বুধবার, মার্চ ২০

ঘোড়া কাহিনী

এও এক ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’। ভারত নির্মাণ। অনেক ভাষণ, আস্ফালন, হম্বিতম্বি সত্ত্বেও ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পের যে হালই হোক না কেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিব্যি ম্যানুফ্যাকচার করা যায়। কিংবা ম্যানুফ্যাকচারিং-এর চেষ্টা তো করা যায় প্রকাশ্যে, নির্লজ্জের মতো। শেষ পর্যন্ত শিকে ছিঁড়ুক বা নাই ছিঁড়ুক।

সে দিন একটি সর্বভারতীয় খবরের কাগজ যে শিরোনাম করেছে, তার মর্মার্থ, সাতটি ঘোড়ার সন্ধানে ইয়েদুরাপ্পা। শনিবাসরীয় অপরাহ্নে সেই দ্রাবিড় ঘোড়াদের রঙ্গমঞ্চ থেকে বেপাত্তা করে দিতে পারবেন কিনা সেটা বড় কথা নয়, কিন্তু কত সহজে আমরা মেনে নিয়েছি যে এই চেষ্টা চলছে। হারদানহাললি দেবগৌড়া কুমারস্বামী তাই নির্দ্বিধায় বলেন, বাজুভাইয়ের প্রশ্রয়ে মোদীভাইয়ের দলের ম্যানেজাররা টাকার পাহাড়প্রমাণ বস্তা নিয়ে মাঠে নেমে পড়ে তাঁর দলের সদ্য জিতে আসা রত্নদের নাকি মাথাপিছু একশ কোটি করে নজরানা দিতে চাইছেন।

বিভিন্ন গোত্র, বর্ণ, প্রতীক ও মতাদর্শের এই ম্যানেজাররা তো বরাবরই সময়কালে সক্রিয় হয়ে ওঠেন এ ভাবেই। প্রাক নোটবন্দি যুগেও ঘুরেছেন, নোটবন্দি পরবর্তী কালেও ঘুরছেন। যখনই এঁরা সক্রিয় হন, তখন এক দল চুপ থাকেন। যেমন নরেন্দ্র-অমিত জুটির মুখে একটি কথাও নেই। ঘাপটি মেরে আছেন এতটাই যে গায়ে সবুজ আলোয়ান চাপিয়ে ইয়েদি খুড়ো শপথ নিলেন তাঁদের অনুপস্থিতিতেই।

আর অন্য দল ভাষণ দিতে শুরু করেন। যেমন রাজীব-তনয় এখন করছেন। দেশটা পাকিস্তান হয়ে গেল বলে বিলাপ করছেন। গেল গেল রব তুলে টুইট যুদ্ধও কম হচ্ছে না।

যেন আগে কখনো হয়নি। অবাধ্য চঞ্চল শিশুদের ঘরে বন্ধ করে রাখার মতো জনপ্রতিনিধি নামক মহার্ঘ বস্ত্তদের বাসবন্দি করে নিয়ে গিয়ে রিসর্ট বন্দি করে রেখে পাহারা দিতে আগে কখনো হয়নি!

এর জন্যই তো জনগণ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তাঁর অধিকার প্রয়োগ করেন! পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম গণতন্ত্রের নাগরিক হওয়ার বড়াই করেন!

আসলে এই লাইনে দাঁড়ানো আমরা, আমজনতা সত্যি খুব বেশি সরল। শিশুর মতো সরল। নোটবন্দির পর ঘন্টার পর ঘণ্টা ব্যাঙ্ক বা এটিএম এর সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে আমরা আলোচনা করেছিলাম না, সব ব্যাটা কালোবাজারি, কালো টাকার মালিক এ বার বুঝবে কত ধানে কত চাল! শুকিয়ে মরবে ওই বদমাইশগুলো।

সত্যিই তো, দেশ থেকে কালো টাকা নিঃশেষ হয়ে দেশটা একদম ফর্সা হয়ে গেছে!

জয় গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের জয়!!!

Shares

Leave A Reply