ধ্রুবচাঁদ হালদার কলেজে মুড়িমুড়কির মতো বোমা, নেপথ্যে কে?

0 ১১

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এখনও এক মাস হয়নি নেতাজী ইন্ডোরে কোর কমিটির বর্ধিত বৈঠক করেছে তৃণমূল। যে বৈঠকে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, মাদার-যুব কোন্দল, ছাত্র সংগঠনের ‘চাঁদা তোলা’য় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু কে শোনে কার কথা! শুক্রবারের দক্ষিণ বারাসত কলেজের ঘটনা দেখে অনেকেই বলছেন নিচু স্তরে লাগাম নেই সংগঠনে।

কলজের ইউনিয়ন দখলকে কেন্দ্র করে বোমা বৃষ্টি দেখেছে জয়নগর থানার ধ্রুবচাঁদ হালদার কলেজ সংলগ্ন এলাকা। ব্যাগ ভর্তি বোমা নিয়ে রেললাইন থেকে মুড়িমুড়কির মতো বোমা ছুঁড়ছে একদল তরুণ। কিন্তু তারা কারা? কলেজের ইউনিয়ন তো চালায় তৃণমূল ছাত্রপরিষদই। তাহলে কাদের সঙ্গে কাদের লড়াই?

লড়াই আসলে এসএফআই বা এবিভিপি’র সঙ্গে নয়। তৃণমূলেরই একটি অংশের দাবি, এলাকার যুব তৃণমূলের নেতার অনুগামীদের সঙ্গে ছাত্রপরিষদের অনুগামীদের খণ্ডযুদ্ধ।

শাসক দলের একটি অংশের মতে, শুক্রবারের বোমা বৃষ্টির ‘নায়ক’ আলি আগসর মোল্লা। কিন্তু কে এই আলি আগসর? জানা গিয়েছে, জয়নগর ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল যুব সভাপতি তুহিন বিশ্বাসের অনুগামী সে। কিন্তু তুহিন বিশ্বাসই বা কে? এখানেও উঠে এল শাসক দলের আরও এক তাবড় নেতার নাম। তৃণমূলের ব্লক সভাপতি ছাড়াও তুহিন বিশ্বাসের আরও একটি পরিচয় তিনি জয়নগরের তৃণমূল বিধায়ক বিশ্বনাথ দাসের শ্যালক। শাসক দলের একটি অংশের মতে জামাইবাবুর আস্কারাতেই তুহিনের এত বাড়বাড়ন্ত।

অভিযোগ, শুক্রবারের অপারেশনের জন্য লোক আনা হয়েছিল এন্টালি, পার্কসার্কাস থেকে। তাঁরাই ঘটিয়েছে গোটা ঘটনা। স্থানীয়দের মতে, ওই এলাকায় তৃণমূলের দু’টি গোষ্ঠী। এক গোষ্ঠীর নেতা তুহিন বিশ্বাস আর অন্য গোষ্ঠীর নেতা গৌর সরকার। শুক্রবারের ঘটনায়, গুরুতর আহত হয়েছেন ভাস্কর পট্টনায়েক নামের এক টিএমসিপি নেতা। বারুইপুর হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন তিনি।

টিএমসিপি’র ধ্রুবচাঁদ হালদার কলেজ শাখার এক নেতার কথায়, ‘ওঁরা ইউনিয়ন দখল করতে চায় জিএস’কে সঙ্গে নিয়ে।’ তাঁদের আরও অভিযোগ, জিএস সাদ্দাম হোসেন মোল্লা আগে ছিলেন গৌর সরকারের অনুগামী। ছাত্র সংসদের ম্যাগাজিন তহবিলের প্রায় তিন লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে অভিযুক্ত সে।

কলেজের গেটে পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকার ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে। তাহলে পুলিশ কী করছিল? ঠিক সিপিএম, বিজেপি বা কংগ্রেস যেভাবে বলে পুলিশ নীরব দর্শক, ঠিক একইভাবে এই কলেজের ঘটনায় শাসক দলের একটি অংশ বলছে পুলিশ ছিল নীরব দর্শক।

যদিও তুহিন বিশ্বাস সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর সঙ্গে ‘দ্য ওয়াল’-এর তরফে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি কলেজের ধারে-কাছে যাই না। এই ঘটনার বিন্দুবিসর্গ আমার জানা নেই। আমি শুধু জানি কলেজের জিএস’কে দু’দিন আগে গৌর দা’র লোকজন মারধর করেছিল। সেই থেকেই এই গণ্ডগোলের সূত্রপাত।’

গোটা ঘটনায় আতঙ্কে এলাকাবাসী। আতঙ্কে পড়ুয়ারা। আবার কবে এমন বোমাবাজি হয় এই আতঙ্কে প্রহর গুনছে শাসক দলের একটা অংশও।

এই ঘটনায়, আবদুল রোহিত ঢালি, আমির হোসেন মন্ডল, আশিস হালদার, সুমন চৌধুরি, সাহালাম লস্কর নামের পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ । তাদের আজ বারুইপুর আদলতে তোলা হবে। এদিকে শুক্রবারের এই ঘটনার জেরে কলেজে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। আজ রথযাত্রা ও শনিবার হওয়ার জন্য কলেজে ছাত্র -ছাত্রীদের সংখ্যা খুব কম। বহিরাগতরা যাতে না ঢুকতে পারে সেই জন্য কলেজ গেটে পুলিশ প্রতিটি ছাত্র -ছাত্রীদের আই কার্ড দেখছে। যাদের কাছে কলেজ আই কার্ড নেই তাদেরকে কলেজে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে।

https://www.youtube.com/watch?v=CmwiU68piFM

 

 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Leave A Reply

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More