মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৩

ওরা কেন মরে

বাংলার ট্র্যাডিশন বজায় রেখে আবার একটা রক্তাক্ত ভোট। আবার ডজন খানেক মৃত্যু। পুলিশ ও বিভিন্ন পার্টি সূত্রে যে খবর পাওয়া গেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে ভোটের বলি মূলত বিরোধী দলের কর্মীরা হলেও শাসক দলের লোকজনও বাদ যাননি এই তালিকা থেকে।
এই ধরণের মৃত্যুর পরে রাজনৈতিক নেতারা সচরাচর যা বলে থাকেন বা বলতে থাকছেন, তার মধ্যে না ঢুকেও বলা যায় এরা মরে কেন? ২০০৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটে যারা মরেছিল, ১৫ বছর পরে তাঁদের কে মনে রেখেছে? কত পরিবার ভেসে গেছে বাড়ির রোজগেরের আকস্মিক মৃত্যুর বিপর্যয়ে।
সোমবারের এই ভোট নিয়েও আতঙ্ক আশঙ্কা ছিল। কত তর্ক বিতর্ক মামলা মোকদ্দমা হলো। শেষমেশ ঠেকানো গেল না তৈমুর, আরিফ কিংবা ভোলা , তপনদের অকাল ইন্তেকাল।
আবার কত পরিবার এর ফলে পথে বসবে কে জানে। কিন্তু কেন এরা নিজেদের কে বিপন্ন করে? কীসের মোহে বা টানে? কী পায় এরা? যারা এ ভাবে বেঘোরে মরে তারা সকলেই  কি রাজনীতি করার সুবাদে খুব গুছিয়ে নেওয়া লোকজন? যথার্থ বেনিফিশিয়ারি? পার্টি করার মাধ্যমে বেশ সহজলভ্য রোজগার কে ক্রমবর্ধমান ও ধারাবাহিক করার দায় এত বেশি যে পেশী আস্ফালন ও অস্ত্র শানানোর এমন দিন গুলোতে ঝুঁকি নিয়ে হলেও মাঠে নামতেই হয়?
বহু ক্ষেত্রে বা বলা যায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ব্যাপার টা কিন্তু তেমন নয়।
এরা নিতান্তই ছা পোষা, নুন আনতে পান্তা ফুরোনো খেটে খাওয়া মানুষজন, যাদের তাতিয়ে দিয়ে ময়দানে নামিয়ে  দেওয়া হয়। নামিয়ে দিয়ে মজা দেখে, স্বার্থসিদ্ধি করে বড় মেজ সেজ নেতা নেত্রীরা। আর এরা মরে। আর মরার পরেও এই মড়ারা কিছুক্ষণ বেঁচে থাকে, নেতাদের বিবৃতিতে, কেন্দ্রীয় পার্টি অফিসে ঘটা করে ডাকা সাংবাদিক সম্মেলনে। তার পর সব শেষ। লাশকাটা ঘর থেকে ক্ষতবিক্ষত শরীরটা বেরোনোর আগেই সে বিস্মৃতির অতলে। আবার ভোট হবে আসছে বছর। আবার ওরা মরবে। ললাটের লিখন যে!
Shares

Leave A Reply