করোনাভাইরাস: পরিসংখ্যান বলছে শিশুরা নিরাপদ, গবেষণা কিন্তু মোটেই বলছে না

এখনও অবধি এমন হয়নি, যে কোনও ভাইরাস বাচ্চাদের ছেড়ে দিচ্ছে। এমনটার কোনও বিজ্ঞানসম্মত বা গবেষণালব্ধ কারণ নেই। তাই সতর্ক থাকতেই হবে সক্কলকে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    তিয়াষ মুখোপাধ্যায়

    দেশজুড়ে একের পর এক সংখ্যা বাড়ছে করোনা আক্রান্তের। বাড়ছে মৃত্যুও। কলকাতা শহরও এড়াতে পারেনি করোনার ছোবল। প্রতিদিনই কোনও না কোনও রোগী ধরা পড়ছেন। গতকাল মারাও গেছেন একজন। এই অবস্থায় গোটা রাজ্য এবং দেশের বড় অংশ লকডাউন। অতি জরুরি পরিষেবা ছাড়া বেরোচ্ছেন না কেউ ঘর থেকে। এই অবস্থায় অনেকেরই দুশ্চিন্তা, বাচ্চাদের সুরক্ষিত রাখার জন্য ঠিক কী করা উচিত।

    চাইল্ড ইনস্টিটিউট অফ হেল্থ-এর চিকিৎসক সুমন পোদ্দার, শিশুদের সংক্রামক ব্যাধি নিয়ে কাজ করেন, তিনি নিজে একজন ভাইরোলজিস্ট। নিশ্চিত করলেন, শিশুরা করোনা থেকে নিরাপদ, এমনটা ভেবে নেওয়ার কোনও কারণ নেই। আবার একই সঙ্গে, পরিসংখ্যান বলছে শিশুদের উপর আক্রমণের সংখ্যা সারা বিশ্বজুড়েই উল্লেখযোগ্য রকমের কম।

    শুধু তাই নয়, আরও একটি আশার কথা শোনালেন ডাক্তারবাবু। তাঁর মতে, ভারতে অসুখ আক্রান্তের সংখ্যা যেভাবে বাড়তে শুরু করেছে, তা অবশ্যই উদ্বেগজনক। কিন্তু অন্য দেশের তুলনায় এই গ্রাফ এখনও অতটা চড়া নয়। অর্থাৎ সংখ্যাটা লাফিয়ে বাড়ছে না অতটা বেশি। তবে একইসঙ্গে এটাও ঠিক, এই ভাইরাস প্রতি নিয়ত বদলে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ফলে কখন কী ভাবে আক্রমণের অভিমুখ বদলে যাবে, তা আমরা কেউ জানি না।

    এ জন্য সরকার, প্রশাসন, স্বাস্থ্যকর্মীদের যতটা ধন্যবাদ প্রাপ্য, ততটাই কিন্তু সাধারণ মানুষেরও প্রাপ্য। তাঁদের একটা বড় অংশ সহায়তা করছে বলেই ভরসা করে সমস্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা সম্ভব হচ্ছে। নজরদারি রাখতে হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু এত বড় দেশে এত সহজে সব বন্ধ করে দেওয়া সহজ নয়। চেষ্টা চলছে, সাফল্যের আশা আমাদের করতেই হবে।

    দেখুন কী বলছেন ডাক্তারবাবু।

    ষাটের বেশি বয়সের মানুষদের মৃত্যুর হার অনেকটাই বেশি। কিন্তু ষাটের নীচে হলেই যে নিরাপদ, তা নয়। বিহারে ইতিমধ্যেই ৩৮ বছরের এক ব্যক্তি মারা গেছেন। তার চেয়েও বড় কথা, ষাটের নীচে কেউ থাকলে তিনি হয়তো নিজের প্রতিরোধ দিয়ে অসুখটা আটকাতে পারলেন, কিন্তু নিজের অজান্তেই বাহক হয়ে গেলেন অসুখের। তাই সমস্ত বয়সের প্রতিটা মানুষের জন্য হাত ধোয়া, স্যানিটাইজ় করা, সমস্ত পরিচ্ছন্নতা মেনে চলা জরুরি। বিদেশ থেকে এসে নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখার নিয়ম মানা আরও জরুরি ছিল আগেই।

    সুমনবাবুর বললেন, “এখনও অবধি এমন হয়নি, যে কোনও ভাইরাস বাচ্চাদের ছেড়ে দিচ্ছে। এমনটার কোনও বিজ্ঞানসম্মত বা গবেষণালব্ধ কারণ নেই। তাই সতর্ক থাকতেই হবে সক্কলকে। ঘরের বাইরে কোনও বয়সের কেউ বেরোবেন না অতি অতি প্রয়োজন ছাড়া। সরকারি সমস্ত বিধি মেনে চলবেন। স্টেজ টুয়ের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি আমরা। কোনও ভাবে আটকাতে পারলে, এড়ানো যাবে বড় বিপদ।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More