পাঁচ হাজার দলিত পুরোহিত, সঙ্ঘ পরিবারের উদ্যোগে সাফল্যের দাবি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের

পরিষদের দু'টি শাখা এই কাজ করে। দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় পূজানুষ্ঠানে পৌরহিত্যের কাজে আগ্রহীদের খুঁজে বের করে প্রশিক্ষণ দেয়। তার মধ্যে বৈদিক পুজো পদ্ধতি যেমন শেখানো হয়, তেমনই বিভিন্ন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের প্রশিক্ষণও চলে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সমাজের পিছিয়ে থাকা শ্রেণির মানুষদের গুরুত্ব দিতে বছর কয়েক আগেই এক উদ্যোগ নেয় সঙ্ঘ পরিবারের অন্যতম বড় সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। ঠিক হয় দলিত পরিবারের সন্তানদের পুরোহিতের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন মন্দিরে পুজো করার সুযোগও করে দেওয়া হবে। এবার সেই উদ্যোগের বড় সাফল্য দাবি করল পরিষদ। সংগঠনের দাবি, ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাঁচ হাজার দলিত মানুষকে পুরোহিতের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধু তামিলনাড়ুতেই দলিত পুরোহিতের সংখ্যা আড়াই হাজার বলে দাবি।

আরও পড়ুন

সেপ্টেম্বর থেকে চালু হতে পারে মেট্রো, স্কুল-কলেজ খুলছে না এখনই

সংবাদসংস্থা আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পরিষদের জাতীয় মুখপাত্র বিনোদ বনশল জানিয়েছেন, “আমরা দক্ষিণ ভারতে বড় সাফল্য পেয়েছি। এখন দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে বিরাট সংখ্যায় দলিত পুরোহিত রয়েছেন। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের উদ্যোগে শুধু তামিলনাড়ুতেই আড়াই হাজার দলিত মানুষকে পুরোহিতের কাজ করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। অন্ধ্ৰপ্রদেশেও এমন পুরোহিতের সংখ্যা অনেক। সব মিলিয়ে দেশে পাঁচ হাজার দলিত পুরোহিতকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সাফল্য অর্জন করেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।” তিনি আরও জানিয়েছেন, পরিষদের উদ্যোগে বিভিন্ন জায়গায় সরকার পরিচালিত মন্দিরে পৌরহিত্যের কাজও পেয়েছেন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দলিত পুরোহিতরা।

পরিষদের দু’টি শাখা এই কাজ করে। দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় পূজানুষ্ঠানে পৌরহিত্যের কাজে আগ্রহীদের খুঁজে বের করে প্রশিক্ষণ দেয়। তার মধ্যে বৈদিক পুজো পদ্ধতি যেমন শেখানো হয়, তেমনই বিভিন্ন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের প্রশিক্ষণও চলে। একবার প্রশিক্ষণ শেষ হয়ে গেলে সকলকে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। তবে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নয়, সার্টিফিকেট দেওয়া হয় তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানমের তরফে। তবে সার্টিফিকেট দেওয়ার আগে দেখে নেওয়া হয় ধর্মীয় বিধি মেনে তিনি সব রকম আচার পালনের যোগ্য পুরোহিত হয়ে উঠেছেন কিনা।

পরিষদের মুখপাত্র বিনোদ বনশল সংবাদসংস্থাকে আরও জানিয়েছেন, ১৯৬৪ সালে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ গঠনের পাঁচ বছর পর থেকেই দেশ থেকে জাতপাতের বৈষম্য এবং ছুৎ-অচ্ছুৎ প্রথা দূর করার কাজ শুরু করে সংগঠন। ১৯৬৯ সালে কর্নাটকের উদুপিতে পরিষদের যে সম্মেলন হয়েছিল সেখানেই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেখান থেকেই সন্তরা ঘোষণা করেছিলেন, সব হিন্দুই সমান। কেউ অচ্ছুৎ নয়।

বিনোদ বনশল জানিয়েছেন, ১৯৮৯ সালে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের উদ্যোগে যখন অযোধ্যায় রামজন্মভূমি মন্দিরের শিলান্যাস হয়, তখন পৌরহিত্য করেন দলিত সমাজের প্রতিনিধি কামেশ্বর চৌপাল। এছাড়াও ১৯৯৪ সালে বারাণসীতে যে ধর্ম সংসদ বসেছিল সেখানে যোগ দেওয়ার জন্য পরিষদের নেতারা বেশ কয়েকজন সন্তকে নিয়ে দলিত সমাজের নেতা বারাণসীর ‘ডোম রাজা’-কে বাড়িতে গিয়ে আমন্ত্রণ জানিয়ে এসেছিলেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More