বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২২

বিতর্ক তাঁর ছায়াসঙ্গী, চিনে নিন মমতার প্রিয় পুলিশ অফিসার রাজীব কুমারকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বারবার তাঁকে নিয়ে বিতর্ক। এই নিয়ে দু’বার নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে পদ খোয়ালেন রাজীব কুমার। এক নজরে দেখে নেওয়া যাকে কেমন তাঁর কেরিয়ার। উত্তরপ্রদেশের আজমগড়ে জন্ম রাজীব কুমারের। কানপুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা আইআইটি’র ছাত্র ছিলেন। কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে স্নাতক হয়ে তিনি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দিয়ে ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস বা আইপিএস অফিসার হন ১৯৮৯ সালে। যোগ দেন পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারে।

পুলিশ মহলে ‘রাফ এন্ড টাফ’ অফিসার হিসেবে প্রথম নজরে আসেন ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে বীরভূমের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসাবে কয়লা মাফিয়াদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযান চালিয়ে।

পরবর্তীকালে রাজীব কুমার কলকাতা পুলিশের উপ-কমিশনার যেমন ছিলেন, তেমনই সিআইডি’র অপারেশনস প্রধানও ছিলেন। সেই সময়ে কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গের নানা প্রান্তে লুকিয়ে থাকা একাধিক বাংলাদেশি অপরাধীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন তিনি। বেশ কয়েক বছর আগে নদিয়া জেলায় একটি গির্জার প্রধান, ৮০ বছরেরও বেশী বয়সী এক সন্ন্যাসিনীকে গণধর্ষণে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেন ইলেক্ট্রনিক সার্ভেল্যান্স চালিয়েই।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী নেত্রী থাকার সময়েও অভিযোগ তোলেন রাজীব কুমারই নাকি তার ফোন ট্যাপ করান। সরকার পরিবর্তনের পরে যখন মমতা ক্ষমতায় আসেন, তখন রাজীব কুমার মুখ্যমন্ত্রীর পছন্দের অফিসারদের মধ্যে অন্যতম হয়ে ওঠেন।

বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের প্রধান থাকাকালীনই ২০১৩ সালে সারদা চিটফান্ড মামলা সামনে আসে। রাজীব কুমারের নেতৃত্বাধীন বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়। পরে কলকাতার পুলিশ কমিশনার হন রাজীব কুমার।

নির্বাচন কমিশন গত বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে তাঁকে সরিয়ে দেয়। ভোট শেষ হতেই যদিও আবার তাঁকে পুরনো পদে ফিরিয়ে আনেন মমতা।

সম্প্রতি রাজীব কুমারের বাড়িতে তল্লাশি চালানো নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তাঁকে শিলংয়ে জেরা করে সিবিআই। এখনও সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন সেই বিতর্ক।

নির্বাচন ঘোষণার আগে আগেই তাঁকে কমিশনার পদ থেকে সরিয়ে এডিজি সিআইডি পদে নিয়ে যান মমতা। এবার সেই পদও খোয়াতে হল।

আরও পড়ুন

#Breaking: বাংলা থেকে সরিয়ে দেওয়া হল রাজীব কুমারকে, কাল থেকেই দিল্লিতে পাঠাল কমিশন

Comments are closed.