অতিমহামারী আমাদের কী শেখাল

১৬

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

উঠবে না থাকবে?

দুই সপ্তাহ ধরে লকডাউন। হিসাবমতো বাকি আর এক সপ্তাহ। এখন দেশজুড়ে মানুষের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে প্রশ্নটা। উঠবে না থাকবে? নির্ধারিত দিনে, অর্থাৎ ১৪ এপ্রিল মাঝরাতেই কি সবকিছু চালু হবে। নাকি অপেক্ষা করতে হবে আরও।

এখনও পর্যন্ত সংক্রমণ কমার নাম নেই। তবে এখানে আমেরিকা বা ইতালির মতো হয়নি। ওসব দেশে একসময় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ডবল হয়ে যাচ্ছিল। ভারতে অতদূর হয়নি। এখানে সংক্রমণের গতি ধীর। তার পিছনে লকডাউনের একটা ভূমিকা আছে। হয়তো উষ্ণ আবহাওয়ারও কিছু অবদান আছে।

গত ৪ এপ্রিল অবধি পাওয়া হিসাবে দেখা যায়, ভারতে মোট ৭৩৬ টি জেলার মধ্যে ২৭৪ টিতে করোনা থাবা বসিয়েছে। তার মানে আমাদের বিশাল দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ অঞ্চলে ওই মারণ ভাইরাসের প্রভাব নেই। এটাও সুখবর।

করোনার ভ্যাকসিন বার করার জন্য জোর কদমে চেষ্টা চলছে বিশ্বের নানা প্রান্তে। অনেকেই দাবি করছেন, সাফল্য প্রায় হাতের মুঠোয়। তা সত্ত্বেও বাজারে ভ্যাকসিন আসতে বছরখানেক লাগবে। অর্থাৎ একবার করোনার প্রকোপ কমলেও সতর্ক থাকতে হবে। যতদিন না প্রতিষেধক আসছে নিশ্চিন্ত হওয়া যাবে না।

অতিমহামারী দেখা যাওয়ার পর থেকেই অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, মন্দা আসছে। এই যে লকডাউন, দুনিয়া জুড়ে কলকারখানা বন্ধ রাখা, এর মূল্য দিতে হবে ভীষণ। আইএমএফ-ও বলেছে, এবারের মন্দা হবে ২০০৮-০৯ সালের চেয়েও গুরুতর।

ইতিমধ্যেই সমাজের দুর্বলতর শ্রেণিগুলি মন্দার আঁচ অনুভব করছে। কোনও কোনও জায়গায় মানুষ খিদের জ্বালায় ঘাসপাতা সেদ্ধ করে খাচ্ছে। শহর ও মফঃস্বলে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের এক বড় অংশ সংকটে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন রিকশ, অটো, টোটো চালক, দিনমজুর ও ছোট দোকানদাররা। আগামী দিনে মন্দার ধাক্কায় যদি কিছু কলকারখানা বন্ধ হয়, অন্যগুলোয় ছাঁটাই হতে থাকে, তাহলে সংকট মধ্যবিত্ত, উচ্চমধ্যবিত্তকেও গ্রাস করবে।

পৃথিবীতে এমন বিপদ আগেও এসেছে। বিশ্বযুদ্ধ, মহামারী, আর্থিক মন্দা। বিপদ মানুষের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। কঠিন অবস্থার মধ্যে পড়লে মানুষ অনেক গুণ আয়ত্ত করে যা অনুকূল পরিস্থিতিতে সম্ভব ছিল না।

এবারের বিপদ থেকে আমরা শিখছি উদারতা। কাউকে শত্রু ভেবে দূরে সরিয়ে রাখা নয়। বরং তিক্ততা ভুলে সকলের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করা। বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার পথ খোঁজা।

অনেকে বলেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মেগালোম্যানিয়াক। নিজে যা ভাবেন, তাই করেন। আর কাউকে গ্রাহ্য করেন না। তিনি নিজের দল বিজেপির মধ্যে প্রবীণ নেতাদের নিয়ে একটা মার্গদর্শক মণ্ডলী গড়ে রেখেছেন ঠিকই কিন্তু তাঁদের কথায় গুরুত্ব দেন কম।

করোনা সংকটে সবাই দেখল মোদীর অন্য রূপ। লকডাউনের একাদশ দিনে তিনি নিজে ফোন করলেন দুই প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিকে। তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সনিয়া গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মুলায়ম সিং যাদব, অখিলেশ যাদবকেও ফোন করলেন। তেলঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতির কে চন্দ্রশেখর রাও, শিরোমণি অকালি দলের প্রকাশ সিং বাদল, বিজু জনতা দলের নবীন পট্টনায়কও তাঁর ফোন পেলেন।

আলোচনার বিষয় একটাই। অতিমহামারীর মোকাবিলায় কী করা যায়? সনিয়া ইতিমধ্যেই কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন। বাকিরাও নিশ্চয় দেবেন।

লকডাউন নির্দিষ্ট সময়ে উঠবে কিনা সম্ভবত কেউই জানেন না। পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আগামী দিনে। কিন্তু এই বিপদের সময় সকলে মিলেমিশে একসঙ্গে কাজ করার যে স্পিরিট জন্ম নিল, তা যেন আগামী দিনেও বজায় থাকে। তাহলে এর পরে আর্থিক মন্দা আসুক আর যাই আসুক, ভালভাবে মোকাবিলা করা যাবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More