মঙ্গলবার, মার্চ ২৬

আপনার বাচ্চার হাঁপানি কমাতে ভিটামিন ডি দিন বেশি করে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আপনার শিশু সঠিকমাত্রায় ভিটামিন-ডি না পেলে তার অ্যাজ়মা হতে পারে।  একটি পরীক্ষার পর এ কথাই জানাচ্ছেন মাউন্ট সিনাইয়ের আইকাহান স্কুল অফ মেডিসিনের সহকারী অধ্যাপক সোনালি বসু।  তাঁর মতে “হাঁপানি একটি ইমিউন মেডিয়েটেড রোগ”।  সহজ কথায় যার অর্থ, এটি এমন একটা রোগ যার সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা কঠিন।
গ্রীক শব্দ ‘Asthma’ থেকে বাংলায় হাঁপানি।  যার অর্থ হাঁপানো বা হাঁ করে শ্বাস নেওয়া।  সামান্য একটু ঠান্ডা লাগা থেকেই বেড়ে যেতে পারে অ্যাজ়মা বা হাঁপানি রোগ।  সাধারণত শরতের শেষ দিকে থেকে শুরু করে শীত আসার আগে আগেই ঠান্ডা লাগা শুরু হয়।  এ সময় ফ্লু ও অন্যান্য আবহাওয়াজনিত রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়।  মূলত আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণেই এইসব রোগ ছড়াতে থাকে এবং হাঁপানি বাড়িয়ে দেয়।
অ্যাজ়মা বা হাঁপানি হলে, শ্বাসনালির চারপাশের মাংসপেশি সংকুচিত হয়, ফলে শ্বাসনালি সরু হয়ে যায়।  শ্বাস কষ্ট হয় ।  শ্বাস নেওয়ার সময় সাঁ সাঁ শব্দ হয়, কাশি হয়, দম বন্ধ লাগে।  বিভিন্ন রোগজীবাণুর সংক্রমণে শ্বাসনালির ভেতরের স্তরে প্রদাহ হয় বা ফুলে ওঠে।  দূষিত বাতাস গ্রহণের ফলেও দিন দিন শিশুদের মধ্যে হাঁপানির প্রকোপ বেড়ে চলছে।
সোনালি বলছেন ” বৈজ্ঞানিক গবেষণা থেকে জানা যায় যে, ভিটামিন ডি একটি অণু, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এবং হাঁপানিকে প্রভাবিত করতে পারে”।  সোনালিদের টিম যে পরীক্ষা করেছে তাতে দেখা গেছে, যে সব বাড়িতে শিশুদের রক্তে ভিটামিন-ডি এর মাত্রা কম তাদের ইন্ফেকশন বেশি হচ্ছে।  বাড়িতে ধূপের ধোঁয়া , রান্নার ঝাঁঝ, বা মা বাবার ধূমপানের অভ্যাস তার অনেক বেশি ক্ষতি করছে।  অথচ বাকি শিশু যাদের রক্তে ভিটামিন ডি যথেষ্ট পরিমাণে রয়েছে, তাদের উপর এসবের অনেক কম প্রভাব পড়ছে।  তাদের হাঁপ ধরছে না সেভাবে।
বসু আরও বলছেন, মোটা বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সমস্যা অনেকটাই বেশি কাজ করে।  মোটা বাচ্চাদের ক্ষেত্রে তিনটে ফ্যাক্টরই একসাথে কাজ করে, অর্থাৎ স্থূলতা, ভিটামিন ডি এর অভাব এবং হাঁপানি।  তাই অনেকটাই মুশকিল হয়ে যায়।  সবার আগে বাচ্চাকে তাই মোটা থেকে রোগা করাটা খুব জরুরি।  এরপর তার রক্তে ভিটামিন ডি বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে।  তবেই সম্ভব বাচ্চার হাঁপানি কমানো।

