গরিষ্ঠতা নেই, তা সত্ত্বেও কি রাজ্যসভায় নাগরিকত্ব বিল পাশ করিয়ে নেবে বিজেপি?

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : সোমবার ১২ ঘণ্টা ধরে উত্তপ্ত তর্কবিতর্কের পরে লোকসভায় পাশ হয়ে গিয়েছে নাগরিকত্ব আইন সংশোধনী বিল। বুধবার বিলটি পাশ হতে চলেছে রাজ্যসভায়। লোকসভায় বিজেপির ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। সেখানে বিলের পক্ষে ভোট পড়েছে ৩১১ টি। বিপক্ষে পড়েছে ৮০ টি। কিন্তু রাজ্যসভায় শাসক এনডিএ জোটের গরিষ্ঠতা নেই। সেখানে কি বিলটি পাশ করানো যাবে? এদিন সেদিকেই নজর থাকবে সারা দেশের।

একটি সূত্রে খবর, গরিষ্ঠতা না থাকলেও সংসদের উচ্চকক্ষে বিলটি পাশ করিয়ে নেবে বিজেপি। বর্তমানে রাজ্যসভায় ২৪০ জন সদস্য আছেন। সেখানে ১২১ টি ভোট পেলে কোনও বিল পাশ হতে পারে। বিজেপি ও তার জোট শরিক এডিএমকে, জনতা দল ইউনাইটেড এবং অকালি দলের মোট এমপির সংখ্যা ১১৬। বিজেপি আশা করছে, বাইরে থেকে আরও ১৪ জন এমপির সমর্থন পাওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে বিলের পক্ষে পড়বে ১৩০ টি ভোট।

এনডিএ-র বাইরে থেকে কোন ১৪ জন বিলের পক্ষে ভোট দেবেন?

বিজেপির প্রাক্তন জোটসঙ্গী শিবসেনা লোকসভায় বিলটি সমর্থন করেছে। কিন্তু তারা জানিয়ে দিয়েছে, রাজ্যসভাতেও যে তারা বিলটি সমর্থন করবে এমন কোনও কথা নেই। কিন্তু শিবসেনা এমপিরা যদি ভোটদানে বিরত থাকেন তাতেও বিজেপির সুবিধা হবে। কারণ সেক্ষেত্রে গরিষ্ঠতা পেতে গেলে প্রয়োজন হবে কম ভোট।

একটি সূত্রে খবর, ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের দল বিজেডির সাত সাংসদ, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জগন মোহন রেড্ডির ওয়াই এস আর কংগ্রেসের দু’জন ও চন্দ্রবাবু নায়ডুর টিডিপির দু’জন এনডিএ-র বাইরে থেকে বিলটি সমর্থন করতে পারেন।

কংগ্রেসের ৬৪ জন সাংসদ ভোট দেবেন বিলের বিপক্ষে। এছাড়া তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, তেলঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি এবং সিপিএমের মোট ৪৬ জন এমপি বিপক্ষে ভোট দেবেন। অর্থাৎ রাজ্যসভায় ওই বিলের বিরোধিতা করবেন ১১০ জন।

প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব বিলে বলা হয়েছে, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ যদি ধর্মীয় নিপীড়নের ভয়ে পালিয়ে আসেন, তবে তাঁদের ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর অবধি যাঁরা এদেশে এসেছেন, তাঁরাই নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

ওই বিলের বিরুদ্ধে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে উত্তর-পূর্ব ভারত। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের ডাকে মঙ্গলবার অসমে পালিত হয়েছে ১১ ঘণ্টার বন্‌ধ। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, এমনকি বিজেপির সহযোগী দলগুলির সাংসদরাও ওই বিলের বিরোধিতা করেছেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More