কোঝিকোড়ে ভেঙে দু’টুকরো বিমান, কী ঘটেছিল ঠিক তার পরের ৫ মিনিটে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘড়িতে তখন সাতটা চল্লিশ। বিকট শব্দে কেঁপে উঠেছিল কেরালার কোঝিকোড় বিমানবন্দর। কয়েক মিনিটেই খবর ছড়িয়ে গেছিল, ঝড়বৃষ্টিতে অবতরণের সময়ে ১৯০ জন যাত্রী নিয়ে রানওয়েতে পিছলে গিয়ে ভেঙে গেছে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি। গড়িয়ে গেছে ৩৫ মিটার গভীর ঢালে।

শনিবার সন্ধেয় কেরলের এই দুর্ঘটনার ঠিক পরের রুদ্ধশ্বাস ঘটনাক্রম সামনে এল আজ। দুর্ঘটনার খবর প্রথম সিআইএসএফ কন্ট্রোল রুমে পৌঁছয় সাতটা চল্লিশেই। রানওয়ের পাশে ৮ নম্বর গেটে মোতায়েন অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইনস্পেক্টর অজিত সিং প্রথম দেখতে পান এই ভয়ানক দৃশ্য, খবর পাঠান ওয়াকিটকিতে।

৭:৪১। সিআইএসএফ কন্ট্রোল রুম থেকে খবর গেল এয়ার ট্র্যাফিক কনট্রোলে।

৭:৪২। এয়ারপোর্ট দমকল বিভাগকে সতর্ক করা হল দ্রুততার সঙ্গে।

৭:৪৩। সিআইএসএফ-এর তরফে খবর গেল এয়ারপোর্টের চিকিৎসা বিভাগে।

৭:৪৪। এয়ারপোর্টের টার্মিনাল ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করল সিআইএসএফ। এয়ারপোর্টের চিকিৎসা বিভাগকে আরও একবার খবর পাঠানো হল।

৭:৪৫। স্থানীয় পুলিশ বিভাগে খবর গেল। খবর গেল ইউনিট লাইনে।

এই পাঁচ মিনিটের মধ্যে স্থানীয়দের ভিড় জমে যায় খাদের ঢালে ভেঙে পড়া বিমানটিকে ঘিরে। ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে বাহিনী। শুরু হয় উদ্ধার কাজ। কিছুক্ষণের মধ্যেই আশা বাড়ায় একটাই তথ্য, এত বড় দুর্ঘটনার তুলনায় হতাহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে কম। এই ম্যাঙ্গালুরুই সাক্ষী ছিল এমনই এক দুবাই থেকে আসা বিমান আছড়ে পড়ে ১৫৮ জনের মৃত্যুর।

তুলনা করলে, এই দুর্ঘটনার অভিঘাত ছিল অনেক বেশি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত যা জানা গেছে, তাতে প্রাণ হারিয়েছেন ১৮ জন। জখম ১৫০।

সিভিল অ্যাভিয়েশন মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীও উপস্থিত হন দুর্ঘটনাস্থলে। তাঁর কথায়, “যত দূর মনে হচ্ছে আবহাওয়া অত্যন্ত খারাপ থাকার কারণেই রানওয়ে থেকে পিছলে গেছে বিমানটি। একেবারে ঠিক কী কারণ, তা জানতে হয়তো আর একটু সময় লাগবে। তবে এতটা জোরে ভেঙে গিয়েও যে আগুন ধরে যায়নি, সে জন্যই এত যাত্রীকে উদ্ধার করা গিয়েছে জীবিত ও অক্ষত।”

ফ্লাইটরেডার ২৪ জানিয়েছে, প্রথমবার যখন বিমানটি নামতে চেষ্টা করে, তখন সে ২৫০০ ফুট উঁচুতে ঘণ্টায় ২৭৬ কিলোমিটার গতিতে উড়ছিল। দ্বিতীয়বার চেষ্টা করে যখন সে রানওয়ে ছুঁচ্ছে, তার গতি ছিল ঘণ্টায় ৩৫৪ কিলোমিটার। প্রথমবার যখন বিমানটি নামতে চেষ্টা করে, তখন খালি চোখে দু’কিলোমিটার পর্যন্ত দেখা যাচ্ছিল। পাইলটরা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন, তাঁদের যেন রানওয়ের অন্য দিক থেকে নামতে দেওয়া হয়।

ডায়রেক্টর জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশনের এক তদন্তকারী শনিবার সকালে জানিয়েছেন, ওয়েদার রেডারে দেখা গিয়েছে, বিমানটির ২৮ নম্বর রানওয়েতে নামার কথা ছিল। প্রবল ঝড়বৃষ্টির মধ্যে বিমানটি দু’বার নামার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। তখন বিমানটি ১০ নম্বর রানওয়েতে নামতে চেষ্টা করে। বন্দে ভারত মিশনের আওতায় চলছিল এই বিমানটি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More