শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০

৩৭০ ধারা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি, প্রধান বিচারপতি বললেন, এ আবার কেমন পিটিশন

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত ৫ অগস্ট রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিবৃতি দেন, সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করা হল। সেইসঙ্গে প্রস্তাব দেন, জম্মু-কাশ্মীরকে ভেঙে দু’টি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করা হবে। সরকারের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে ছ’টি আবেদন জমা পড়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। তার শুনানি শুরু হয় শুক্রবার। শুরুতেই প্রধান বিচারপতি জানিয়ে দেন, অন্তত একটি পিটিশন এমনভাবে করা হয়েছে, যার কোনও মানে হয় না। ওই পিটিশন এখনই বাতিল হয়ে যেত। কিন্তু ওই বিষয় নিয়ে আরও পাঁচটি আবেদন জমা পড়েছে। তাই শুনানি হবে। একথা বলে তিনি এদিন শুনানি স্থগিত রাখেন।

এদিন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, বিচারপতি এস এ বোবদে ও বিচারপতি এস এ নাজিরকে নিয়ে গঠিত স্পেশাল বেঞ্চ ওই আবেদন শোনে। আবেদনকারীরা হলেন অ্যাডভোকেট এম এল শর্মা ও কাশ্মীর টাইমসের এক্সিকিউটিভ এডিটর অনুরাধা ভাসিন। এম এল শর্মা ৩৭০ ধারা বাতিলকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। তাঁর পিটিশনকেই অর্থহীন বলেছেন প্রধান বিচারপতি।

তাঁর কথায়, আমি আধ ঘণ্টা পড়েও এই পিটিশনের কোনও মানে বুঝতে পারিনি। কাশ্মীরের অ্যাডভোকেট সাবির শাকিলও ভুলে ভরা পিটিশন দাখিল করেছিলেন। তাঁকেও প্রধান বিচারপতি তিরস্কার করেন। পরে আইনজীবীদের বলেন, কাশ্মীর নিয়ে যে ছ’টি আবেদন জমা পড়েছে, সবগুলিরই ভুল্ভ্রান্তি যেন সংশোধন করে দেওয়া হয়।

সাংবাদিক অনুরাধার আর্জি, অবিলম্বে কাশ্মীর উপত্যকায় ল্যান্ডলাইন, মোবাইল পরিষেবা ও ইন্টারনেট চালু হোক। মিডিয়াকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে যেন কেউ বাধা না দেয়।

তিনি বলেছেন, ৪ অগস্ট থেকে কাশ্মীরে যোগাযোগের সব মাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কাশ্মীরের কয়েকটি জেলা এবং জম্মু সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্টে দেখেছি, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে কড়াকড়ি কিছু শিথিল করা হবে। অ্যাডভোকেট জেনারেল কে কে বেণুগোপাল বলেন, কাশ্মীর টাইমসকে স্বাভাবিকভাবেই কাজ করতে দেওয়া হয়েছে। মনে হচ্ছে, অনুরাধার পিটিশন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

জম্মু-কাশ্মীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল কনফারেন্স ৩৭০ ধারা বিলোপকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল। তাঁদের অভিযোগ, জম্মু-কাশ্মীরের মানুষের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই কেন্দ্রীয় সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে তাঁদের অধিকার খর্ব হয়েছে।

Comments are closed.