ঠাট্টা তো সহজেই করেন চেহারা দেখে! কিন্তু জানেন কি, সুমো পালোয়ান হওয়া কত কঠিন!

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুমো শব্দটা জাপানি হলেও, এর সঙ্গে কম-বেশি আমরা সকলেই পরিচিত। সেই ছোটোবেলা থেকেই টিভির পর্দায় দেখেছি তাঁদের। সুমো শব্দটির অর্থ কুস্তি। এই কুস্তি হল জাপানের জাতীয় খেলা। প্রায় দু’হাজার বছরের ইতিহাসে এই খেলার প্রচলন রয়েছে। এই সুমো কুস্তিগীরদের চেহারা হয় অস্বাভাবিক বড়। ওজন মোটামুটি ২৫০ কিলোগ্রাম থেকে ৪০০ কিলোগ্রামের কাছাকাছি।

আমরা কিন্তু প্রায়ই সুমো শব্দটি নিয়ে ঠাট্টা-ইয়ার্কি করে থাকি। বেশি স্বাস্থ্যবান ব্যক্তিকে মজা করে ডেকে থাকি সুমো বলে। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না, এই বিশালদেহী কুস্তিগীরদের জীবন এবং তাঁদের লড়াইয়ের প্রস্তুতি মোটেই সহজ নয়। সারা দিন কঠোর নিয়ম মেনে চলতে হয় তাঁদের। খেতে হয় নিয়মে বাঁধা খাবার। বস্তুত, মানুষের ওজন কমানোর পদ্ধতি যত কঠিন এবং দীর্ঘ, সুমো পালোয়ানদের কথা জানলে মনে হবে, ওজন বাড়ানোও কম কঠিন নয়।

জাপানের বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, কেউ সুমো হয়ে জন্মায় না। জন্মের পরে কিশোর বেলা থেকে বেছে নেয়, সুমোজীবন। এক জন সুমো পালোয়ান হতে গেলে সব চেয়ে জরুরি শৃঙ্খলা এবং নিয়মানুবর্তিতা। ঠিক তেমনই প্রয়োজন পর্যাপ্ত খাবারেরও। সাধারণ মানুষের তুলনায় এক জন সুমো পালোয়ান প্রায় আট থেকে দশ গুণ বেশি খাবার খেয়ে থাকেন।

সুমো পালোয়ানদের ওজন বাড়ানোর নির্দিষ্ট কিছু ট্রিক আছে। যেমন, সকালে ঘুম থেকে উঠে কখনও জলখাবার খান না তাঁরা। সকালে উঠেই শুরুি করেন ভারী অনুশীলন। ফলে ভীষণ ভাবে খিদে বেড়ে যায় তাঁদের। বেড়ে যায় হজম শক্তি। সেই কারণে তাঁরা খেতে পারেন ভারী মধ্যাহ্নভোজ।

সুমো পালোয়ানদের সব চেয়ে পছন্দের এবং জনপ্রিয় খাবার হল একটি বিশেষ ধরনের স্ট্যু। স্থানীয় ভাষায় একে বলা হয়, চাঙ্কো নাবে। নাবে শব্দের অর্থ পাত্র বা বাটি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নাবে-তে করে চাঙ্কোই খাচ্ছে তাঁরা। চাঙ্কো অর্থাৎ বিশেষ ধরনের এই স্ট্যু-তে থাকে নানা রকমেরর সবজি, মাছ, টোফু, ক্যালরি সমৃদ্ধ স্টার্চের তৈরি কেক ও মাংস।

একটি দেশলাই বাক্সের মাপের স্টার্চের তৈরি কেকে থাকে, এক বাটি ভাতের ক্যালরি। আর সুমো কুস্তিগীররা মোটামুটি ছয় থেকে সাতটি কেক এক বাটি চাঙ্কো নাবে-তেই মেশান। সব মিলিয়ে প্রতি দিন মোটামুটি ২০ হাজার ক্যালরি শক্তি প্রয়োজন হয় সুমো পালোয়নদের। এই পরিমাণটা এক জন সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে হয় দু’হাজার ক্যালরি। তাই সুমোদের খাবারও খেতে হয় সেই মতোই।

দুপুরের খাবারের পরে অনেকেই পাঁচ-ছ’বোতল বিয়ার খান। খেয়ে লম্বা ঘুম দেন, চার-পাঁচ ঘণ্টার। ভারী খাবার, বিয়ার এবং ঘুম– এই তিনটি বিষয় পরপর হওয়ায় শারীরবৃত্তীয় পদ্ধতিতে বিপাক ক্রিয়া অনেক ধীর হয়ে যায়। ফলে ওজন বাড়তে থাকে রোজ।

রাতেও একই রকম ভারী খাবার খান সুমো কুস্তিগীররা। পর্ক, চিকেন বা বিফ থাকবেই তাতে। খেয়েই ঘুম। পরের দিন আবার ভোরে উঠে অনুশীলন। এই নিয়মের নড়চড় হয় না সারা সপ্তাহ। বদলায় না ঘুমোনোর সময় বা খাবারের পরিমাপ। আবার সচেতনও থাকতে হয় হজমক্ষমতা নিয়ে। একসঙ্গে এত খেতে গিয়ে শরীর খারাপ হয়ে গেলে আবার উল্টো বিপদ, বেশ খানিকটা ঝরে যেতে পারে ওজন। তখন তাকে মেক আপ করতে আবার বিশেষ চেষ্টা করতে হবে।

প্রশিক্ষণ পর্ব চলাকালীন নিজেদের খাবার নিজেই বানিয়ে নিতে শিখে যান সুমো কুস্তিগীরেরা। কোন খাবারে কতটা নুন দিতে হবে, কী সস দিলে তাতে ক্যালরি বেশি হবে, কোন স্যুপ আরও বেশি খিদে বাড়াবে– জানতে হয় এগুলোও। জাপানের কিছু নির্দিষ্ট রেস্তরাঁয় পর্যটকদের জন্যও এই সুমো-খাবারের ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে বলাই বাহুল্য, তার পরিমাণটা মোটেও সুমোদের সমান নয়।

 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More