বুধবার, অক্টোবর ১৬

ট্রাম্পের ভোট প্রচারে কেন মোদী? কেনই বা দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির শর্ত ভাঙলেন প্রধানমন্ত্রী, ঝাঁঝালো সমালোচনা কংগ্রেসের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকায় নির্বাচন আগামী বছর। তার আগে নিজের স্লোগান যেন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধার দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। হিউস্টনের মঞ্চ থেকে পঞ্চাশ হাজার আমেরিকান ভারতীয়ের সমাবেশে ধুয়ো তুললেন, “আব কি বার ট্রাম্প সরকার!”

কিন্তু ঘরোয়া রাজনীতিতে মোদীর এই ভূমিকা নিয়েই ছিঃ ছিঃ শুরু করে দিল কংগ্রেস। সাবেক দলের প্রবীণ নেতা তথা রাজ্যসভায় কংগ্রেস উপদলনেতা আনন্দ শর্মা বলেন, মোদী কি ট্রাম্পের স্টার ক্যাম্পেনার? এটা কী করলেন উনি? দু-দেশের সময়োত্তীর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্কের শর্ত ভাঙলেন প্রধানমন্ত্রী। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।

২০২০ সালে আমেরিকায় ভোট হবে। তার আগে দেখা যাচ্ছে ট্রাম্প সরকারের পক্ষে অ্যাপ্রুভাল রেট এমনিতেই কম,- মাত্র ৪৪ শতাংশ। প্রাথমিক নির্বাচনগুলিতে দেখা যাচ্ছে জো বিডেন, বার্নি স্যান্ডার্স, এলিজাবেথ ওয়ারেন, কমলা হ্যারিসের মতো ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা জিতে যাচ্ছেন।

এমনিতে আমেরিকান ভারতীয়দের বড় অংশ বরাবরই ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছে। ২০১৬ সালের নির্বাচনেও আমেরিকান ভারতীয়দের বেশিরভাগই হিলারি ক্লিন্টনের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। ফলে হিউস্টনে মোদীর মঞ্চে ট্রাম্প উপস্থিত থাকার কথা ঘোষণা করার পর থেকেই আমেরিকার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা তাঁর প্রকৃত উদ্দেশ্য আন্দাজ করতে পারছিলেন।

বস্তুত রবিবার হয়েছেও তাই। হিউস্টনের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে ভাবে ‘আব কি বার, ট্রাম্প সরকার’ বলে স্লোগান তুলেছেন, তাতে পরিষ্কার যে আমেরিকান ভারতীয়দের তিনি কী পরামর্শ দিতে চাইছেন।

মোদীর এই অবস্থান নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন মনমোহন জমানার প্রাক্তন বিদেশ প্রতিমন্ত্রী। আনন্দ শর্মা বলেন, “ভারত বরাবরই কূটনৈতিক ভাবে আমেরিকার দুই-দলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। নয়াদিল্লির কাছে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিক্যানদের সমান গুরুত্ব। কিন্তু মোদী সেই শর্ত ও দু-দেশের গণতান্ত্রিক শর্তকে ভেঙেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদে থেকে আমেরিকার প্রধানমন্ত্রীর প্রার্থীর হয়ে প্রচার করেছেন। এটা শুধু দু-দেশের গণতন্ত্র এবং পারস্পরিক কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর।”

Comments are closed.