নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে

২৯

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা যখন রোজ ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাচ্ছে, তখন অফিসে না যেতে হলেই ভাল হত। কিন্তু কী করা যাবে? অর্থনীতির চাকা তো অনির্দিষ্টকাল থেমে থাকতে পারে না। অগত্যা বেরোতে হচ্ছে অনেককে। সকাল আটটা-সাড়ে আটটা থেকে মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে জমে উঠছে ভিড়। বাসের জন্য লাইন পড়ছে। তবুও ছবিটা আগের চেয়ে অনেক আলাদা। সবার মুখে মাস্ক। লাইন যথেষ্ট ফাঁক ফাঁক।

রাস্তায় দেখা যাচ্ছে মূলত সরকারি বাস। বেসরকারি বাস খুব কম। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাস্তায় বেসরকারি বাস নেমেছে ২৪৮৮ টি। মিনিবাসও নাকি চলছে ৩১৬ টি। যদিও সামাজিক দূরত্ব মেনে বাস চালানো যে আদৌ লাভজনক হবে না, সেকথা পরিষ্কার করে দিয়েছেন বাস মালিকরা। ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাবও সরকারের কাছে জমা পড়েছে।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মানুষ যাতে অফিসে যাতায়াত করতে পারে, সেজন্য মুখ্যমন্ত্রী সাইকেলে চড়ে যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছেন। তবে মূল রাস্তায় নয়। অলিগলি দিয়ে সাইকেলে চড়ে যাওয়া যাবে।

পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য নতুন নতুন নিয়ম হচ্ছে। সরকারি অফিসে চালু হচ্ছে শিফটিং ডিউটি। অফিসের সময়ও কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কনটেনমেন্ট জোন থেকে কাউকে অফিসে আসতে বারণ করা হয়েছে। কারও যদি জ্বর, সর্দিকাশি হয়, করোনার কোনও লক্ষণ থাকে, তাকেও বলা হচ্ছে, আসার দরকার নেই।

এত কিছুর পরেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে কি? বিজ্ঞানীরা খুব একটা ভরসার কথা শোনাননি। হু থেকে বলা হয়েছে, বিশ্ব জুড়ে আরও হিংস্র হয়ে উঠছে কোভিড ১৯। ইউরোপ অনেকটা সামলে নিয়েছে বটে, কিন্তু পৃথিবীর বাকি অংশে অতিমহামারী ছড়িয়ে পড়ছে আরও দ্রুত গতিতে।

মানুষ বাধ্য হয়েই সাহসী হয়। যাঁদের উপায় নেই, তাঁরা করোনা ভীতি সত্ত্বেও বেরোচ্ছেন। কিন্তু শখ-আহ্লাদ মেটাতে বেরোচ্ছেন খুব কম লোক। হোটেলগুলো খুললেও বোর্ডারের সংখ্যা খুব কম। রেস্তোরাঁতেও আগের চেয়ে খদ্দেরের সংখ্যা কম। তারা অনেকে নানারকম ছাড় দিয়ে লোক টানার চেষ্টায় আছে। একই অবস্থা শপিং মলে। বিক্রিবাটা কম। ফুড কোর্টেও অফিসযাত্রীদের ভিড় নেই।

অনেকে বলছেন, আগামী জুলাই মাসে দেশে করোনা সংক্রমণ ‘পিক’-এ পৌঁছবে। অর্থাৎ সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ ওই রোগে আক্রান্ত হবেন। একসময় বলা হয়েছিল মে মাসে ‘পিক’-এ পৌঁছবে। এখন আবার দু’মাস পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যাঁরা এই ধরনের ভবিষ্যৎবাণী করছেন, তাঁদের নিজেদের কাছে ছবিটা স্পষ্ট কিনা তা নিয়ে অনেকের সন্দেহ জাগছে।

অনেকে সাহস দেওয়ার জন্য বলছেন, আমাদের দেশে তো মৃত্যুহার খুব কম। অন্তত আমেরিকার মতো নয়। কথাটা সত্যি। কিন্তু তাও প্রতিদিন দেশে আড়াইশ-র ওপরে মানুষ মারা যাচ্ছেন করোনায়। এতগুলি মৃত্যুই বা হবে কেন? প্রতিটি জীবনই মূল্যবান।

ভ্যাকসিন নিয়েও নানা কথা শোনা যাচ্ছে। কেউ বলছে, ভয় নেই, শিগগির আসছে প্রতিষেধক। বিলেতের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভ্যাকসিন তৈরি হয়ে যাবে। কেউ বলছে ডিসেম্বরে বানিয়ে ফেলবে। কেউ বলছে, আগামী বছরের শুরুতে। এর মাঝে হু একবার বলেছিল, এমনও হতে পারে, ভ্যাকসিন আবিষ্কার হলই না। কত ভাইরাসেরই তো ভ্যাকসিন নেই। করোনারও যে থাকবে, তার কোনও গ্যারান্টি আছে কি?

এই সব পরস্পরবিরোধী তথ্যে বিভ্রান্তি বাড়ছে। অতিমহামারীর মতো পরিস্থিতিতে হয়তো কিছু বিভ্রান্তি ছড়ানো স্বাভাবিক। তবে একটা কথা বোধহয় ইতিমধ্যেই স্পষ্ট। আরও অনেকদিন করোনা থাকবে আমাদের সঙ্গে। ভাইরাসকে সঙ্গে নিয়েই আস্তে আস্তে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হবে সবাইকে। তাই নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধি মেনে চলতে হবে কঠোরভাবে।

আপাতত প্যানডেমিক থেকে বাঁচতে হাতিয়ার তিনটি। সামাজিক দূরত্ব, মাস্ক আর স্যানিটাইজার। এই তিনটি হাতিয়ারের যথাযথ ব্যবহার হওয়া জরুরি। গত কয়েকদিনে অফিস টাইমে দু’-একটি বাসে অতিরিক্ত যাত্রী দেখা গিয়েছে। অনেকে হয়তো সময়ে অফিসে পৌঁছানোর জন্য সামাজিক দূরত্বের তোয়াক্কা না রেখেই উঠে পড়েছেন বাসে।

এমনটা যাতে না হয়, সেজন্য সরকার বাড়তি বাসের ব্যবস্থা করছে। নাগরিকদেরও উচিত সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More