বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৭

সিবিআই কর্তাকে সরানোর জন্য এত তাড়াহুড়ো কেন, কটাক্ষ রাহুলের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল সিবিআই প্রধান অলোক বর্মাকে যেভাবে সরানো হয়েছে তা বেআইনি। কেবল প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এক উচ্চপর্যায়ের কমিটিই তাঁকে সরাতে পারে। ওই রায়ের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উচ্চপর্যায়ের কমিটির বৈঠক ডাকেন। তারপরে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী টুইট করেছেন, মনে হচ্ছে অলোক বর্মাকে তাড়ানোর জন্য সরকার ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাফায়েল ডিলের কথা যাতে ফাঁস না হয়, সেজন্যই এত ব্যস্ততা।

কগ্রেসের অভিযোগ, অলোক বর্মা বিতর্কিত রাফায়েল চুক্তি নিয়ে তদন্ত শুরু করতে যাচ্ছিলেন। পাছে তদন্তে সরকারের কয়েকজন পদাধিকারীর নাম ফাঁস হয়ে যায়, তাই তাঁকে তাড়াহুড়ো করে সরিয়ে দেওয়া হয়। রাহুল টুইটেও সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন।

গত ২৩ অক্টোবর মধ্যরাতে আচমকা সিবিআইয়ের ডিরেক্টর অলোক বর্মা ও ডেপুটি ডিরেক্টর রাকেশ আস্থানাকে ছুটিতে পাঠানো হয়। তার আগে দু’জনেই বড় ধরনের বিরোধে জড়িয়ে পড়েছিলেন। পরস্পরকে ঘুষখোর বলে অভিযোগ করছিলেন। সরকারের বক্তব্য ছিল, সিবিআইয়ের দুই শীর্ষ কর্তার আচরণে সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হচ্ছে। তাই দু’জনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হল।

রাহুল টুইট করেছেন, আমি দু’টি প্রশ্ন করছি। এক নম্বর প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী সিবিআই প্রধানকে সরানোর জন্য এত তাড়াহুড়ো করছেন কেন? দু’নম্বর প্রশ্ন, সিবিআই প্রধানকে তিনি নিজের বক্তব্য সিলেকশন কমটিতে পেশ করতে দিচ্ছেন না কেন? আমি জানি দু’টি প্রশ্নের একটাই জবাব—রাফায়েল।

এর মধ্যে জানা গিয়েছে, বুধবার সিবিআই প্রধানকে নিয়ে উচ্চপর্যায়ের কমিটি বৈঠকে বসেছিল বটে, কিন্তু কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। অন্যদিকে অলোক বর্মা নিজের পদে এসেই তাঁর ঘনিষ্ঠদের বদলি নাকচ করে দিয়েছেন। বিশেষত যে অফিসারেরা ডেপুটি ডিরেক্টর আস্থানার বিরুদ্ধে তদন্ত করছিলেন, তাঁদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে আগের পদে।

বর্মা ও আস্থানাকে সরানোর পরে সিবিআইতে অলোক বর্মার ঘনিষ্ঠদেরও বদলি করে দেওয়া হয়েছিল। বর্মা যে অফিসারদের ফিরিয়ে এনেছেন, তাঁদের মধ্যে আছেন ডেপুটি এসপি এ কে বাসসি, পুলিশ সুপার এস এস গুরুম, ডিআইজি এম কে সিনহা এবং জয়েন্ট ডিরেক্টর এ কে শর্মা।

বর্মা যেভাবে এতজনের ট্রান্সফারের নির্দেশ বাতিল করে দিয়েছেন, তাতে পর্যবেক্ষকদের ধারণা, সরকারের সঙ্গে সংঘাতের জন্যই প্রস্তুত হচ্ছেন তিনি। সিলেকশান কমিটির কাছে বর্মা বলবেন, বদলি নাকচ করে দিয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ভঙ্গ করেননি।

Shares

Comments are closed.