মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৫

শ্বেতী কখনওই ছোঁয়াচে নয়, এ নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই

শ্বেতী হয়েছে বললেই একটা ভীষণ আতঙ্ক নিয়ে এখনও অনেকে চেয়ে থাকেন।  সারা জীবন এই বোঝা বয়ে বেড়াতে হবে ভেবে তিনি নিজে যত না কষ্ট পান, তার চেয়ে বেশি কষ্ট পান তাঁর আশপাশের মানুষরা।  কারণ এখনও শ্বেতী মানে একটা লজ্জাকর চিহ্ণ।  কেন হঠাৎ চামড়া সাদা হতে থাকেকেনই বা সমস্যা বাড়তে থাকেআদৌ চিকিৎসায় সারেএমন নানা প্রশ্ন আমাদের মনে থাকে।  আর সবচেয়ে বেশি থাকে, শ্বেতী ছোঁয়াচে কি না, সেই সংশয়।  এই সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন বিশিষ্ট ডার্মাটোলজিস্ট দীনেশ হাভেলিয়া।  জানুন কী বললেন ডাক্তারবাবু….

দ্য ওয়ালশ্বেতী কী? কেন হয়?
ডাঃ হাভেলিয়া সাধারণত স্কিনে একটা বা দুটো জায়গায় সাদা দাগ দেখতে পাওয়া যায়।  দুধ সাদা একটা দাগ থাকে।  কুষ্ঠ এবং শ্বেতীর মধ্যে তফাৎ আছে।  শ্বেতী হয় যেখানে, সেখানে কিন্তু নার্ভগুলো কাজ করে না বা বোধ থাকে না, তা নয়।  কুষ্ঠতে তাই হয়।

ত্বকে মেলানোসাইট কোষে মেলানিন থাকেত্বকের স্বাভাবিক রঙের ভারসাম্য রক্ষা করে মেলানিন।  মেলানিনের ভারসাম্য নষ্ট হলে শ্বেতী হয়।  মেলানিন আমাদের দেহে রঙ তৈরি করে।  আমাদের রঙ যে কালচে হয়, এটা তৈরি করার জন্য শরীরে মেলানোসাইট নামে একটি কোষ আছেশ্বেতী হলে যে কোষগুলো ধ্বংস হয়ে যায়।  তাই জায়গাটা সাদা হতে থাকে।  শ্বেতী জিনঘটিত কারণে হতে পারে, আবার হতে পারে বংশগতভাবেও।

দ্য ওয়াল
নির্দিষ্ট কোনও বয়স আছে, না যে কোনও কারও হতে পারে?
ডাঃ হাভেলিয়া সাধারণত ২০ থেকে ৩০ নাগাদ প্রকট হয়।  তবে, সেই অর্থে এই রোগের আলাদা করে কোনও বয়স নেই।  যে কোনও বয়সেই এই রোগ দেখা দিতে পারে।

দ্য ওয়াল
লক্ষণগুলো কী কী?
ডাঃ হাভেলিয়া 
স্কিনে সাদা দাগ দেখলেই শ্বেতী হবে এমনটা না।  অনেকের সূর্যের আলোর কারণে, তাপের কারণে স্কিনে সাদা দাগ পড়ে।  আবার অনেকের লিভারের সমস্যায় সাদা দাগ হয়।  কিন্তু দুধ সাদা দাগ হল শ্বেতী।  ডাক্তারের কাছে না গেলে বুঝতে পারবেন না কেউ, কোনটা শ্বেতী, কোনটা নয়।

দ্য ওয়াল
: এর কোনও প্রতিরোধ সম্ভব কি?
ডাঃ হাভেলিয়া আলাদা করে কোনও প্রতিরোধের বিষয় নেই।  এটা তো মেলানিনের সমস্যা।  তবে অনেক সময় কোনও কসমেটিক্স বা হেয়ার ডাই, শাবান, শ্যাম্পু থেকে কেমিক্যাল লিউকোডার্মার সমস্যা হতে পারে।  সেক্ষেত্রে ডাক্তারের সাথে কথা বলে সেটা নিয়ে সচেতন হতে হবে।  সেগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে।

