অতিমহামারীর মোকাবিলায় সাহসী হতে হবে

৪১

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

ঠিক কবে করোনা অতিমহামারী শেষ হবে এখনও কেউ নির্দিষ্ট করে বলতে পারছে না। বিজ্ঞানীরাও কেউ এবিষয়ে একমত নন। কেউ বলছেন, কয়েক মাস পরে মারণ ভাইরাস শক্তি হারিয়ে ফেলবে। কেউ বা বলছেন, আগামী শীতে বাড়বে তার দাপট। শুরু হবে সেকেন্ড ওয়েভ।

ভ্যাকসিন নিয়েও নানা কথা শোনা যাচ্ছে। রোজই সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে, কোনও বিশ্ববিদ্যালয় অথবা বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীরা নাকি করোনা যুদ্ধে সাফল্য অর্জন করেছেন। প্রতিষেধক তৈরি হতে বেশি বাকি নেই। কিন্তু ঠিক কবে ভ্যাকসিন তৈরি হবে, কখন তা বাজারে আসবে, কেউ বলতে পারছেন না।

অতএব অতিমহামারী থেকে আশু মুক্তির পথ দেখা যাচ্ছে না। এদিকে হু হু করে বাড়ছে রোগ। বিশ্ব জুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ কোটি ৬৬ লক্ষ ৮৪ হাজার ৯৮৯। মারা গিয়েছেন ৬ লক্ষ ৫৭ হাজার ৩৬৯ জন। সেরে উঠেছেন ১ কোটি ২ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪১ জন। আমেরিকার জন হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৯৯ শতাংশ করোনা আক্রান্তের অবস্থা সিরিয়াস নয়। মাত্র এক শতাংশের রোগ গুরুতর।

ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৪ লক্ষ ৯৩ হাজার ৯০৪। প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। দেশের অর্ধেক জেলায় কোভিড ১৯ আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০-র বেশি। আমেদাবাদ, দিল্লি এবং মুম্বইয়ের মতো শহরে সংক্রমণের হার কমেছে। কিন্তু বেড়েছে বিশাখাপত্তনম, রাঁচি, গয়া প্রভৃতি নতুন জায়গায়।

এই পরিস্থিতিতে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। এক ধরনের ফিয়ার সাইকোসিস দেখা যাচ্ছে। আতঙ্কিত মানুষ ইচ্ছার বিরুদ্ধে অনেক কিছু করে ফেলে। সে অনেক সময় এমন অমানবিক আচরণ করে যা স্বভাবিক অবস্থায় করত না। এমন অমানবিকতার খবর নানা জায়গা থেকে পাওয়া যাচ্ছে।

মঙ্গলবার খবর এসেছে, করোনা রোগী সন্দেহে চন্দ্রকোণার এক গ্রামে মৃতকে দাহ করতে দেয়নি গ্রামবাসী। ওই ব্যক্তি জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। পুলিশের কাছে গ্রামবাসীরা দাবি করছিলেন, আগে পরীক্ষা করতে হবে মৃতের করোনা হয়েছিল কিনা। এইসব গন্ডগোলে মৃতদেহ পড়ে ছিল ২০ ঘণ্টা।

সোমবার কলকাতার বেহালায় এক প্রৌঢ় শ্বাসকষ্টে মারা যান। তাঁর দেহও বাড়িতে পড়ে ছিল ১৫ ঘণ্টা। রবিবার শ্যামপুকুর ও সোনারপুরে একই ঘটনা ঘটেছে। অন্যান্য রাজ্য থেকেও খবর আসছে, করোনায় কেউ মারা গেলে দাহ করতে সমস্যা হচ্ছে।

মহামারী বা অপর যে কোনও বিপর্যয়ের সময় সাহস হারালে চলে না। মাথা ঠান্ডা রাখতে হয়। ভয়ে সিঁটিয়ে গেলে বিপদ বাড়ে, কমে না। তাছাড়া মহামারীকে সামাজিকভাবে মোকাবিলা করতে হয়। রোগাক্রান্তের দিকে বাড়িয়ে দিতে হয় সাহায্যের হাত।

করোনা অতিমহামারীর সময় আমাদের বার বার বলা হচ্ছে, আতঙ্কিত হবেন না, সতর্ক থাকুন। কিন্তু অনেকক্ষেত্রে মানুষ সতর্ক হচ্ছেন না কিন্তু আতঙ্কিত হচ্ছেন। রাস্তাঘাটে কিছু লোককে দেখা যাচ্ছে, মাস্ক ছাড়া বেরিয়েছেন। কেউ কেউ সামাজিক দূরত্বের বিধি মানছেন না। এদিকে কারও জ্বর হয়েছে শুনলেই আতঙ্কিত হচ্ছেন তাঁর প্রতিবেশীরা। আক্রান্তের বাড়ির লোকজনকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এড়িয়ে চলছেন। পারলে সেই বাড়ির আশপাশ দিয়ে চলাফেরা বন্ধ করে দিচ্ছেন।

অতীতেও মহামারী এবং নানারকম ভয়ানক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে পৃথিবী। তা কাটিয়েও উঠেছে। কোনও দুঃসময়ই চিরস্থায়ী নয়। এই কথাটি মাথায় রেখে আমাদের সাহসী হতে হবে। রোগাক্রান্তের দিকে বাড়িয়ে দিতে হবে সাহায্যের হাত। এই সময় মানুষ যদি পরস্পরের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে, তাহলে অতিমহামারীকে পরাজিত করতে দেরি হবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More