মেয়র বাছতে কি ভোট হবে, দিদি কী বললেন?

৪৮

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁর মন কোথায় মজেছে তা নিয়ে তৃণমূলে খোশগল্প বিস্তর। সে থাক। কিন্তু মন্ত্রিসভা ও মেয়র পদ থেকে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মন যে উঠে গিয়েছে তাঁর সতীর্থরা দিব্য ঠাওর করতে পারছিলেন গত প্রায় এক বছর ধরে। ফলে কলকাতার পরবর্তী মেয়র কে হতে পারেন তা নিয়ে জল্পনা নতুন নয়। কিন্তু শোভনকে মেয়র থেকে দিদি ইস্তফা দেওয়ার নির্দেশ দিতেই সেই জল্পনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ল রাজ্য রাজনীতিতে।

কলকাতার পরবর্তী মেয়র কে?

গোড়ায় বলে রাখা ভাল এ ব্যাপারে দিদির মনে কার নাম রয়েছে তা তৃণমূল কেন, কাক পাখিরাও এখনও জানেন না। তবে মঙ্গলবার নবান্ন থেকে বেরনোর সময় মুখ্যমন্ত্রী যে কথা বলেছেন, তা যারপরনাই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন দিদির ঘনিষ্ঠরা। শোভন চট্টোপাধ্যায়ের কাছে আবাসন ও দমকল দফতরের দায়িত্ব ছিল। ওই দুই দফতরের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিদি পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে দিয়েছেন। সেই সঙ্গে মমতা এ দিন বলেন, “মেয়রের পদটি নির্বাচিত পদ। আপাতত পুর কমিশনার খলিল আহমেদ কাজ সামলে দেবেন।”

অনেকে মনে করছেন, দিদি-র এ কথার মধ্যেই উত্তরটা লুকিয়ে রয়েছে। পুরসভার মেয়র অবশ্যই নির্বাচিত পদ। সেটি প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীর মতো পদ নয়। সংসদের বা বিধানসভার সদস্য না হয়েও কোনও ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিতে পারেন। তার পর ৬ মাসের মধ্যে ভোটে জিতে আইনসভার সদস্য হতে হয়। কিন্তু মেয়র পদ নির্বাচিত পদ। পুরভোটে নির্বাচিত কোনও কাউন্সিলরই পুরসভার মেয়র হিসাবে শপথ নিতে পারেন।

কলকাতা পুরসভায় এখন তৃণমূল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল। নির্বাচিত কাউন্সিলরের কমতি নেই। কিন্তু মমতা এ দিন যে কথা বলেছেন, তাতে অনেকে মনে করছেন বর্তমানে কলকাতা পুরসভায় তৃণমূলের নির্বাচিত কাউন্সিলররা রয়েছেন, বা মেয়র পরিষদ সদস্যরা রয়েছেন, তাঁদের কাউকেই মেয়র পদে বসাতে চান না তিনি। নতুন কাউকে ভোটে জিতিয়ে এনে তাঁকে মেয়র করতে পারেন মমতা।

তা হলে সেই ভোট কবে হবে?

কাকতালীয় হল, কলকাতা পুরসভার ১১৭ নম্বর ওয়ার্ডে অনেক দিন ধরেই উপ নির্বাচন বকেয়া রয়েছে। প্রায় দু’বছর ধরে। গত সপ্তাহে ওই ওয়ার্ডে ভোটের দিন ঘোষণা হয়েছে। তা হবে ১৬ ডিসেম্বর। অনেকে মনে করছেন, মন্ত্রিসভার কোনও সদস্যকে ওই আসনে প্রার্থী করে তাঁকে জিতিয়ে আনবেন মমতা। তার পর তিনিই কলকাতার নতুন মেয়র হিসাবে শপথ নেবেন। পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে সেই দৌড়ে অনেকেই এগিয়ে রাখছেন। কলকাতা পুরসভায় দীর্ঘ দিন কাউন্সিলর ছিলেন ববি। পুরসভার মেয়র হওয়ার ব্যাপারে তাঁর আগ্রহ দিদির অজানা নয়। ফলে এতদিনে তাঁর কপালে শিঁকে ছিড়তে পারে বলে তাঁরা মনে করছেন।

একটা সময় ছিল যখন ৮৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা মেয়র পরিষদ সদস্য দেবাশিস কুমারকে মেয়র করা হবে বলে জল্পনা ছিল তৃণমূলে। হালফিলে ১১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রত্না শূরের নাম শোনা যাচ্ছিল সম্ভাব্য মেয়র পদ প্রার্থী হিসাবে। তবে তৃণমূলের একাংশের এও মত, মেয়র পদে ‘সেফ বেট’ সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে মেয়র পদে ফিরিয়ে আনা। তাঁদের মতে, গত দুই-আড়াই দশকে সুব্রতবাবুই কলকাতার সফলতম মহানাগরিক। অনেকে এও বলছেন, সুব্রতবাবুর ব্যক্তিগত আগ্রহ রয়েছে মেয়র পদে ফিরে যাওয়ার। তাই নির্বাচিত যদি করতেই হয়, তাহলে সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে মেয়রের দায়িত্ব দিলে সব দিক রক্ষা হবে বলেও মনে করছেন তাঁরা।

তবে বাস্তব হল স্পষ্ট ভাবে কোনও খবর তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের কাছেও নেই। দিদি কবে তা ঘোষণা করেন এখন সেটাই দেখার।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More