বৃহস্পতিবার, জুন ২৭

মতের আমি, মতের তুমি

এই তো ক’দিন আগের কথা। এই মাসের গোড়ায়, তিন তারিখ ছিল সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা উদযাপনের আন্তর্জাতিক দিন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদী বললেন, এই দিনটি খুব মহান! সংবাদমাধ্যম গণতন্ত্রের স্তম্ভ এবং সংবাদমাধ্যমের প্রকৃত স্বাধীনতা গণতন্ত্রের ভিতকে আরও মজবুত করে। এক রকম আশ্বাস দিলেন, ভিত শক্ত করার জন্য ভীত হবেন না সাংবাদিক ও সম্পাদক বন্ধুগন। আপনারা আপনার কলম, থুড়ি, কম্পিউটারকে আরও শানিত করুন।

সংবাদমাধ্যমে সেই ভাল ভাল কথা প্রচারিত হল। সবিস্তারে ও সসম্ভ্রমে। হবে না-ই বা কেন। হওয়ারই তো কথা।
মোটামুটি তিন সপ্তাহ কাল অতিবাহিত হওয়ার পরে আবার ভাল কথা বেশ ঢাক পিটিয়েই বলার সুযোগ পেলেন নারেন্দ্রাভাই। ঐতিহাসিক ইউফোরিয়ার আবহে গুজরাট ছেড়ে তাঁর সেই দিল্লির মসনদে বসার চার বছর পূর্তি বলে কথা! কী বললেন তিনি? তাঁর সরকারকে জনপথ চালায় না (পড়ুন ১০ জনপথ), চালায় নাকি জনমত। অর্থাৎ গণতন্ত্র। অর্থাৎ মানুষের মত প্রকাশের অধিকারই তাঁর সরকারের চালিকা শক্তি।

তা হলে কী দাঁড়াল? মানুষ স্বাধীন। তাঁদের মত স্বাধীন। তাঁদের চিন্তা স্বাধীন। খবরের কাগজ স্বাধীন। চ্যানেল স্বাধীন। ডিজিটাল নিউজ় পোর্টাল স্বাধীন। এক কথায় ‘ভারত আমার ভারতবর্ষ’ তাঁর জমানায় সুর-তাল-লয়-রূপ-রস-বর্ণ-গন্ধ শোভিত শুন্ডি রাজ্য।

কিন্তু এত অভয়বাণী সত্ত্বেও নিন্দুকের ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি লেগে আছে কেন? এবং সেই সংখ্যাটাই বা ক্রমবর্ধমান কেন? যে তরুণ সমাজ এত আস্থা রেখেছিল চার বছর আগে, তারা বেসুরো কেন?

এবং এই বাঁকা হাসিই ব্যাখ্যা করবে একটা দুষ্ট চক্রের চেহারা। যত যুব সমাজের মনে সংশয়ের মেঘ সঞ্চার হচ্ছে, তত দরকার নিয়ন্ত্রণ, সে যে কায়দাতেই হোক না কেন, এবং যত এই নিয়ন্ত্রণ হবে ততই সেই সংশয়ী মন তার আস্থার জায়গা থেকে দূরে ঠেলে সরিয়ে দেবে আপস করা সংবাদমাধ্যম ও তার নিয়ন্ত্রক দু’জনকেই।
সম্প্রতি কোবরাপোস্ট যা সামনে এনেছে, তা বিশ্বাসযোগ্য নাকি বানানো, সেই বিতর্ক অবান্তর। কারণ হিন্দুত্বকে ‘পুশ’ করার জন্য বিপুল টাকার টোপ ও অনেক ক্ষেত্রেই তা গিলে নেওয়ার এই কাহিনি এতটুকু অবাক না হয়ে বিশ্বাস করার সংখ্যাটা বড় কম হবে না কিন্তু।

এ দেশের রাজনীতিকরা কথায় কথায় দাবি করেন, আমরা পাকিস্তানের থেকে সুপিরিয়র, কেন না আমাদের গণতন্ত্র আছে। স্বাধীনতা আছে। মত প্রকাশের আবহ আছে।
কিন্তু সত্যি বলতে কি, বিরুদ্ধ মত প্রকাশের পরিসর কতটুকু? বাঁশি একটু বেসুরো বাজলেই তো বন্ধু বিগড়ে যায়!

তাতে অবশ্য এক নরেন্দ্রকে দোষী সাজিয়ে লাভ নেই। তাঁর ভাই-বোনেদের কথাও মাথায় রাখুন!

Leave A Reply