জার্নাল অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ক্লিনিকাল ইমিউনোলজিতে বলা হয়েছে, গবেষকরা ১২০ জন বাচ্চার মধ্যে পরীক্ষা করে দেখেছেন, যাদের এক তৃতীয়াংশই মোটা বাচ্চা ছিল।  মূলত বাড়িতে দূষণের মাত্রা, রক্তে ভিটামিনের মাত্রা এবং স্থূলতা এই তিনটি কারণেই তাদের হাঁপানি দেখা যায়।
ভিটামিন ডি-কে দু’ভাগে ভাগ করা যায়।  ডি থ্রি এবং ডি টু।  ডি থ্রি শরীরেই তৈরি হয়।  আমাদের চামড়ার নীচে সেভেন ডি হাইড্রোকোলেস্টেরল থাকে।  সূর্যের আলোর আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি যদি আপনার চামড়ার নীচে পড়ে তাহলে এমনিতেই ভিটামিন ডি থ্রি তৈরি হয়।  তবে এই রোদ হতে হবে সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত।

ভিটামিন ডি ৮০ শতাংশ আসে সূর্যের আলো থেকে।  বাকি ২০ শতাংশ খাবারে পাওয়া যায়।  তবে এই খাবারগুলো আমাদের দেশে প্রচলিত না।  যেমন : সামুদ্রিক মাছ, কড মাছ, ম্যাকরেল, সার্ডিন।  এগুলো আমাদের দৈনন্দিন খাবারের মধ্যে পড়ে না।  সবার একটা ধারণা দুধের মধ্যে ভিটামিন ডি আছে।  আসলে দুধে ক্যালসিয়াম আছে।  ভিটামিন ডি-এর মাত্রা কম।  এমনকি বুকের দুধের মধ্যেও কম আছে।  এক বছর পর্যন্ত  বয়সে ৬০০ ইউনিট।  এক থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত ৬০০ থেকে ৭০০ ইউনিট।  আর যাদের বয়স ৭০-এর উপরে তাদের দেখা যায় ৭০০ ইউনিটের বেশি লাগছে।  শরীরে ভিটামিন ডি ইনটেসটাইন থেকে ক্যালসিয়াম শোষণ করার পাশাপাশি আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম এবং ফসফরাসকেও দ্রবীভূত করে।  এক সময় আমরা জানতাম ভিটামিন ডি-এর অভাব হলে শিশুদের রিকেট হয় অর্থাৎ দেহের হাড়গুলো ঠিক মতো বৃদ্ধি পায় না, নরম হয়ে যায়, শিশুর বৃদ্ধি হয় না, হাড় বাঁকা হয়ে যায়।  এখন আর শুধু হাড়ে থেমে নেই বিষয়টা।

অ্যাজ়মা সাধারণত বংশগত রোগ।  তবে আবহাওয়ার পরিবর্তন, বাড়িঘরের ধুলোবালি, উৎকট গন্ধ বা স্প্রে, সিগারেট বা অন্যান্য ধোঁয়া ইত্যাদি কারণে এই রোগ বাড়তে পারে।  অ্যাজ়মাকে কাবু করতে, অ্যাজ়মা আক্রান্ত শিশুর বাবা মা’র ধূমপান করা উচিত নয়।  অ্যাজ়মা সর্দি, কাশির মত ছোঁয়াচে রোগ নয়।  শিশুর অ্যাজ়মা হলেও মায়ের বুকের দুধ খেতে কোন বাঁধা নেই।  এই রোগ একজন থেকে অন্যজনে ছড়াবে না।  শিশুকে সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন এবং ধুলোবালি থেকে দূরে রাখুন।  শিশুকে পুরোনো কাপড় পরানো উচিত নয়।  কারণ পুরোনো কাপড়ে ধুলোবালি লেগে থাকে।  তাই শিশুকে সব সময় পরিষ্কার কাপড় পরানো উচিত।  শিশুকে সাধারণ ব্যায়াম করানোর অভ্যাস করান।  এছাড়াও বসু বলছেন, “রক্তের ভিটামিন ডি মাত্রা বাড়ানোর একটি উপায় হল সূর্যের আলোয় বেশি রাখতে হবে শিশুকে।  তবে শহুরে পরিবেশে সবসময়ে সম্ভব নয় সেটা, তা ছাড়াও ফ্যাটি মাছ, মাশরুম, রুটি, কমলার রস বা দুধের মতো খাবার থেকে পাওয়া যায় ভিটামিন-ডি। ” প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।  শিশুর অ্যাজ়মা হলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।  চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চললে এবং ঠিকমত চিকিৎসা করালে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

 

 

 

Shares

Comments are closed.