শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১

অন্য দলে গেলেই ছ’বছরের জন্য বহিষ্কার, শৃঙ্খলার ছক ভেঙে শোভনে নীরব তৃণমূল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূলের হলটা কী?

জনপ্রতিনিধিরা দল ছেড়ে অন্য দলে গেলেই পার্থ চট্টোপাধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলন করে তাঁকে ছ’বছরের জন্য বহিষ্কার করবেন, এটাই ছিল এত দিন দস্তুর । কিন্তু শোভন চট্টোপাধ্যায় বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পর সাত রাত্রি কেটে গিয়েছে। তা-ও তৃণমূল তাঁকে নিয়ে সরকারি ভাবে একটা বিবৃতিও দিল না।

তৃণমূলের মহাসচিব পার্থবাবু বলেছেন, দল ওঁকে পাত্তাই দেবে না। সূত্রের খবর, কালীঘাটকে পার্থবাবুই বুঝিয়েছেন, শোভনকে নিয়ে বেশি মাথা ঘামানোর দরকার নেই। ওঁর বিরুদ্ধে যা বলার সংবাদমাধ্যমে স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়ই বলবেন।

সে যাই কৌশলই নিক তৃণমূল, অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছে, কোথায় গেল তৃণমূলের শৃঙ্খলা? কোথায় গেল শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি?

সৌমিত্র বিজেপি-তে যাওয়ার আগেই তাঁকে বহিষ্কার করেছিল তৃণমূল। বোলপুরের গতবারের সাংসদ অনুপম হাজরার ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছিল। মুকুল রায়কেও বহিষ্কার করেছিল তপসিয়ার তৃণমূল ভবন। মুকুল-পুত্র শুভ্রাংকে তো তড়িঘড়ি সাসপেন্ড করেছিল শাসক দল। অর্জুন সিং গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়ার দেড় ঘণ্টার মধ্যে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে পার্থবাবু জানিয়েছিলেন, “অর্জুনকে ছ’বছরের জন্য বহিষ্কার করল দল।”

কিন্তু শোভনের ক্ষেত্রে সে সব বেমালুম উধাও। যে শোভন এই সে দিনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠদের মধ্যে ছিলেন একেবারে উপরের দিকে, সেই স্নেহের কাননই এখন.দিদির বিরুদ্ধে রণংদেহি। তবু তৃণমূল চুপ।

পর্যবেক্ষকদের মতে, অন্য দলে চলে যাওয়ার পর সাসপেন্ড বা বহিষ্কারের কোনও রাজনৈতিক গুরুত্ব তো নেই-ই,উল্টে এ সব সিদ্ধান্ত লোক হাসানোর.রসদ হয়ে ওঠে। তাঁদের বক্তব্য, তৃণমূল সেই লোক হাসানোটাই বন্ধ করতে চাইছে।

Comments are closed.