শুধু ইমাম বা পুরোহিতরাই বা কেন, এটা কি সংকীর্ণ ধর্মীয় রাজনীতি নয়?

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

রাজ্যে বিধানসভা ভোট হতে আর এক বছরও বাকি নেই। করোনা অতিমহামারী না হলে এতদিনে রাজনীতির উত্তাপ চড়চড়িয়ে বাড়ত। ভেতরে ভেতরে অবশ্য প্রতিটি দলই নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যে সোমবার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সামনের অক্টোবর মাস থেকেই দরিদ্র পুরোহিতদের মাসিক সাম্মানিক ভাতা দেওয়া হবে ১ হাজার টাকা। যে পুরোহিতদের ঘরবাড়ি নেই, তাঁদের বাংলা আবাস যোজনায় বাড়িও বানিয়ে দেওয়া হবে।

মমতা বলেন, আট হাজার দরিদ্র পুরোহিত তাঁর কাছে ভাতার জন্য আবেদন করেছিলেন। তাঁরা পুজোর মাস থেকেই ভাতা পাবেন। এছাড়া সনাতন হিন্দু ধর্মের তীর্থস্থান নির্মাণের জন্য কোলাঘাটে জমিও দেওয়া হবে এক টাকায়।

আরও পড়ুন: চার মাসের বেতন বাকি, কাজ বন্ধ করলেন কোভিড হাসপাতালের সাফাই কর্মীরা

২০১২ সালের এপ্রিল মাসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার রাজ্যের ইমামদের জন্য ২৫০০ টাকা ও মুয়েজ্জিনদের জন্য ১ হাজার টাকা করে সাম্মানিক বৃত্তি ঘোষণা করে। রাজ্য সরকার যে বিজ্ঞপ্তিতে ওই ঘোষণা করেছিল, ২০১৩ সালে কলকাতা হাইকোর্ট তা নাকচ করে দেয়। বর্তমানে ওয়াকফ বোর্ড ইমাম ও মুয়েজ্জিনদের ভাতা দিয়ে থাকে।

অতীতে বিজেপি বার বার মমতার সরকারকে হিন্দুবিরোধী বলে দাবি করেছে। গত সপ্তাহে বিজেপির সভাপতি জে পি নড্ডাও একই কথা বলেছেন। এবার সরকার পুরোহিতদের জন্য সাম্মানিক ঘোষণা করায় প্রশ্ন উঠেছে, ভোটের দিকে চেয়েই কি মুখ্যমন্ত্রী হিন্দুদের তোয়াজ করছেন?

পুরোহিতদের ভাতা দেওয়ার কথাটা প্রথমবার উঠেছিল গত লোকসভা ভোটের আগে। ২০১৯ সালের অগাস্টে কলকাতায় ‘পুরোহিত র‍্যালি’ করেছিলেন রাজ্যের বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, দরিদ্র পুরোহিতদের ভাতা, বাসস্থান ও স্বাস্থ্যবিমার ব্যবস্থা করা হবে। তার আগে, ২০১৮ সালে তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল ব্রাহ্মণ সম্মেলনের আয়োজন করেন। পুরোহিতদের ভগবৎগীতা বিলি করেন। অর্থাৎ দরিদ্র পুরোহিতদের কিছু পাইয়ে দেওয়ার একটা উদ্যোগ শুরু হয়েছিল আগে থেকেই। এতদিনে সেই উদ্যোগ পূর্ণতা পেল।

সরকার থেকে যদি গরিবদের মাসে মাসে কিছু সাহায্য করে তাতে আপত্তির কিছু নেই। কিন্তু প্রশ্ন হল, বেছে বেছে ইমাম বা পুরোহিতদেরই সাহায্য করা হচ্ছে কেন? এভাবে ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে সাহায্য করা কি উচিত?

পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অন্যতম দরিদ্র রাজ্য। এখানে জনসংখ্যার একটা বড় অংশ দারিদ্রসীমার নীচে বাস করেন। রাজ্যে বার্ষিক গড় মাথাপিছু আয়ও কম। তাঁরা কি দোষ করলেন? তাঁদের কেন সরকার সাহায্য করবে না?

আমাদের সংবিধানে আছে, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিক সমান সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকারী। ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে। ধর্মের ভিত্তিতে যদি সংরক্ষণ না হয়, তাহলে ভাতাই বা দেওয়া যাবে কীভাবে?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দল প্রায়ই বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটে ধর্মের তাস খেলার অভিযোগ করে থাকেন। কিন্তু বিধানসভা ভোটের কয়েকমাস আগে মুখ্যমন্ত্রী এটা কী করলেন? তিনিও কি ধর্মীয় ভাবাবেগকে রাজনীতির স্বার্থে ব্যবহার করতে চাইছেন না?

অতিমহামারীর জেরে এখন বহু সংখ্যক মানুষের জীবনে গভীর সংকট দেখা দিয়েছে। অনেকে চাকরি হারিয়েছেন। লকডাউনে প্রায় সব ব্যবসায়ীই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জীবিকা হারানো মানুষজনের মধ্যে এমন অনেকে আছেন যাঁরা জানেন না কাল তাঁদের বাড়িতে হাঁড়ি চড়বে কিনা। জাতিধর্ম নির্বিশেষে সব দরিদ্র মানুষের কল্যাণের জন্য সরকার পদক্ষেপ নিক। সরকারের পরিচালকরা এই বিপর্যয়ের সময় সংকীর্ণ দলীয় রাজনীতির উর্ধ্বে উঠুন। দেশের মানুষ তাঁদের কাছে এমনটাই আশা করে।

চার মাসের বেতন বাকি, কাজ বন্ধ করলেন কোভিড হাসপাতালের সাফাই কর্মীরা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More