বৃহস্পতিবার, মার্চ ২১

মাসুদ আজহারকে কারা ছেড়ে দিয়েছিল? বিজেপিকে কটাক্ষ রাহুলের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : পুলওয়ামা কাণ্ডের মূল চক্রী মৌলানা মাসুদ আজহারকে জেল থেকে ছেড়ে দিয়েছিল কারা? শনিবার জনসভায় এই প্রশ্ন তুললেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। পুলওয়ামায় জঙ্গি হানার পরেই দায়িত্ব স্বীকার করেছিল জঙ্গি সংগঠন জইশ ই মহম্মদ। একসময় জইশ প্রধান মৌলানা মাসুদ আজহার ভারতের জেলে বন্দি ছিলেন। বিমান ছিনতাই করে তাঁকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায় জঙ্গিরা। জেল থেকে বেরিয়ে তিনি জইশ ই মহম্মদ নামে সংগঠনটি তৈরি করেন।

মাসুদকে যখন জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়, তখন কেন্দ্রে ক্ষমতায় ছিল অটলবিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে এনডিএ সরকার। এদিন সেকথা মনে করিয়ে দেন রাহুল।

বালাকোটে ভারতের বায়ুসেনার হামলায় জঙ্গিদের মৃত্যু নিয়ে এখন বিজেপির সঙ্গে রীতিমতো চাপান-উতোর চলছে বিরোধীদের। ঠিক কতজন জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে, তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিভ্রান্তি। কয়েকটি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বলা হয়েছে, বায়ুসেনার বোমাবর্ষণে কারও মৃত্যু হয়নি। পাকিস্তানও একই কথা বলেছে।

বিরোধীরা দাবি করেছেন, বোমাবর্ষণে কতজন মারা গিয়েছে, তার প্রমাণ চাই। মোদীর পালটা বক্তব্য, যাঁরা বিমান হানা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাঁরা সাহায্য করছেন পাকিস্তানকে। রাহুল এদিন কর্ণাটকের হাভেরিতে এক জনসভায় বলেন, জইশ প্রধানের নাম কি? মাসুদ আজহার। কারা তাঁকে জেল থেকে ছেড়ে দিয়েছিল? বিজেপি সরকারই কি তাঁকে জেল থেকে মুক্তি দিয়ে কন্দহরে পাঠিয়ে দেয়নি? তারা কি মাসুদের সঙ্গে একই প্লেনে যশবন্ত সিংকে পাঠায়নি? সরকার কেন এই কথাটা বলছে না যে, সিআরপিএফ জওয়ানদের হত্যার জন্য যে ব্যক্তিটি দায়ী, তাকে ১৯৯৯ সালে পাকিস্তানে পাঠিয়েছিল এনডিএ সরকার।

বালাকোটে বায়ুসেনার বোমাবর্ষণের পরে মোদী সরকার দাবি করে, তারা সন্ত্রাসবাদের সামনে কখনও মাথা নত করে না। রাহুল তার পালটা বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও জইশ ই মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারের একসঙ্গে তোলা ছবি এখনও ইন্টারনেটে পাওয়া যাবে। সরাসরি মোদীকে সম্বোধন করে রাহুল বলেন, আমরা আপনাদের মতো নই। আমরা সন্ত্রাসবাদের সামনে মাথা নত করি না। আপনাদের বলতে হবে, কারা মাসুদকে ছেড়ে দিয়েছিল এবং কীভাবে ছেড়ে দিয়েছিল।

একইসঙ্গে রাফায়েল নিয়েও সরব হন রাহুল। কংগ্রেসের অভিযোগ, সরকার বেশি দাম দিয়ে ফ্রান্সের দাসো কোম্পানি থেকে ওই বিমান কিনছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হ্যালকে বাদ দিয়ে দাসোর অফ সেট পার্টনার করা হয়েছে শিল্পপতি অনিল অম্বানির সংস্থাকে। যদিও সেই সংস্থার এসম্পর্কে কোনও অভিজ্ঞতাই ছিল না। মোদীর ব্যক্তিগত বন্ধু হওয়ার জন্যই অনিল অম্বানি ওই সুযোগ পেয়েছেন।

আরও পড়ুন– আমরা তো চুপ ছিলাম, পাকিস্তানই কান্নাকাটি শুরু করল, বালাকোট নিয়ে মন্তব্য মোদীর

Shares

Comments are closed.