দ্য ওয়াল
: অনেকের ধারণা এটা ছোঁয়াচে অসুখ।  সত্যিই কি তাই?
ডাঃ হাভেলিয়া একেবারেই ছোঁয়াচে অসুখ নয় এটা।  এমনকি যে জায়গায় শ্বেতী হচ্ছে, সেখানে আপনি হাত দিলেন, ডিরেক্ট বডি কন্ট্যাক্ট হল, তাতেও সমস্যা নেই কোনও।  অনেকের এই বিশ্বাস রয়েছে যে, এটা ছোঁয়াচে।  তাঁরা ভয় পাবেন না একেবারেই।

দ্য ওয়াল: প্রথমে কিছুটা জায়গায় হল, তারপরে অনেকটা জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায় শ্বেতী।  এটার কোনও বিশেষ কারণ আছে কি?
ডাঃ হাভেলিয়া যেহেতু এই রোগের ক্ষেত্রে আমরা বলি হাইলি আনপ্রেডিক্টেবল ডিজ়িজ়, তাই সেভাবে কোনও ব্যখ্যা নেই এর।  অনেকের একটা দুটো প্যাচ নিয়েই সারা জীবন কেটে যায়।  আবার অনেকের সেটা বাড়তে থাকে।  তবে চিকিৎসার ক্ষেত্রে দেখা যায়, শরীরের যে সব জায়গায় চুল এবং লোম রয়েছে সেখানে এই রোগ বেশি দিন কব্জা করে থাকতে পারে না।  তবে উল্টোক্ষেত্রে সমস্যা বেশি থাকে।  তাই হাতের পাতা, কনুই, ঠোঁটে শ্বেতী হলে সেটা সারানো বেশ কঠিন হয় এবং বাড়তেও পারে।  কিন্তু অন্য যে সব জায়গায় চুল এবং লোম রয়েছে, সেখানে ওষুধে আয়ত্তে আনা যায় একে।  কারন মেলানোসাইট চুল বা লোমের মধ্যে থেকে এসে শ্বেতী সারাতে বা আয়ত্তে রাখতে সাহায্য করে।

শুনুন আরও কী বললেন ডাক্তারবাবু…

দ্য ওয়াল: কোনও ওষুধে কি সারানো যায় শ্বেতী?
ডাঃ হাভেলিয়া 
ছোট আকৃতির শ্বেতী হলে ওষুধে সেরে যেতে পারে।  চিকিত্‍সকের পরামর্শ অনুযায়ী মলম লাগানো বা ওষুধ খেলে, পাশাপাশি সকালবেলার রোদ সে সব জায়গায় লাগালে শ্বেতী সেরে যায় অনেকটাই।  বেশি জায়গা জুড়ে শ্বেতী হলে, মলম আর ওষুধে কাজ হতে প্রায় এক-দু’বছরও লাগতে পারে।

দ্য ওয়াল
: ওষুধে সারানো না গেলে অস্ত্রোপচার করতে হয় কিসেই পদ্ধতি ঠিক কী?
ডাঃ হাভেলিয়া ওষুধে কাজ না হলেঅস্ত্রোপচার পর্ব।  তবে, এক্ষেত্রে অপারেশনের আগে দেখে নিতে হয় রোগ যাতে এক বছরে একটুও না বাড়ে।  অর্থাৎ এক বছর ধরে চিকিৎসকরা রোগীকে ভালো করে অবজ়ার্ভ করেন।  সেখানে যাতে শ্বেতী আর না বাড়ে, সেটা খেয়াল রেখে পাঞ্চ গ্রাফটিং করা হয়।  যে ধরনের শ্বেতী বছর দুয়েক মোটামুটি একই জায়গায় রয়েছে কিন্তু ছড়ায়নি, সেই শ্বেতী সারিয়ে তুলতে পারে এই পাঞ্চ গ্রাফটিং।  এটা অনেকটা মেলানোসাইটের ট্রান্সপ্লান্টেশন বলা যেতে পারে।

দ্য ওয়াল
: নারী পুরুষ ভেদে কি এক্ষেত্রে কোনও আলাদা প্রভাব থাকে?
ডাঃ হাভেলিয়া না, একেবারেই নয়।  এই রোগ লিঙ্গভেদে হয় এমন নয়।

দ্য ওয়াল
: খাওয়া দাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বিধি নিষেধ থাকে কি?
ডাঃ হাভেলিয়া না, থাকে না।  কোনও বিধি নিষেধ নেই।  এটা একেবারেই চামড়ার সমস্যা।  তাই এটা খাবে না, ওটা ছোঁবে না, এগুলো ভুল বিশ্বাস।

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মধুরিমা রায়

Comments are closed.