কেন ভুটানের দিকে হাত বাড়িয়েছে চিন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

চিন একদিকে পিছোয় তো আর একদিকে এগোয়। প্রথমে তারা লাদাখ সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢুকে পড়ার চেষ্টায় ছিল। তা যখন হল না, তখন হাত বাড়িয়েছে ভুটানের দিকে। ভুটানের পূর্ব সীমান্তে একখণ্ড জমি তারা দখল করতে চায়।

খুব পরিকল্পিতভাবেই চিন লাদাখ সীমান্তে সেনা সমাবেশ ঘটাচ্ছিল কয়েক মাস ধরে। সেনাবাহিনীর জন্য স্থায়ী এবং অস্থায়ী কাঠামোও তৈরি করেছিল। ভারত ব্যাপারটা পছন্দ করেনি, স্বাভাবিক কারণেই। বেশ কিছুদিন ধরে লাদাখে উত্তেজনা সৃষ্ট হয়েছিল। ১৫ জুন রাতে দুই দেশের সেনার সংঘর্ষ হয়। ভারতের ২০ জন সৈনিক শহিদ হন। চিনের কতজন সৈনিক মারা গিয়েছে তারা সরকারিভাবে জানায়নি। তবে যতদূর শোনা যাচ্ছে, তাদের তরফে মৃতের সংখ্যা ৪৫-এর কম নয়।

১৯৬২ সালে ভারত-চিন যুদ্ধের পর থেকে বেজিং কখনও লাদাখে গালওয়ান উপত্যকার ওপরে দাবি জানায়নি। কিন্তু সম্প্রতি তারা বলছে, সীমান্তের ওই জায়গাটা চিনের অংশ। চিনের এই আগ্রাসী ভূমিকার নিন্দা করেছে আমেরিকা। পরে জাপানও ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে। চিনা নেতারা বুঝেছেন, লাদাখে বেশি বাড়াবাড়ি করলে ফল খারাপ হবে। আন্তর্জাতিক মহলে তাঁরা একঘরে হয়ে পড়বেন। তাই সেনা সরিয়ে নিচ্ছেন।

চিনের আর একটি গোলমেলে দাবির কথা শোনা যায় জুনের একেবারে শুরুতেই। জুন মাসের ২-৩ তারিখে গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফেসিলিটি কাউন্সিলের বৈঠকে বেজিং-এর প্রতিনিধি আচমকাই ভুটানের সাকতেং অভয়ারণ্যের ওপরে দাবি জানিয়ে বসেন। গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফেসিলিটি কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্যে আছে ভারত, চিন, বাংলাদেশ, ভুটান, মলদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা। কাউন্সিলের বৈঠকে কথা হচ্ছিল, সাকতেং অভয়ারণ্যের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হবে কিনা। চিনের প্রতিনিধি বলে বসেন, যেহেতু ওই অঞ্চলটি নিয়ে চিন ও ভুটানের মধ্যে বিরোধ আছে তাই অর্থ বরাদ্দ না করাই ভাল।

চিনের কথা শুনে আকাশ থেকে পড়েন ভুটানের প্রতিনিধি। অন্যান্য দেশের দূতরাও কম অবাক হননি। ভুটানের পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের কিছু পরিমাণ জমি নিয়ে চিনের সঙ্গে বিরোধ আছে ঠিকই, কিন্তু সাকতেং অভয়ারণ্য তো ভুটানের পূর্বদিকে অবস্থিত। চিন আগে কখনও ওই অঞ্চলটি নিজের বলে দাবি করেনি।

পরে ভুটান দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দেয়, চিনের কথা অসত্য। সাকতেং অভয়ারণ্য ভুটানের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। তা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ নেই। কিন্তু চিন অত সহজে ছাড়ার পাত্র নয়। ভুটান তো উপলক্ষ। তার আসল লক্ষ্য ভারত। সাকতেং অভয়ারণ্য ভুটানের যে জেলায় অবস্থিত, তার নাম ত্রাশিগাং। সেই জেলার সীমান্ত টপকালেই ভারতের অরুণাচল প্রদেশ।

চিন বেশ কিছুদিন ধরে বলে আসছে, অরুণাচল প্রদেশ তাদের দেশের অংশ। ২০১৪ সালে চিনের যে সরকারি ম্যাপ প্রকাশিত হয়েছে, তাতেও অরুণাচল প্রদেশকে চিনের অংশ বলেই দেখানো হয়েছে। চিনের ঔদ্ধত্য সম্প্রতি এত বেড়েছে যে, ভারতের কোনও রাষ্ট্রপ্রধান অরুণাচল প্রদেশে গেলে তাদের গোঁসা হয়। ভারত সীমান্ত বিরোধে উস্কানি দিচ্ছে বলে তারা বিবৃতি দেয়।

সেই পাঁচের দশকে চিন যখন তিব্বত দখল করে তখনই নাকি চিনের শীর্ষ নেতারা স্থির করেছিলেন, আরও পাঁচটি জায়গা দখল করতে হবে। লাদাখ, নেপাল, ভুটান, সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশ। দীর্ঘ ছয় দশক ধরে তারা অপেক্ষা করেছে। তারপর করোনা অতিমহামারীর সুযোগে ঢুকে পড়তে চাইছে ভারতের ভেতরে। ভেবেছে, অতিমহামারী ঠেকাতে দিল্লি এখন নাজেহাল। কেউ তাদের বাধা দিতে পারবে না।

এই ধারণা যে ভুল ছিল, নিশ্চয় চিনে নেতারা বুঝতে পেরেছেন। আমাদের সৈনিকরা জীবন দিয়ে ঠেকিয়ে দিয়েছেন চিনকে। দিল্লি থেকে চিনের পণ্য বর্জন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিন সরকার বিপাকে পড়ে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার কথা বলছে। তাদের সেনা গালওয়ান উপত্যকা থেকে সরতে শুরু করেছিল আগেই। এবার হটস্প্রিং এলাকা থেকেও সরছে। কিন্তু তাতে খুব একটা ভরসা পাওয়ার কিছু নেই। কারণ ফের দু’-এক কিলোমিটার এগিয়ে আসতে তাদের বেশি সময় লাগবে না। একইসঙ্গে সাকতেং অভয়ারণ্য নিয়েও তারা ভুটানের সঙ্গে বড় ধরনের গোলমাল পাকিয়ে তোলার চেষ্টায় থাকবে।

চিন বরাবরই আগ্রাসী স্বভাবের। সুতরাং লাদাখ সীমান্তে যেমন আরও সেনা মোতায়েন করতে হবে, তেমনই দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে হবে ভুটানের পাশে। চিন যেন কোনভাবেই সাকতেং অভয়ারণ্যে ঢুকতে না পারে।

এই সঙ্গে চিনা পণ্য বয়কট অভিযানও চালিয়ে যেতে হবে। চিনের মতো শত্রুকে শুধু হাতে মারাই যথেষ্ট নয়। তাদের ভাতেও মারতে হবে। তাহলে বেজিং ভয় পাবে। আর ভারতের জমিতে হাত বাড়ানোর সাহস পাবে না।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More