মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৩

#Breaking: ভর সন্ধ্যায় খুন হলেন কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস

দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া:  উনিশের ভোটের আগে রাজনৈতিক খুন শুরু হয়ে গেল। কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভার অন্তর্গত ফুলবাড়ি এলাকায়  বাড়ির কাছেই তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসকে (৪০) লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে দুষ্কৃতীরা। শক্তিনগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

হাঁসখালি ব্লকের বগুলার ফুলবাড়ি এলাকায় বড় বাজেটের একটি সরস্বতী পুজোর উদ্বোধন করতে গেছিলেন তিনি। অনুষ্ঠান চলার সময় আচমকাই তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। কানের পিছনে গুলি লাগে। ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন তিনি। প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে শক্তিনগর হাসপাতালে নিয়ে যান তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। কিন্তু বাঁচানো যায়নি তাঁকে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় গোটা এলাকায়। বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। কী কারণে, কারা বিধায়ককে লক্ষ্য করে গুলি চালাল তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আগামিকাল রবিবার, এলাকা পরিদর্শনে যেতে পারে সিআইডির একটি দল।

সত্যজিৎ বিশ্বাস ছিলেন মতুয়া তৃণমূল নেতা। তাঁর বাড়ি কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভার দক্ষিণ পাড়া ফুলবাড়ি এলাকায়। দিন কয়েক আগেই নদিয়ার প্রশাসনিক বৈঠকে ধান কেনাবেচায় ফড়েদের মাতব্বরির বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন তিনি।  খুনের ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি গৌরীশঙ্কর দত্ত বলেছেন, “এটা বিজেপির কাজ। ঠিক কী কারণে এই খুন, কে খুনি, কার হাত দিয়ে এই খুনের ঘটনা ঘটেছে সেটা বোঝা যাচ্ছে না।” সেই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, “এই খুন বিজেপির ষড়যন্ত্র। এর পিছনে মুকুল রায় আছেন। তাঁর নির্দেশে এটা হয়েছে।” তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল যিনি নদিয়ারও দায়িত্বপ্রাপ্ত, সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন বিজেপির দিকে। বলেছেন, “আমি ওখানে মিটিং করেছি। প্রচুর লোক হয়েছিল। তাই দেখে বিজেপি ভয় পেয়ে গেছে। সে জন্যই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত করছে। দোষীরা উপযুক্ত শাস্তি পাবে। প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।”

তবে, তৃণমূলের সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি পাল্টা বলেছেন,  “যত বাজে কথা, সবটাই বাজে অভিযোগ। বীরভূম থেকে এসে এখন ওই এলাকার দায়িত্ব নিয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল। তিনিই খুনের রাজনীতি শুরু করেছেন।” একই দাবি নদিয়ার আর এক বিজেপি নেতা জগন্নাথ সরকারের। তাঁর কথায়, “যে ভাবে খুন হয়েছে তাতে পরিষ্কার, খুব ঘনিষ্ঠ কেউই এই খুন করেছে। বোঝাই যাচ্ছে দলের ভিতরের ব্যাপার। তদন্ত করলে দেখা যাবে দলের অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণেই খুন হয়েছেন সত্যজিৎ বিশ্বাস।”

Shares

Comments are closed.