শনিবার, মার্চ ২৩

 উৎস কোথায়

মাত্র চার মাসের এক রত্তি মেয়ে যার শরীর টা ফুলের পাপড়ির মতো নরম, যার মুখে মায়ের দুধের সুবাস, তাকে কেউ চুরি করে নিয়ে গিয়ে, যৌনাঙ্গ দিয়ে হিংস্র দানবের মতো ছিঁড়ে খুঁড়ে রক্তে ভাসিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। কোন পৃথিবীর আলো দেখলো সে?

কিংবা ধরা যাক সেই প্রৌঢ়র কথা, যে বাসে বসে তার সন্তানসম তরুণীকে দেখে হস্তমৈথুন করে চলে অবলীলায়। মেয়েটির গা গুলোনো ঘেন্না তার সারা শরীরকে অবশ করে দেয়। চোখ থেকে ঝরে অপমানের অশ্রু। এটাই বা কোন পৃথিবী?

কিন্তু দুঃখের বিষয়, এটাই আজকের পৃথিবী। প্রতিদিন যেন বেড়ে চলেছে যৌন বিকৃতির ঘটনা। দুধের শিশু থেকে বৃদ্ধা কেউ রেহাই পাচ্ছে না। নির্ভয়া কাণ্ডের পরে দেশ জুড়ে তোলপাড় হয়েছিল কত দিন ধরে। তার পরে এই সেদিন আসিফার মৃত্যু নিয়ে আমরা আবার সরব হলাম। একটা দুটো ঘটনা হয় তো বেশি সাড়া জাগায়, কিন্তু এমন ঘটনা তো ঘটে চলেছে নিরন্তর।

গ্রাম-শহর-ধনী-গরীব-পূর্ব-পশ্চিম নির্বিশেষে। যখনই এ নিয়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে, সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়াল লক্ষ কোটি মন্তব্য, পরামর্শ আর উষ্মার আস্ফালনে  ভরে যায়, তখনই ওঠে আইনকে আরো কঠোর করার দাবি। এ নিয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি, তাও নয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে আইনের ফাঁস কে আরো শক্ত করেও কি এর নিয়ন্ত্রণ সম্ভব?

অনেকে বলতে পারেন, এই সমস্যা চিরকাল ছিল। কিন্তু ছিল না মিডিয়া, বা তার সদা সতর্ক চোখ। তাই আমরা জানতে পারিনি। হয় তো সত্যি। হয় তো নয়। কিন্তু এই প্রশ্নটা বোধ হয় সব কালেই প্রাসঙ্গিক যে এই যৌনবিকৃতির পেছনে সমাজের ভূমিকা কত টুকু।

তাই শুধু পুলিশ, ধরপাকড়, আইন, আদালত, জেল দিয়ে একে ঠেকানো যাবে না। ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে চিৎকার করেও বাস্তবিক কোন লাভ নেই। সমাজকে আরো সংবেদনশীল মন নিয়ে খুঁজে বের করতে হবে এর উৎস কোথায়। নিতে হবে হয় তো সঠিক মনোবিদদের সাহায্য। সমাজকেই সর্বজনীন ভাবে অঙ্গীকার করতে হবে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার জন্য।

 

 

 

Shares

Leave A Reply