল খরচের পরেও তা সাত শতাংশের আশপাশেই ঘোরাঘুরি করছে। চার, কাজের সুযোগ বাড়েনি। গ্রামে মজুরি বৃদ্ধির হার সাম্প্রতিক কালে রেকর্ড কম। পকোড়া ভাজাকেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে বোঝানোর মরিয়া চেষ্টা চলছে। পাঁচ, আইপিএল কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত ললিত মোদী বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের কল্যাণে ভিসা পেয়ে সেই যে পালিয়েছেন, এখনও বেপাত্তা। বিজয়মাল্য এখনও বিলেতেই বিরাজমান। এবং নীরব মোদীও কোথাও একটা ঘাপটি মেরে রয়েছেন, তাঁর খোঁজ নেই।

এই তালিকা আরও লম্বা করতে চাইলে করাই যায়। কিন্তু খামোখা ক্যালোরি না পুড়িয়ে সহজ প্রশ্নটি করে ফেলা যাক। কী বলা যায় একে?  নীতিপঙ্গুতা নয়! কেন্দ্রে কোনও একটি দলকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে বিনিময়ে তা হলে কী পেল মানুষ। রবিবার সকালে রেডিও-র সামনে ঠায় বসে নরেন্দ্র মোদীর মনের কথা শুনেই বা লাভ হল কী?

ধরে নেওয়া যাক, কেন্দ্রে এখনও কংগ্রেসের নেতৃত্বে জোট সরকার চলছে। এখনও গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কী ভাষায় আক্রমণ করতেন তিনি?

এ বার পাঁচ বছর আগের দিনগুলোতে এক বার ফিরে তাকানো যাক। টুজি কাণ্ডে ১ লক্ষ ৭৬ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ এনে কেন্দ্রবিরোধী প্রচারে তখন সরগরম জাতীয় রাজনীতি। প্রচারের মূল কাণ্ডারী আরএসএস এবং বিজেপি। অন্না হাজারে নামক এক বর্ষীয়ান সমাজকর্মীকে তখন সামনে এনে লোকপাল বিল পাশের হুজুগ তুলে অনশন মঞ্চে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। (অন্নার বয়স এখন আরও বেড়েছে, দৃষ্টিশক্তি হয়তো কমে এসেছে তাই লোকপাল আইন যে ঘুমিয়ে রয়েছে এবং মোদী সরকারের চোখে হীরের গুঁড়ো ছিটিয়ে নীরব মোদী পালিয়ে গিয়েছেন, তা দেখতে পাচ্ছেন না।) যাই হোক, সে সবের মধ্যেই তখন এনে ফেলা হয়েছে কয়লা খনি বন্টন নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ। বলা হচ্ছে, টুজির থেকে বড় দুর্নীতি হয়েছে। এবং ধুয়ো উঠেছে মনমোহন সিংহকেই কাঠগড়ায় তোলার। আর এ সবের মাঝে বিষ ফোঁড়ার মতো গজিয়ে উঠেছে তেল সঙ্কট। অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলার ছাপিয়ে গিয়েছে। (এখন অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলারের একটু বেশি।) ফলে ভর্তুকির বোঝা কমানো ছাড়া সরকার উপায়ান্তর খুঁজে পাচ্ছে না। আবার তা করতে গেলে ফোঁস করছেন শরিকরা। এমনকী খুচরো ব্যবসায় প্রত্যক্ষ বিদেশি লগ্নির মতো সংস্কার ও ডিজেলের দাম বাড়ার প্রতিবাদে সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সে দিন সংসদ অচল করে দিয়েছিল বিজেপি। যে প্রধানমন্ত্রী সংসদে প্রবেশের প্রথম দিনে সিঁড়িতে মাথা ঠেকিয়েছিলেন (পরে যদিও সংসদের অধিবেশন চলার সময় আকছার অনুপস্থিত থেকেছেন), তাঁর দলই সংসদ স্তব্ধ করে দেওয়াকেই বিরোধী রাজনীতির সেরা অস্ত্র বলে মনে করেছিল। এমনকী রাজ্যসভায় তখনকার বিরোধী দলনেতা অরুণ জেটলি সগৌরবে বলতেন সে কথা।

এখন প্রশ্ন, সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশন এবং তার পর চলতি মেয়াদে বাকি আর দুটি অধিবেশন কি চালাতে পারবেন প্রধানমন্ত্রী? বিরোধীরা কি চলতে দেবেন সংসদ?

সন্দেহ নেই গুজরাতে কংগ্রেস ভাল ফল করার পর থেকেই অক্সিজেন পেয়েছে কংগ্রেস। এর পর কর্নাটকে পিছিয়ে পড়ে রাহুল গান্ধীর কিছুটা দমে যাওয়ারই কথা ছিল। কিন্তু কর্নাটকে ভেল্কি দেখাতে গিয়ে অমিত শাহ-রা যে ভাবে হাত পুড়িয়েছেন, তার পর রাতারাতি ‘বাজিগর’ বানিয়ে দেওয়া হয়েছে রাহুল গান্ধীকে। বাঘের পিঠে উঠে পড়েছেন তিনি। একই ভাবে রে রে করে উঠেছেন বিরোধী থেকে শুরু করে শরিকদের কেউ কেউ। আসন্ন সংসদের অধিবেশনে কি এঁরা গুড বয় হয়ে বসে থাকবেন? দুর্নীতি দমনের কথা বলে যে ৫৬ ইঞ্চির বেলুন ফোলানোর চেষ্টা হয়েছিল, সংসদ চত্বরের মধ্যেই তা ফুটো করে দেওয়ার চেষ্টা কি করবেন না?

কেউ কেউ অবশ্য এখনও আশাবাদী। বলছেন, নিশ্চয়ই মোকাবিলার পথ ভেবে রেখেছেন মোদী মশাই। ওনাকে এতোটা আন্ডার এস্টিমেট করার কোনও কারণ নেই। হয়তো তাই। দেখা যাক।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More