বকেয়া ডিএ কী হবে? আবার মামলার পথে রাজ্য? জোড়া প্রশ্নে বাড়ছে ক্ষোভ

১৪

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগেই নতুন পে কমিশনের কথা জানিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সরকারি ঘোষণাও হয়ে গেল। তবে সেটা করেছেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। কিন্তু তার পরেও একটা বড় প্রশ্নের জবাব মিলছে না। বকেয়া ডিএ-র কী হবে? রাজ্য প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ ছিল আগে বকেয়া ডিএ দিতে হবে, তারপরে বেতন কমিশন। কিন্তু সেই নির্দেশ না মেনে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে বেতন কমিশন লাগু করতে চলেছে রাজ্য সরকার। আর তা নিয়ে বাড়ছে ক্ষোভ। শুধু ক্ষোভ নয়, তৈরি হচ্ছে বড় প্রশ্নও। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পরে কর্মচারীদের ডিএ-র অধিকার মেলার পরে কি ফের মামলার মুখোমুখি হতে হবে?

মুখ্যমন্ত্রী আগেই বলেছেন, কমিশনের সব সুপারিশ মেনে নেবে সরকার। কী হারে বেতন বাড়বে তাও বলেছেন। কিন্তু বলেননি স্টেট ট্রাইব্যুনালের রায় মানবেন কিনা। বলেননি রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে কী ভাবনা সরকারের। বরং, বলেছেন– আদালতের বিষয়টি তিনি দেখে নেবেন। আর এদিন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র এনিয়ে কোনও প্রশ্নের জবাবই দিতে চাননি। বরং, বলেছেন বিচারাধীন বিষয়ে কোনও মন্তব্য করবেন না তিনি।

অমিত মিত্রের এই বক্তব্য থেকেই তৈরি হচ্ছে নতুন জল্পনা। তবে কি রাজ্য সরকার নতুন করে মামলার পথে? সেটা না হলে স্যাট রায় দিয়ে দেওয়ার পরেও কেন বিচারাধীন বললেন অর্থমন্ত্রী?

এখানেই যত চিন্তা। দীর্ঘ মামলার শেষ প্রথমে কলকাতা হাইকোর্ট ও পরে স্যাট রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দাবি মেনে নিয়েছে। জানিয়েছে, ডিএ কর্মচারীদের অধিকার, কোনও দয়ার দান নয়। মুখ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী সেটাকে বিচারাধীন বলে কি ফের মামলার পথে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন!

এখন রাজ্য সরকার ১২৫ শতাংশ ডিএ দেয়। নতুন বেতন কাঠামোয় বেসিকের সঙ্গে মিশে যাবে সেই ডিএ। আপাতত আলাদা করে কোনও ডিএ থাকছে না বেতনে। তবে নতুন করে ঘোষণা করতেই পারে রাজ্য সরকার। ফি বছর ১ জানুয়ারি থেকে নতুন ডিএ লাগু হয়। আগামী ১ জানুয়ারি নতুন পে কমিশন চালু হওয়ার কথা। কর্মীদের আশঙ্কা সেই সঙ্গে নতুন ডিএ আর রাজ্য সরকার ঘোষণা করবে না। অনেকই মনে করছেন, এটা যেন ‘নাকের বদলে নরুন পেলাম’ হয়ে গেল। এমন সময়ে নয়া বেতন কমিশন ঘোষণা হল যাতে নিয়মমাফিক প্রাপ্য ডিএ থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে।

সব মিলিয়ে বেতন কমিশন মেলার পরেও পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই সরকারি কর্মচারী মহল। কর্মীদের আশঙ্কা, সহজে রাজ্য সরকার স্যাটের রায় মেনে নেবে না। হাইকোর্টে এবং স্যাটে শুনানি চলাকালীন যে ভাবে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার দাবির বিরোধিতা করেছে রাজ্য সরকার, সে কথা কারও অজানা নয়। কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়া এবং ১০ বছরের বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ সেই সরকার মেনে নেবে কি? প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে কর্মী মহলে। বেতন কমিশন চালু করতে গিয়ে যে অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা রাজ্য সরকারের উপরে এল, তার পরে বকেয়া ডিএ-কে অনেকেই দিবাস্বপ্ন মনে করছেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More