বুধবার, মার্চ ২০

দায়িত্ব কার?

ইনফোসিস খ্যাত মোহনদাস পাই এই সেদিন হঠা একটা বোমা ফাটিয়ে বসলেন। বাংলাকে তীব্র আক্রমণ। ট্যুইটারে সটান বললেন, এলিট আর উচ্চ শিক্ষিত বাঙালিরা সবাই বাংলা ছেড়ে চলে গিয়ে নতুন ভারতবর্ষ গড়ছেন। আর বাংলা ক্রমশ কোন গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছে।

এমন একটা চাঁচাছোলা কথার কোনও প্রতিক্রিয়া হবে না, তা কি হয়?

কিছু বঙ্গ সন্তান প্রতিবাদ করেছেন। এক জন তো বলেছেন, বাংলা ছেড়ে যাচ্ছে কোথায়?

বরং বাংলায় তো এখনও বাইরে থেকে মানুষ আসছেন আস্তানা গাড়তে। সে বেলা?

এই মোহনদাস হয়তো গান্ধী নন, কিন্তু মোহনদাস তো বটে। তাই তিনিও ছোড়নেওয়ালা নন। তিনি পাল্টা কটাক্ষ করলেন, “ভাই আসছে কারা? হতদরিদ্র বিহারী, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী আর রোহিঙ্গারা।“

সত্যি কথা বলতে কী এই তর্ক-বিতর্ক তো নতুন নয়। বাংলায় শিল্প নেই, ব্যবসা নেই, চাকরি নেই, বাংলা শ্মশান হয়ে গেল—এ সব কথা বার্তা কি বাঙালির নিজস্ব আড্ডাতেও হয়না? যাঁরা বিশ্বাস করেন যে বাংলা রসাতলে যাচ্ছে, শুকিয়ে যাচ্ছে, তাঁদের একদল গাল পারেন জ্যোতিবাবুকে,- প্রায় তিন দশক ক্ষমতায় থেকেও ভদ্রলোক রাজ্যের জন্য কিছুই করেননি। অন্য দল আবার খাপ্পা দিদির উপরে। তাঁদের উষ্মা, দিদি বহিরঙ্গে চাকচিক্য আনছেন এতো কিন্তু আরও গভীরে যাচ্ছেন না কেন? চাইলে তিনিই পারেন রাজ্যের খোলনলচে পাল্টে দিতে।

তবে কথা হচ্ছে, যদি সত্যি ধরে নেওয়া যায় যে বাংলার এখন অধোগতি তা নিরসনের দায়িত্ব কি কেবল সরকারের? আম জনতার নয়?

বাঙালি তো এমনিতে যথেষ্ট প্রতিবাদী। পান থেকে চুন খসলে রে রে করে ওঠে। মেট্রোর মারধর নিয়ে এই সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়ালে তো কম বাকবিতণ্ডা হল না! অথচ সামগ্রিক ভাবে এই রাজ্যের উন্নতির জন্য বাঙালির নিরন্তর গলা ফাটানো কোথায়? চর্চা তর্ক বিতর্ক কোথায়? সিঙ্গুর অধ্যায়ের কথা না ভেবে রাজ্যকে যথার্থ শিল্প সমৃদ্ধ করতে দলমত নির্বিশেষে সামনে তাকানো কোথায়?

বোধহয় এই দিকটাও ভাবার সময় এসেছে।

 

 

 

 

 

Shares

Leave A Reply