আমরা ভাইরাস তৈরি করিনি, বিশ্বে ছড়াইনি, মন্তব্য চিনা দূতাবাসের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো : বেশ কিছুদিন ধরেই নানা মহলে ধারণা ছড়িয়ে পড়েছে, চিন জীবাণুযুদ্ধের জন্য নভেল করোনাভাইরাস বানিয়েছিল। কোনওভাবে তা বাইরে বেরিয়ে এসেছে। বুধবার ভারতে চিনা দূতাবাস থেকে এই ধারণার তীব্র প্রতিবাদ করা হল। দূতাবাসের মুখপাত্র জি রং বলেন, ‘চাইনিজ ভাইরাস’ বা ‘উহান ভাইরাস’ কথাগুলো কেউ যেন না বলে। চিনকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। বরং আমরা যেভাবে দ্রুত মহামারী নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিয়েছি, তা থেকে শিক্ষা নিক সারা বিশ্ব।

    করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ভারত ও চিনের সহযোগিতার ওপরে জোর দেন জি রং। তিনি বলেন, দুই দেশই অতিমহামারী রোধে পরস্পরের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা সকলেই এখন কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। ভারত আমাদের দেশে চিকিৎসার সরঞ্জাম পাঠিয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে আরও নানাভাবে সাহায্য করেছে।

    চিনা দূতাবাসের মুখপাত্র বলেন, হু ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, উহানে বা চিনের অন্য কোনও জায়গা থেকে করোনাভাইরাসের উৎপত্তি হয়নি। এসম্পর্কে অনেকের ভুল ধারণা আছে। নভেল করোনাভাইরাসের উৎপত্তি কীভাবে হল, তা নিয়ে গবেষণা হওয়া দরকার।

    গত ডিসেম্বরে শোনা যায়, উহানে সি ফুডের বাজার থেকেই প্রথমে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছিল। জি রং বলেন, চিন ওই ভাইরাস তৈরি করেনি। বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়েও দেয়নি। যাঁরা ‘চাইনিজ ভাইরাস’-এরে কথা বলছেন, তাঁরা ঠিক বলছেন না।

    মার্চের শুরুতে মার্কিন বিদেশ সচিব মাইক পম্পিও কোভিড-১৯ কে ‘উহান ভাইরাস’ বলেছিলেন। তখনই চিন থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়, পম্পিও একটা দেশের বদনাম করছেন। এরপরে হু বলেছে, কোনও নির্দিষ্ট দেশ, অঞ্চল অথবা জনগোষ্ঠীর মধ্যে থেকে একটি ভাইরাসের উৎপত্তি হতে পারে না।

    কয়েক দিন আগে বেজিংয়ের তরফে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একটা বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে অংশ নেয় নয়াদিল্লিও। এই ভিডিও বার্তাতেই চিনা বিশেষজ্ঞরা করোনা মোকাবিলায় নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। এই বৈঠকে ভারত, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, নেপাল, পাকিস্তান, মলদ্বীপ ও বাংলাদেশের প্রায় ২০০০ আধিকারিক অংশ নিয়েছিলেন। সেখানেও ভারতের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিল চিন।

    করোনার সংক্রমণ প্রথম মহামারী হয়ে চিনে। হুবেই প্রদেশে শুরু হয় মৃত্যুমিছিল। ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে চিনের মূল ভূখণ্ডে। তবে সেই সঙ্কট একটু একটু করে কাটিয়ে উঠেছে চিন। নতুন করে সংক্রামিতের সংখ্যা হাতে গোনা। চিনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশন জানিয়েছে, ‘লোকাল ট্রান্সমিশন’ কমেছে হুবেই প্রদেশে। হাসপাতাল-নার্সিংহোমগুলির আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভিড় কমেছে রোগীদের। দীর্ঘদিনের ক্লান্তি কাটিয়ে বাড়ি ফিরছেন স্বাস্থ্যকর্মী ও বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ ট্রাভেল অ্যাডভাইসারি জারি করে হুবেই প্রদেশে যাতাযাতে যে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল, সোমবারের পর থেকেই সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে সরকার। চিনের মূল ভূখণ্ডের একাধিক প্রদেশেও নিষেধাজ্ঞার রাশ আলগা হয়েছে। চিনে এখনও পর্যন্ত ভাইরাসের সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৩,২৭৭ জনের। সংক্রামিত ৮১,১৭১ জন। নতুন করে কোভিড-১৯ পজিটিভ পাওয়া গেছে ৭৮ জনের শরীরে। তাও তাঁদের মধ্যে অনেকেরই সেরে ওঠার সম্ভাবনা আছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More