রবিবার, মার্চ ২৪

#Breaking: সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনে মূল অভিযুক্ত অভিজিৎ গ্রেফতার ডেবরা থেকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ন’দিন ধরে আস্তানা বদল করে বার কয়েক। অবশেষে পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় ঘাঁটি গাড়তে চেয়েছিল কৃষ্ণগঞ্জের বিধায়ক খুনের অন্যতম অভিযুক্ত অভিজিৎ পুন্ডারি। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ডেবরার রাধামোহনপুর থেকে আজ সকালে গ্রেফতার করা হল অভিজিৎকে। তার কাছ থেকে একটি রিভলবারও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

৯ ফেব্রুয়ারি সরস্বতী পুজোর দিন সন্ধেবেলা নিজের বিধানসভা এলাকার ফুলবাড়িতে একটি পুজোমণ্ডপে তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসকে (৪০) পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে দুষ্কৃতীরা। শক্তিনগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ওই দিন হাঁসখালি ব্লকের বগুলার ফুলবাড়ি এলাকায় বড় বাজেটের একটি সরস্বতী পুজোর উদ্বোধন করতে গেছিলেন সত্যজিৎবাবু। অনুষ্ঠান চলাকালীনই তাঁর উপর হামলা করে দুষ্কৃতীরা। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় গোটা এলাকায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কী কারণে, কারা বিধায়ককে লক্ষ্য করে গুলি চালালো, তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্ত শুরু করে সিআইডিও।

খুনের ঘটনার পরেই রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে ওঠে। বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছিল শাসক দল। ঘটনার পরের দিনই এলাকায় যান তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সত্যজিৎবাবুর স্ত্রীকে ফোন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল জেলা নেতৃত্ব এবং জেলার পর্যবেক্ষক পার্থ চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, খুনের নেপথ্যে মুকুল রায়ের হাত রয়েছে। থানায় যে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল, তাতেও মুকুলবাবুর বিরুদ্ধে স্পষ্ট অভিযোগ জানানো হয়।
তার পরেই নদিয়ার জেলা তৃণমূল সভাপতি গৌরীশঙ্কর দত্তকে আইনি নোটিস পাঠানোর পাশাপাশি কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেন মুকুলবাবু। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। এই মামলাতেই কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হলেও ৭ মার্চ পর্যন্ত তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না। তবে আদালত এও জানিয়ে দিয়েছে, খুনের তদন্তে মুকুলবাবুকে সাহায্য করতে হবে। সেই সঙ্গে তদন্তের প্রয়োজন ছাড়া আপাতত নদিয়া জেলায় ঢুকতে পারবেন না এই প্রবীণ বিজেপি নেতা।

বিধায়ক খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যেই চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের নাম সুজিত মণ্ডল, কার্তিক মণ্ডল, কালীপদ মণ্ডল ও নির্মল ঘোষ। তবে অভিজিৎই সে দিন বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল বলে পুলিশের অভিযোগ। নদিয়ার পুলিশ সুপার রূপেশ কুমার জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছিল বিধায়ক হত্যার অন্যতম এই অভিযুক্ত। জোরদার তল্লাশি চালানো হচ্ছিল তাঁর খোঁজে। অবশেষে আজ সকালে ডেবরায় রাধামোহনপুর থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে।

অভিজিতের মোবাইল ফোন ট্র্যাক করেই তার হদিশ মেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ দিন রাধামোহনপুর স্টেশন এলাকায় বাড়ি ভাড়া খুঁজছিল সে। তখনই তাকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই বিধায়ক খুনের মোটিভ পরিষ্কার হবে বলে জেলা পুলিশকর্তাদের দাবি। আগামীকাল রানাঘাট আদালতে তোলা হবে ধৃতকে। সেখানেই তাকে হেফাজতে পাওয়ার জন্য আবেদন জানাবে পুলিশ।

আরও পড়ুন:

#Breaking: ভর সন্ধ্যায় খুন হলেন কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস

#Breaking: ভর সন্ধ্যায় খুন হলেন কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস

Shares

Comments are closed.