রায় দেখে মুগ্ধ, অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণে ৫১ হাজার টাকা দিচ্ছেন মুসলিম নেতা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: বহু দশক ধরে চলা অযোধ্যা মামলার রায় দেখে তিনি মুগ্ধ। এর চেয়ে ভাল কিছু নাকি হতেই পারত না। সেই খুশিতেই অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের জন্য ৫১,০০০ টাকা দেবেন বলে ঘোষণা করলেন উত্তরপ্রদেশে শিয়া সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান ওয়াসিম রিজমি। তিনি বলেছেন, রামমন্দির নির্মাণকে সমর্থন করছে বোর্ড।

    অযোধ্যার বিতর্কিত জমি মামলার সর্বসম্মত রায়ে বলা রয়েছে, ২.৭৭ একর জমিটিতে মন্দির গড়া হবে এবং অযোধ্যায় কোথাও পাঁচ একর জমি সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে দিতে হবে মসজিদ গড়ার জন্য।

    রিজমি বলেন, “এখন রামের জন্মভূমিতে মন্দির গড়ার তোড়জোড় চলছে। যেহেতু শ্রীরামচন্দ্র আমাদের সকলেরই পূর্বপুরুষ, মুসলমানদেরও, তাই ‘ওয়াসিম রিজভি ফিল্মস’-এর পক্ষ থেকে মন্দির গড়ার জন ৫১,০০০ টাকা দেওয়া হচ্ছে রাম জন্মভূমি ন্যাসকে।” তিনি জানান, যখনই মন্দির গড়া হবে, তখনই শিয়া ওয়াকফ বোর্ড সহায়তা করবে। তিনি বলেন, শুধু ভারত নয়, সারা বিশ্বের রামভক্তদের কাছে অযোধ্যায় রামের মন্দির একটা আলাদা ব্যাপার।

    সহজ কথায় অযোধ্যা মামলার রায় হল – অযোধ্যায় বিতর্কিত ২.৭৭ একর জমিতে রামমন্দিরই হবে, তবে অযোধ্যাতেই পাঁচ একর জমি সরকারকে দিতে হবে মসজিদ গড়ার জন্য।

    রায় ঘোষণার আগে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের তথ্যপ্রমাণের কথা বিশদে তুলে ধরেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। তিনি বলেন, পুরাতত্ত্ব বিভাগ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, অযোধ্যায় মসজিদ খালি জমির উপর নির্মিত হয়নি। তার আগে একটি দ্বাদশ শতকের কাঠামো সেখানে ছিল। তবে সেই কাঠামো ভেঙে মসজিদ গড়া হয়েছিল কিনা তা স্পষ্ট নয়।

    প্রধান বিচারপতি এও বলেন, সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড জমির মালিকানা চেয়ে যে যুক্তি দিয়েছিল তার কোনও ভিত্তি পাওয়া যায়নি। মসজিদটি বাবরই বানিয়েছিলেন কিনা, তাও স্পষ্ট নয়।

    আইনজ্ঞদের মতে, পুরাতত্ত্ব বিভাগের মতকেই প্রাধান্য দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। সেই সঙ্গে এমন ভাবে ভারসাম্য রেখে রায় দিতে চেয়েছে যাতে দুই সম্প্রদায়ের ভাবাবেগকেই মর্যাদা দেওয়া যায়। তাই এই রায়কে সেরা রায় বলছেন উত্তরপ্রদেশে শিয়া সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যানও।

    সুপ্রিম কোর্টের রায়ে মোটামুটি ভাবে সব পক্ষই খুশি, যদিও বিচ্ছিন্ন ভাবে বিরোধী মতও শোনা যাচ্ছে। তবে এই রায়ের ফলে দেশে কোনও রকম সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা দেখা যায়নি। মোটামুটি ভাবে সব পক্ষই সংযত ছিল।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More