অসমের ধাঁচে অন্যান্য রাজ্যেও এনআরসি? সরব বিজেপির কয়েকজন নেতা, কিন্তু অমিত শাহ চুপ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত শনিবার অসমে প্রকাশিত হয়েছে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা। ১৯ লক্ষ মানুষের নাম বাদ গিয়েছে তালিকা থেকে। এরই মধ্যে দিল্লি, তেলঙ্গানা, ওড়িশার মতো রাজ্য থেকে দাবি উঠেছে, সেখানেও এনআরসি করতে হবে। লক্ষণীয় বিষয় হল, যিনি একসময় জাতীয় নাগরিকপঞ্জি নিয়ে সবচেয়ে সরব ছিলেন, সেই বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ আর মুখ খুলছেন না। অমিতের অনুগামী বলে পরিচিত অসমের মন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা তো স্পষ্টই বলেছেন, এইভাবে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা যাবে না।

    অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জিতে নাম তোলার জন্য আবেদন করেছিলেন ৩ কোটি ২৯ লক্ষ মানুষ। ৪০ হাজার সরকারি কর্মচারী এনআরসি তৈরি করেছেন। তাঁদের সাহায্য করেছেন ৮ হাজার ২০০ চুক্তিভিত্তিক কর্মী। সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা। একটি রাজ্যে নাগরিকপঞ্জি তৈরি করতেই যদি অত খরচ হয়, তাহলে দেশ জুড়ে করতে হলে কী বিপুল খরচ হবে, তা ভেবে শঙ্কিত হচ্ছেন অনেকে।

    দিল্লি বিজেপির সভাপতি মনোজ তেওয়ারি জোর গলায় এনআরসি-র হয়ে সওয়াল করছেন। তিনি বলেন, দিল্লিতে বিরাট সংখ্যক বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা রয়েছে। তারা নানা অপরাধমূলক কার্যকলাপে জড়িত। এই অনুপ্রবেশকারীরা রাজধানীর পক্ষে বিপজ্জনক। এখানে যাতে শীঘ্র এনআরসি করা হয়, সেজন্য আমি অমিত শাহের কাছে আবেদন জানাব।

    বিজেপির সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেন, অনুপ্রবেশকারীরা সারা ভারতের পক্ষেই বিপজ্জনক। দেশের স্থিতিশীলতা ধ্বংস করার জন্য তারা ষড়যন্ত্র করেছে। সারা দেশেই নাগরিকপঞ্জি তৈরি করে তাদের বিদায় করা উচিত। তেলঙ্গানার বিজেপি বিধায়ক টি রাজা সিং বলেন গ্রেটার হায়দরাবাদে বহু সংখ্যক বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা বেআইনিভাবে বসবাস করে। তারা শহরের নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক। এখানে সেপ্টেম্বরেই এনআরসি চালু করা উচিত। বিহারে এনআরসি-র দাবি তুলেছে বিজেপির ছাত্র সংগঠন এবিভিপি। ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডেও জাতীয় নাগরিকপঞ্জি তৈরির দাবি উঠেছে।

    অন্যদিকে অসমে এনআরসি নিয়ে অসন্তুষ্ট বিজেপি নেতাদের একাংশ। চূড়ান্ত নাগরিকপঞ্জি প্রকাশের এক মাস আগেই অসমের পরিষদীয় মন্ত্রী চন্দ্রমোহন পাটোয়ারি বলেছিলেন, অনেক বিদেশির নাম ভুল করে নাগরিকপঞ্জিতে ঢোকানো হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, অসমের বাংলাদেশ লাগোয়া জেলাগুলিতে অপেক্ষাকৃত কম মানুষ নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ পড়েছেন।  মোট যতজন নাগরিকপঞ্জিতে নাম তোলার জন্য আবেদন করেছিলেন, তার মধ্যে বাদ পড়েছেন ১২.১৫ শতাংশ। কিন্তু সীমান্তবর্তী দক্ষিণ সালমারা জেলার ৭.২২ শতাংশ, ধুবড়ি জেলায় ৮.২৬ শতাংশ ও করিমগঞ্জের ৭.৫৭ শতাংশ বাদ পড়েছেন। যদিও ওই সব জেলায় সাম্প্রতিক অতীতে জনসংখ্যা বেড়েছে অস্বাভাবিক দ্রুত হারে।

    অন্যদিকে আদিবাসীরা ভারতের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও অনেকে ঠিকমতো নথিপত্র দিতে পারেননি। ফলে কার্বি আংলং ও তিনসুকিয়া জেলার মতো আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে এনআরসি থেকে বাদ পড়া মানুষের সংখ্যা যথেষ্ট বেশি। এর ওপরে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অনেকের বক্তব্য, অনুপ্রবেশকারীদের কেউ কেউ অসাধু উপায়ে নাগরিকপঞ্জিতে নাম তুলেছে।

    পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখনই অন্যান্য রাজ্যে এনআরসি করতে চাইবে কিনা সন্দেহ আছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বা অমিত শাহের মতো নেতা এখন সম্ভবত কিছুদিন অপেক্ষা করে দেখবেন, অসমের ওপরে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির কি প্রভাব পড়ে। তারপর অন্যান্য রাজ্য সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More