শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১

কেন লাগল এমন আগুন? তদন্তে ঝলসে উঠেছে ন’বছর আগের স্মৃতি, প্রকট হয়েছে সরকারের গা-ছাড়া মনোভাব

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ থেকে ন’বছর আগে ঠিক একই রকম ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছিলেন মানুষ। জায়গা শুধু ছিল আলাদা, চকবাজারের জায়গায় নিমতলি। সেখানকার একটি রাসায়নিক কারখানায় একই ধরনের অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছিলেন শতাধিক মানুষ। তার ন’বছর পরে আবারও ফিরে এল সেই অভিশপ্ত দিন। চকবাজারে দগ্ধে গেলেন অসংখ্য মানুষ।

ন’বছর আগের সেই অগ্নিকাণ্ডের পর পুরনো ঢাকা থেকে বিপজ্জনক রাসায়নিক কারখানা এবং গুদাম সরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হলেও আজ পর্যন্ত তা হয়নি। ফলে তাদের আবারও পড়তে হলো আর একটি ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে। পুরনো ঢাকার এমন ভয়াবহ ধারাবাহিকতা কেন থামানো যাচ্ছে না? এই প্রশ্ন এখন উঠছে।

নিমতলীতে রাসায়নিকের আগুনে পুড়ে বহু মানুষের মৃত্যুর ঘটনার পরে চকবাজারের এক জন বাসিন্দা ক্যামেলিয়া চৌধুরী, পুরনো ঢাকায় রাসায়নিক দ্রব্যের অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন রীতিমতো। কিন্তু সরকার বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো থেকে অনেক প্রতিশ্রুতি শুনলেও, সেই নিমতলির ঘটনার ন’বছর পরেও সে সব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি।

চকবাজারেরই এক বাসিন্দা, নাম প্রকাশ না করতে চেয়ে বললেন, “আমি বাড়িওয়ালা, টাকার লোভে অনেক টাকা আগাম নিয়ে কারখানা ভাড়া দিচ্ছি। উপরতলায় আমি বাড়িওয়ালা থাকছি পরিবার নিয়ে, দোতলায় একটা জুতার কারখানা আর নীচে জুতা তৈরির জন্য আঠার গোডাউন। এটা বড় ঝুঁকি। একটা সিগারেট ধরিয়ে দিলেই তো আগুন লেগে যাবে। পুরনো ঢাকার পুরো ছবিটাই এ রকম। সরকার বা প্রশাসন থেকে এখানে আইন প্রয়োগ না করলে এটা বদলাবে না।”

বস্তুত, পুরনো ঢাকায় যত্রতত্র রাসায়নিক দ্রব্যের কয়েক হাজার গুদাম, কারখানা বা দোকানের বেশির ভাগের কোনও নথি বা অনুমোদন নেই। এই সব ব্যবসায়ী এবং তাদের সহায়তাকারী স্থানীয় লোকজনের ভোটব্যাঙ্কের কারণে সরকার কঠোর কোনও পদক্ষেপ নেয় না বলে মনে করেন অনেকে। ফলে কোনও উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা যায় না। এ ছাড়া ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ বা পরিবেশ দফতরও সে ভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।

গুদামের বা কারখানার অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রেও অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা বা নিরাপত্তা-সহ অনেক শর্ত পূরণ করতে হয় মালিককে। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা হয় না।

রাসায়নিক সমিতির এক সদস্যও বলেন, “আমার মনে হয়, সরকার এবং আমরা কেউই বিষয়টিকে সেভাবে গুরুত্ব দিচ্ছি না। নিমতলির সময়ে তো অভিযান হয়েছিল। আমরারা নীতিগত ভাবেই ঠিক করেছিলাম, আমরা চলে যাব। আমরা কেরানীগঞ্জে সে রকম জায়গাও ঠিক করেছিলাম। কিন্তু নানা আনুষঙ্গিক বিষয় সামলাতে গিয়ে তা হয়ে ওঠেনি।যাঁরা সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন, তাঁরাও আর তা ফলোআপ করেননি।”

এবার চকবাজারে ফের ঘটে যাওা এই অগ্নিকাণ্ডের পরে সরকারি মন্ত্রীরা পুরনো ঢাকার রাসায়নিক ব্যবসা কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর করা-সহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন। দেখা যাক, তার বাস্তবায়ন কতটা হয়।

Comments are closed.