সোমবার, এপ্রিল ২২

প্রতি সেকেন্ডেই ভুয়ো খবর পান হোয়াটস অ্যাপ ব্যবহারকারীরা, জানা গেল সমীক্ষায়

দ্য ওয়াল ব্যুরো : প্রতিদিন প্রায় ১০ লক্ষ ভুয়ো অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলে ফেসবুক। তা সত্ত্বেও ভোটের মরসুমে ভুয়ো খবরের বাড়বাড়ন্ত ঠেকাতে যাচ্ছে না। ভারতে যাঁরা হোয়াটস অ্যাপ ব্যবহার করেন, তাঁদের কাছে প্রতি সেকেন্ডে ভুয়ো খবর আসে। গত একমাস ধরে এদেশে সমীক্ষা চালিয়ে এমনই জানা গিয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়া ম্যাটারস ও দিল্লি ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স, পলিসিস অ্যান্ড পলিটিক্স নামে দুই সংস্থা ভারতে অন লাইনে সমীক্ষা চালিয়েছিল। সমীক্ষার নাম, ডু নট বি এ ফুল। তাতে জানা যায়, ফেসবুক ও হোয়াটস অ্যাপ ব্যবহার করে কেউ কেউ অন্যকে মিথ্যা খবর পাঠান। সমীক্ষায় যাঁদের প্রশ্ন করা হয়েছিল, তাঁদের ৯৬ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে মিথ্যা খবর পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোট নিয়ে মিথ্যা খবর এসেছে।

সমীক্ষায় পাওয়া একটি উদ্বেগজনক তথ্য হল, ৬২ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন, ভুয়ো খবরগুলি ভোটকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে ভরসার কথা হল, ৪১ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তাঁরা হোয়াটস অ্যাপে কোনও খবর এলেই বিশ্বাস করেন না। তার আগে গুগলে বা টুইটারে দেখে নেন, খবরটার কোনও ভিত্তি আছে কিনা। ৫৪ শতাংশ স্বীকার করেছেন, ভুয়ো খবরে তাঁদের মতামত প্রভাবিত হতে পারে। ৪৩ শতাংশ বলেছেন, ভুয়ো খবর পেলেও তাঁদের মত বদলায় না।

যাঁরা অনলাইন সার্ভেতে মতামত জানিয়েছেন, তাঁদের বেশিরভাগ প্রথমবারের ভোটার। ৫৪ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ২৫-এর মধ্যে। তাঁদের ৫৬ শতাংশ পুরুষ। ৪৩ শতাংশ মহিলা। এক শতাংশ ট্রান্স জেন্ডার।

ফেসবুকের দাবি, গত দেড় বছর ধরে তারা ভুয়ো খবরের বাড়বাড়ন্ত দূর করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এখনও যে ভুয়ো খবরগুলি ছড়ানো হচ্ছে, তা কোনভাবে লোকসভা নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে না। এখনও পর্যন্ত ৭০০ ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও পেজ ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, ওগুলির মাধ্যমে ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছিল।

ভারতে হোয়াটস অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০ কোটির বেশি। এই দেশ হোয়াটস অ্যাপের সবচেয়ে বড় বাজার। ওই মেসেঞ্জারের অপব্যবহারও হচ্ছে নানা মহল থেকে। অন্তত ৩০ টি গণধোলাইয়ের ক্ষেত্রে হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে ভুয়ো খবর ছড়ানো হয়েছিল বলে অভিযোগ।

Shares

Comments are closed.