সোমবার, নভেম্বর ১৮

জগদ্ধাত্রীপুজোর উদ্বোধনেও নাম না করে মমতার নিশানায় বিজেপি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছিল জগদ্ধাত্রীপুজোর উদ্বোধন। আর সেই মঞ্চেই কাশ্মীর, এনআরসি, অর্থনীতি টেনে নাম না করে বিজেপিকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়া।

বৃহস্পতিবার পোস্তায় বড়বাজার মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের জগদ্ধাত্রীপুজোর উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এরপরই তাঁর বক্তৃতায় চলে আসে কাশ্মীরের কুলগামে জঙ্গিদের নির্বিচার গুলিতে পাঁচ বাঙালি শ্রমিকের মৃত্যুর প্রসঙ্গ। মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির বহাল গ্রামের পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, “যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁরা কেউ বাঙালি নন। তাঁরা সবাই শ্রমিক।” এদিন নাম না করে সেই মন্তব্যকেই তুলোধনা করেন মমতা।

তৃণমূলনেত্রী বলেন, “কেউ কেউ বলছেন, ওঁরা বাঙালি নন, শ্রমিক। বাংলার লোকেদের বাঙালি বলব না?” তাঁর কথায়, “এ রাজ্যে তো বিহারের লোক আছেন, রাজস্থানের লোক আছেন, গুজরাতের লোক আছেন। তাঁরা তো এখানে নিরাপদেই আছেন। বাংলার লোক বাইরে কাজ করতে গেলে তাঁরা বহিরাগত? কী করে হয়? তাঁরা তো ভারতীয়।”

 

গোটা বক্তৃতায় একবারের জন্যও বিজেপির নাম মুখে আনেননি মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু বুঝতে অসুবিধে হয়নি তির কোনদিকে। তিনি বলেন, “এখন অনেকে ভাগাভাগি করতে চাইছেন। বাঙালি-বিহারি, গুজরাতি-মারাঠিদের মধ্যে আগুন জ্বালাতে চাইছেন। আমরা এটা হতে দেব না। ছাতু খেলে বলব খাবেন না? লিট্টি চাপাটি খেলে বারন করব? এটা আমাদের অধিকার নেই।”

জাতীয় নাগরিক পঞ্জীকরণ তথা এনআরসি নিয়েও এদিন তো দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “কখনও গুজরাট থেকে বিহারি তাড়াচ্ছে, কখনও অসম থেকে বাঙালিদের তাড়াচ্ছে। এগুলো ঠিক হচ্ছে না।” সব মিলিয়ে পুজো উদ্বোধনের মঞ্চ হয়ে ওঠে পুরোদস্তুর রাজনৈতিক।

যদিও বিজেপি নেতারা এদিন রাত পর্যন্ত দলগত ভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। তবে গেরুয়া শিবিরের অনেক নেতাই ঘরোয়া আলোচনায় বলছেন, পুজো উদ্বোধনের মঞ্চেও যখন মুখ্যমন্ত্রীকে এসব কথা বলতে হচ্ছে, তখন বুঝতে হবে শাসকদলের গোড়াতেই ধাক্কা লেগেছে। আর উৎসবের মঞ্চকে রাজনীতির মঞ্চ বানানোকেও বাংলার মানুষ ভাল ভাবে নেবে না।

Comments are closed.